Connect with us

দুর্গা পার্বণ

আকাশবাণীতে মহিষাসুরমর্দিনী: আদত মন্ত্রণাদাতা প্রেমাঙ্কুর আতর্থী

তপন মল্লিক চৌধুরী

বিগত বিরাশি বছর ধরে মহালয়ার ভোরে বেতারে মহিষাসুরমর্দিনী শুনে মুগ্ধ বাঙালি অনুষ্ঠানটির জন্য মূলত বৈদ্যনাথ ভট্টাচার্য ওরফে বাণীকুমার, বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র এবং পঙ্কজকুমার মল্লিকের অবদান স্মরণ করে থাকেন। এমন একটি অনুষ্ঠান পরিকল্পনার জন্য ওই তিন জনকে উসকে ছিলেন বেতারের নিজস্ব পত্রিকা ‘বেতার জগৎ’-এর প্রথম সম্পাদক প্রেমাঙ্কুর আতর্থী ওরফে বুড়োদা।

আড্ডা দিতে দিতেই বুড়োদা বলেছিলেন, “রোজ রোজ গান, বাজনা, বক্তৃতা, নাটক, গল্পদাদুর আসর, মহিলা মজলিস – এ সব তো চলছেই। কিন্তু অন্য রকম একটা কিছু করে ধাক্কা দিতে হবে শ্রোতাদের।”

আরও পড়ুন: আকাশবাণীতে মহিষাসুরমর্দিনী: সে বার বীরেন্দ্রকৃষ্ণের জায়গায় স্তোত্রপাঠ করেন নাজির আহমদ

হাসতে হাসতে প্রোগ্রাম ডিরেক্টর নৃপেন্দ্রনাথ মজুমদার বলেছিলেন, “সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কয়েকটা লোক মিলে প্রোগ্রাম চালাচ্ছি। এর ওপর আবার নতুন ধাক্কা! পারব তো?”

বুড়োদা বাণীকুমারকে দেখিয়ে বলেছিলেন, “বাণী রয়েছে তো, ওই পারে কিছু বৈদিক শ্লোক জোগাড় করে গান লিখে ফেলতে। রাই (রাইচাঁদ বড়াল), পঙ্কজ সুর দিক। বীরেন শ্লোক আওড়াক! ভোরবেলায় লাগিয়ে দাও। লোকের ভালোই লাগবে।”

আড্ডায় এ সব কথা যখন হচ্ছে, তার একমাস বাদে দুর্গাপুজো। বীরেন ভদ্র বলেছিলেন, যদি পুজোকে মাথায় রেখে ভাব তবে চণ্ডীপাঠ যেন থাকে। বাণীকুমার ভাবতে বসে গেলেন। কিন্তু একটা ব্যাপারে দ্বিধা ছিল। কায়স্থ বীরেন্দ্রকৃষ্ণ চণ্ডীপাঠ করলে সবাই মেনে নেবেন তো? প্রোগ্রাম ডিরেক্টর নৃপেন মজুমদার বলেছিলেন, “করবে একটা প্রোগ্রাম, তার আবার বামুন কায়েত কী? আমরা কি হিন্দুর মন্দিরে গিয়ে পুজো করছি?

দিন-রাত এক করে বাণীকুমার লিখে ফেললেন একখানি গীতিআলেখ্য। ১৯৩২ সালে মহাষষ্ঠীর সকালে প্রথম সম্প্রচারিত হয় ওই অনুষ্ঠান ‘প্রত্যুষ প্রোগ্রাম’ শিরোনামে। পরের বছরও সম্প্রচারিত হল কিন্তু নাম পালটে করা হয় ‘প্রভাতী অনুষ্ঠান’। তার পরের বছরও অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করা হয় তবে মহালয়ার সকালে।

এর পর ১৯৩৬-এ মহালয়ার সকালে সম্প্রচারিত অনুষ্ঠানটির নাম হয় ‘মহিষাসুর বধ’। তার পরের বছরও নাম বদলায়, তবে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’ নামটি ১৯৩৭ থেকে স্থায়ী হয়।

