পিতৃপুরুষদের উদ্দেশে তর্পণ করার জন্য কর্ণও স্বর্গ থেকে নেমে এসেছিলেন মর্ত্যে

0

পিতৃপক্ষের শেষ দিন মহালয়ায় পিতৃপুরুষদের উদ্দেশে তর্পণ করে আপামর বাঙালি। বাঙালি ওই দিন পিতৃপুরুষদের উদ্দেশে জল, খাবার উৎসর্গ করে। বলা হয়, তর্পণে পিতৃপুরুষ সন্তুষ্ট হলে তর্পণকারীর ধন, মান, শান্তি, সম্পত্তি লাভ হয়।

মহাভারত অনুযায়ী, দাতাকর্ণকেও স্বর্গলোক থেকে মর্ত্যলোকে আসতে হয়েছিল পিতৃপুরুষদের উদ্দেশে তর্পণের কাজ সুসম্পন্ন করার জন্য।        

মৃত্যুর পর কর্ণ মর্ত্যলোক ছেড়ে পৌঁছোন স্বর্গে। সেখানে তাঁকে মণিমানিক্য, স্বর্ণ ইত্যাদি খেতে দেওয়া হয়। তিনি পড়েন বেজায় বিপদে। কিছুই খেতে পারেন না। তখন কর্ণ অপারগ হয়ে ইন্দ্রকে জিজ্ঞাসা করেন, কেন তাঁকে এই সমস্ত খেতে দেওয়া হচ্ছে।

এর উত্তরে ইন্দ্রদেব বলেন, তিনি সারা জীবন ধরে সবাইকে কেবল এই সমস্ত দ্রব্যই দান করে গিয়েছেন। কখনোই পিতৃগণের উদ্দেশে খাদ্যদান করেননি।

Shyamsundar

এর জবাবে কর্ণ বলেন, তিনি তো জানতেনই না তাঁর পিতৃপরিচয়। অবশেষে মাতা কুন্তী তাঁর জন্মের রহস্য প্রকাশ করেন। তা-ও যুদ্ধের আগের রাত্রে। ফলে পরের দিনই যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। তিনি ভায়েদের হাতেই প্রাণ হারান। ফলে পিতৃপুরুষদের জল-খাদ্য দান করার মতো সময় তিনি পাননি।

এর থেকে ইন্দ্রদেব বুঝতে পারেন এতে কর্ণের কোনো রকম দোষ ছিল না। তাই তিনি কর্ণকে পিতৃপুরুষদের জল-খাদ্য দান করার সুযোগ করে দেন। কর্ণকে ১৫ দিন অর্থাৎ এক পক্ষকালের জন্য মর্ত্য ফিরে যাওয়ার ও পিতৃপুরুষদের জল দেওয়ার নির্দেশ দেন।

আর সেই নির্দেশ পেয়ে কর্ণ আবার মর্ত্যে ফিরে আসেন পিতৃপুরুষদের জল ও খাদ্য দান করতে। তিনি জল অন্ন দান করে পাপস্খালন করে আবার স্বর্গে ফিরে যান। পুরাণ অনুযায়ী যে পক্ষকাল কর্ণ মর্ত্যে অন্নজল দান করার জন্য ছিলেন তাকে বলা হয় পিতৃপক্ষ। এই ঘটনাই তর্পণ।

আরও পড়তে পারেন

‘মহালয়া’ মানেই দুর্গাপুজো, ‘মহালয়া’ মানেই তর্পণ, জেনে নিন আরও কিছু তথ্য

দেখে নিন এ বছরের মহালয়ার দিনক্ষণ

‘শুভ মহালয়া’ কি বলা যায়? নানা মুনির নানা মত

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন