আকাশবাণীতে মহিষাসুরমর্দিনী: আদত মন্ত্রণাদাতা প্রেমাঙ্কুর আতর্থী

0

তপন মল্লিক চৌধুরী

বিগত বিরাশি বছর ধরে মহালয়ার ভোরে বেতারে মহিষাসুরমর্দিনী শুনে মুগ্ধ বাঙালি অনুষ্ঠানটির জন্য মূলত বৈদ্যনাথ ভট্টাচার্য ওরফে বাণীকুমার, বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র এবং পঙ্কজকুমার মল্লিকের অবদান স্মরণ করে থাকেন। এমন একটি অনুষ্ঠান পরিকল্পনার জন্য ওই তিন জনকে উসকে ছিলেন বেতারের নিজস্ব পত্রিকা ‘বেতার জগৎ’-এর প্রথম সম্পাদক প্রেমাঙ্কুর আতর্থী ওরফে বুড়োদা।

আড্ডা দিতে দিতেই বুড়োদা বলেছিলেন, “রোজ রোজ গান, বাজনা, বক্তৃতা, নাটক, গল্পদাদুর আসর, মহিলা মজলিস – এ সব তো চলছেই। কিন্তু অন্য রকম একটা কিছু করে ধাক্কা দিতে হবে শ্রোতাদের।”

আরও পড়ুন: আকাশবাণীতে মহিষাসুরমর্দিনী: সে বার বীরেন্দ্রকৃষ্ণের জায়গায় স্তোত্রপাঠ করেন নাজির আহমদ

হাসতে হাসতে প্রোগ্রাম ডিরেক্টর নৃপেন্দ্রনাথ মজুমদার বলেছিলেন, “সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কয়েকটা লোক মিলে প্রোগ্রাম চালাচ্ছি। এর ওপর আবার নতুন ধাক্কা! পারব তো?”

বুড়োদা বাণীকুমারকে দেখিয়ে বলেছিলেন, “বাণী রয়েছে তো, ওই পারে কিছু বৈদিক শ্লোক জোগাড় করে গান লিখে ফেলতে। রাই (রাইচাঁদ বড়াল), পঙ্কজ সুর দিক। বীরেন শ্লোক আওড়াক! ভোরবেলায় লাগিয়ে দাও। লোকের ভালোই লাগবে।”

আড্ডায় এ সব কথা যখন হচ্ছে, তার একমাস বাদে দুর্গাপুজো। বীরেন ভদ্র বলেছিলেন, যদি পুজোকে মাথায় রেখে ভাব তবে চণ্ডীপাঠ যেন থাকে। বাণীকুমার ভাবতে বসে গেলেন। কিন্তু একটা ব্যাপারে দ্বিধা ছিল। কায়স্থ বীরেন্দ্রকৃষ্ণ চণ্ডীপাঠ করলে সবাই মেনে নেবেন তো? প্রোগ্রাম ডিরেক্টর নৃপেন মজুমদার বলেছিলেন, “করবে একটা প্রোগ্রাম, তার আবার বামুন কায়েত কী? আমরা কি হিন্দুর মন্দিরে গিয়ে পুজো করছি?

দিন-রাত এক করে বাণীকুমার লিখে ফেললেন একখানি গীতিআলেখ্য। ১৯৩২ সালে মহাষষ্ঠীর সকালে প্রথম সম্প্রচারিত হয় ওই অনুষ্ঠান ‘প্রত্যুষ প্রোগ্রাম’ শিরোনামে। পরের বছরও সম্প্রচারিত হল কিন্তু নাম পালটে করা হয় ‘প্রভাতী অনুষ্ঠান’। তার পরের বছরও অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করা হয় তবে মহালয়ার সকালে।

এর পর ১৯৩৬-এ মহালয়ার সকালে সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানটির নাম হয় ‘মহিষাসুর বধ’। তার পরের বছরও নাম বদলায়, তবে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ নামটি ১৯৩৭ থেকে স্থায়ী হয়।

প্রথম কয়েক বছর রাইচাঁদ বড়াল ও পঙ্কজকুমার মল্লিক যুগ্ম সংগীত পরিচালক ছিলেন। যদিও অধিকাংশ গান পঙ্কজকুমার মল্লিক সুরারোপিত কিন্তু ‘বিমানে বিমানে আলোকের গানে…’ সুর করেছিলেন পণ্ডিত হরিশ্চন্দ্র বালী, তেমনি ‘শান্তি দিলে ভরি…’  উস্তাদ সাগির খাঁ এবং ‘নিখিল আজি সকল ভোলে …’ গানে  সুর করেন রাইচাঁদ বড়াল। প্রসঙ্গত, ‘নিখিল আজি…’ গানটি বাদ পড়ে বহু আগেই। এ রকম অনেক গান, স্তোত্রও বাদ গিয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.