প্রথম কয়েক বছর রাইচাঁদ বড়াল ও পঙ্কজকুমার মল্লিক যুগ্ম সংগীত পরিচালক ছিলেন। যদিও অধিকাংশ গান পঙ্কজকুমার মল্লিক সুরারোপিত কিন্তু ‘বিমানে বিমানে আলোকের গানে…’ সুর করেছিলেন পণ্ডিত হরিশ্চন্দ্র বালী, তেমনি ‘শান্তি দিলে ভরি…’  উস্তাদ সাগির খাঁ এবং ‘নিখিল আজি সকল ভোলে …’ গানে  সুর করেন রাইচাঁদ বড়াল। প্রসঙ্গত, ‘নিখিল আজি…’ গানটি বাদ পড়ে বহু আগেই। এ রকম অনেক গান, স্তোত্রও বাদ গিয়েছে।

দুর্গা পার্বণ

আজও ভিয়েন বসিয়ে হরেক রকম মিষ্টি তৈরি হয় চুঁচড়ার আঢ্যবাড়ির দুর্গাপুজোয়

এই বাড়িতে দেবী শিবদুর্গা রূপে পূজিতা অর্থাৎ তিনি শিবক্রোড়ে অধিষ্ঠিতা এবং তাঁর দুই হাত।

শুভদীপ রায় চৌধুরী

শারদীয়া দুর্গাপুজোর প্রসঙ্গ এলেই আপামর মানুষের বেশি করে মনে পড়ে কলকাতার বনেদিবাড়ির পুজোর কথা। বনেদিবাড়ির পুজোয় নানা বৈচিত্র্য, নানা বৈশিষ্ট্য। কোথাও দেবী দশভুজা, কোথাও বা দ্বিভুজা। কোথাও তিনি মহিষাসুরদলনী আবার কোথাও শিবনন্দনী। এ ক্ষেত্রে বলা বাহুল্য যে শুধুমাত্র কলকাতাই নয়, কলকাতার বাইরেও বিভিন্ন জায়গায় দেবীর যে আরাধনা হয় বহু বছর ধরে, সেখানেও এমন নানা বৈচিত্র্য লক্ষণীয়।

অতীতে কৃত্তিবাসের রামায়ণে শ্রীরামচন্দ্র আয়োজিত অকালবোধনের যে বর্ণনা রয়েছে তাতে রয়েছে তিনি ১০৮ নীলপদ্ম নিবেদন করেছিলেন দেবীর পাদপদ্মে। আবার রাজা সুরথ মৃন্ময়ী প্রতিমা তৈরি করে পুজো করেছিলেন মহামায়ার। সুতরাং বলাই যায়, এই দুর্গাপুজোর সূচনা বা উৎপত্তি বহু বছর আগেই। সে যা-ই হোক, হুগলি জেলার চুঁচড়ায় আঢ্য পরিবারের সদস্যরা প্রায় ২৮০ বছর ধরে দেবীর পুজো করে আসছেন। চুঁচড়ার কামারপাড়ায় দেশবন্ধু স্কুল স্টপেজের কাছেই এই আঢ্যবাড়ি।

আঢ্যবাড়ির দুর্গাদালান।

আঢ্যবাড়ির কথা

কথা হচ্ছিল এই বাড়ির সপ্তমপুরুষ শংকর আঢ্য মহাশয়ের সঙ্গে। তাঁর কাছ থেকে এই বনেদি পরিবার সম্পর্কে অনেক কিছু জানা গেল। শংকরবাবু  জানালেন, আঢ্যবাড়ির পূর্বপুরুষরা আদিসপ্তগ্রাম থেকে এসেছিলেন চুঁচড়ায় এবং এখানে এসে বসতি স্থাপন করেন। এই আঢ্য পরিবার মূলত ব্যবসায়ী পরিবার হলেও এই পরিবারের যোগীন্দ্রলাল আঢ্য ওরফে জগু মাস্টার ছিলেন হুগলির স্টেশনমাস্টার। পরবর্তী কালে উচ্চারণ বিভ্রাটে জগু মাস্টার হয়ে যান যদু মাস্টার এবং লোকমুখে প্রচলিত ছড়াও সৃষ্টি হয় – ‘আইকম বাইকম তাড়াতাড়ি, যদু মাস্টার শ্বশুরবাড়ি…।’

এই আঢ্য পরিবারের প্রাণপুরুষ ছিলেন বদনচন্দ্র আঢ্য মহাশয়, যিনি হুগলির আঢ্যবাড়িতে দুর্গাপুজো শুরু করেন। বর্তমানে পরিবারের উত্তরসূরিরা নিষ্ঠা সহকারে পুজো করে আসছেন।

আঢ্যবাড়ির দুর্গাপুজোর সূচনা হয় রথযাত্রার দিন কাঠামোপুজোর মাধ্যমে। চুঁচড়ার আঢ্যবাড়ির মৃন্ময়ীকে যাঁরা রূপদান করেন তাঁরা বংশপরম্পরায় সেই কাজ করে চলেছেন। তাঁরা আঢ্যবাড়িতে এসে প্রতিমা গড়েন। শুধুমাত্র প্রতিমাশিল্পীই নন, এই বাড়ির পুজোর সঙ্গে যুক্ত পুরোহিত, ভিয়েনের ঠাকুররাও বংশপরম্পরায় কাজ করে আসছেন। তাঁরাও পুজোর সময় এই বাড়িতে চলে আসেন।

আঢ্যবাড়ির দুর্গাপুজো

আঢ্যবাড়িতে দেবী শিবদুর্গা রূপে পূজিতা অর্থাৎ তিনি শিবক্রোড়ে অধিষ্ঠিতা এবং তাঁর দুই হাত। এক হাতে তিনি বরদাত্রী এবং অপর হাতে তিনি অভয়দায়িনী রূপে বিরাজিতা। সঙ্গে রয়েছেন লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশ অর্থাৎ সপরিবার তিনি বিরাজ করেন আঢ্যবাড়ির পুজোর দালানে। এই বাড়ির বিগ্রহের সাজসজ্জা হয় শোলা ও রাংতা দিয়ে নির্মিত ডাকের সাজে এবং পারিবারিক প্রাচীন স্বর্ণালংকারে দেবীকে সাজিয়ে তোলা হয়।

পুজোর ভোগ।

এই বাড়িতে একটি রীতি এখনও পালন করা হয়। তা হল দুর্গাপুজোর সাত দিন আগে থেকে ভিয়েন বসে। সেখানে তৈরি হয় নানান রকমের মিষ্টান্ন, যেমন প্যারাকী, মিষ্টিগজা, নারকেল নাড়ু, মুগের নাড়ু, সুজির নাড়, বোঁদের নাড়ু ইত্যাদি।

আঢ্যবাড়িতে দেবীর বোধন শুরু হয় মহালয়ার পরের দিন অর্থাৎ প্রতিপদ তিথিতে। সেই দিন থেকেই বাড়িতে চণ্ডীপাঠ শুরু হয়, যে রীতি আজও অব্যহত রয়েছে। সপ্তমীর দিন সকালে কলাবউ স্নান হয় ষাণ্ডেশ্বর তলার ঘাটে, তার পর দেবীর পুজো শুরু হয়। সম্পূর্ণ বৈষ্ণবমতে পুজো হয় এই আঢ্যবাড়িতে। এখানে মন্ত্রে বলিদান হলেও কোনো দিন এই পরিবারে বলিদানপ্রথা ছিল না বলেই উল্লেখ করেন শঙ্করবাবু।

দুর্গাপুজোর মহাষ্টমীর দিন এই বাড়িতে এক মণ আতপচালের নৈবেদ্য দেওয়া হয়। তার সঙ্গে থাকে বিভিন্ন রকমের ফল, মিষ্টি ইত্যাদি। এই বাড়িতে অন্নভোগের রীতি না থাকলেও দেবীকে লুচি, রাধাবল্লভী দেওয়া হয়। সাথে থাকে নানান রকমের ভাজা, হালুয়া, ক্ষীর, জিবেগজা, পদ্ম নিমকি ইত্যাদি নানান রকমের পদ।

আঢ্যবাড়িতে কুমারীপুজো।

অতীতে দুর্গাপুজোর মহাষ্টমীর সন্ধিপূজার সময় বন্দুক দাগানো হত, বর্তমানে সেই প্রথা বন্ধ রয়েছে। আঢ্যবাড়িতে নবমীর দিন হয় কুমারীপুজো এবং হোম-যজ্ঞ।

দুর্গাপুজোর দশমীর দিন দর্পণে প্রতিমা বিসর্জন হওয়ার পর পরিবারের বিবাহিত মহিলারা মাছ-ভাত খান – এই প্রথাই চলে আসছে পরিবারে। তার পর হয় দেবীবরণ এবং কনকাঞ্জলিপ্রথা, অর্থাৎ বাড়ির মেয়ে শ্বশুরবাড়িতে যাচ্ছে বলে তার জন্য কনকাঞ্জলি দেওয়া হয়। তার পর কাঁধে চেপে বিসর্জনের পথে রওনা হন আঢ্যবাড়ির শিবদুর্গা। বিসর্জনের শেষে পরিবারের সদস্যরা ঠাকুরদালানে এসে শান্তিজল গ্রহণ করেন এবং সকলকে মিষ্টিমুখ করানো হয়।

আঢ্যবাড়ির কুলদেবতা

এই বাড়ির কুলদেবতা হলেন শ্রীশ্রীশ্যামরায় জিউ। সকলেই হয়তো বুঝবেন রাধাকৃষ্ণের যুগল বিগ্রহ, কিন্তু এই আঢ্যবাড়িতে শুধু কষ্টিপাথরের শ্যামরায়ই অবস্থান করছেন। এই শ্যামরায় জিউ প্রতিষ্ঠিত হন ১৭৩০ সালে আঢ্যবাড়ির একতলার মন্দিরে। এখনও দোল, রাসযাত্রা নিয়মমাফিক পালন করা হলেও জন্মাষ্টমী মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হয়।

আরও পড়ুন: চোরবাগান চট্টোপাধ্যায় পরিবারের দুর্গাপূজায় ভোগ রান্না করেন বাড়ির পুরুষ সদস্যরা

এ বছর করোনাভাইরাসের কারণে পরিবারের সদস্যরা সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মায়ের মূর্তি তৈরি হবে না, দেবীঘটেই পূজা হবে আর পালিত হবে সকল নিয়ম। জানালেন শঙ্কর আঢ্য মহাশয়।

Continue Reading

কলকাতার পুজো

চোরবাগান চট্টোপাধ্যায় পরিবারের দুর্গাপূজায় ভোগ রান্না করেন বাড়ির পুরুষ সদস্যরা

শুভদীপ রায় চৌধুরী

উত্তর কলকাতা মানেই বনেদি বাড়ির দুর্গাদালানে বহু বছরের ঐতিহ্যকে ফিরে পাওয়া। তিলোত্তমার এই মহোৎসব বহু প্রাচীন, তার মধ্যে অন্যতম হল মধ্য কলকাতার চোরবাগানের চট্টোপাধ্যায় পরিবার।

চোরবাগানের রামচন্দ্র ভবনের নির্মাতা রামচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর বাড়ির ঠাকুরদালানে ১৮৬১ সালে শুরু করেন দেবী দুর্গার আরাধনা স্ত্রী দুর্গাদাসীর পরামর্শে। রামচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় বহু টাকা উপার্জন করে ১২০ নং মুক্তারামবাবু স্ট্রিটে বাড়ি তৈরি করলেন। সেই বাড়িতেই পুজো শুরু করেন রাঢ়ী শ্রেণির ব্রাহ্মণ।

অন্যান্য বহু বাড়িতে রথের সময় কাঠামোপুজো হলেও, চট্টোপাধ্যায় পরিবারে কাঠামোপুজো অনুষ্ঠিত হয় জন্মাষ্টমী তিথিতে। কাঠামোপুজোর দিন একটি লাঠিকে (পরিবার সূত্রে জানা যায় এই লাঠির বয়স পুজোরই সমসাময়িক) পুজো করা হয়। তার পর সেই লাঠিটি দিয়ে আসা হয় কুমোরটুলিতে। সেখানেই নিমাই পালের স্টুডিওতে  সপরিবার মৃন্ময়ী তৈরি হন।

অতীতে বাড়িতেই ঠাকুর তৈরি হত, রূপ দিতেন নিমাই পালের পূর্বসূরিরা। তবে বর্তমানে কুমোরটুলি থেকেই মা আসেন চট্টোপাধ্যায়দের বাড়িতে দেবীপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে। দুর্গাপুজোর পঞ্চমীর দিন দেবীকে বেনারসি শাড়ি ও বিভিন্ন প্রাচীন স্বর্ণালংকার পরানো হয়।

পরিবারের সদস্য অরিত্র চট্টোপাধ্যায় একটি বিশেষ রীতির কথা জানালেন। তিনি বলেন, “এই বাড়িতে ষষ্ঠীর দিন রাত্রিবেলা হয় বেলবরণ উৎসব। কথিত আছে, কৈলাস থেকে মা এসে বেলগাছের তলায় বিশ্রাম নেন। তাই ষষ্ঠীর দিন বাড়ির মহিলারা গভীর রাত্রে মায়ের চার দিকে প্রদক্ষিণ করে বরণ করেন ও দেবীকে স্বাগত জানান সে বছরের জন্য।”

সপ্তমীর দিন বাড়িতেই কলাবউ স্নান করানো হয়। আগে এই বাড়িতে ডাকের সাজের প্রতিমা হলেও পরে পরিবর্তন করা হয়েছে। বর্তমানে চট্টোপাধ্যায় পরিবারে পুজো করে থাকেন শিশিরকুমার চট্টোপাধ্যায়।

অতীতে এই বাড়িতে বলিদান হত। সপ্তমী ও সন্ধিপূজায় একটি করে ও নবমীর দিন তিনটি পাঁঠাবলি দেওয়া হত। সেই প্রথা আজ বন্ধ, বর্তমানে প্রতীকী বলিদান হয় পুজোর সময়।

২০১৯-এ দুর্গাসপ্তমীর দিন চোরবাগানের চট্টোপাধ্যায় বাড়ির ইতিহাস সংবলিত পুস্তিকা প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রবীণ সাংবাদিক ও জনসংযোগ বিশেষজ্ঞ বিশ্বজিৎ মতিলাল (মাঝে) ও সাংবাদিক-লেখক শংকরলাল ভট্টাচার্য (ডান দিকে)।

চট্টোপাধ্যায় পরিবারের বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল এই বাড়িতে ভোগ রান্না করেন বাড়ির পুরুষ সদস্যরা। খিচুড়ি, নানান রকমের ভাজা, শুক্তনি, চিংড়িমাছের মালাইকারি, ভেটকিমাছের ঘণ্ট, লাউচিংড়ি, চাটনি, পায়েস, পানতুয়া ইত্যাদি নানান রকমের ভোগ রান্না করে দেবীকে নিবেদন করা হয়।

এই বাড়িতে দুর্গাপুজোর দশমীর দিন হয় রান্নাপুজো, যাকে বলা হয় দুর্গা-অরন্ধন দিবস, অর্থাৎ আগের দিন সমস্ত রান্না করা হয়। দশমীর দিন ভোগ থাকে পান্তাভাত, ইলিশমাছের অম্বল, চাতলার চাটনি, কচুশাক ইত্যাদি।

আরও পড়ুন: দুর্গাপুজোর সূচনা: মতিলাল শীল বাড়ির কাঠামোপুজো হল উল্টোরথের দিন

দুর্গাপুজোর দশমীর দিন পরিবারের সদস্যরা মিলে মায়ের সামনে এক প্রার্থনাসংগীত পরিবেশন করেন। সকলে মিলে দেবীর কাছে অশ্রুজলে প্রার্থনা জানান ১৬ পঙক্তির স্তব গেয়ে। অতীতে এই চট্টোপাধ্যায় বাড়িতে এক কীর্তনের দল ছিল, ‘রাধারমণ কীর্তন সমাজ’ নামে। দলটির পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন চট্টোপাধ্যায় পরিবারের চিন্তামণি চট্টোপাধ্যায় ও মণীন্দ্রকৃষ্ণ চট্টোপাধ্যায়। এঁরাই মূলত গান করতেন। তাই সেই প্রাচীন কাল থেকেই ঠাকুরের বিসর্জনের আগে সবাই মিলে প্রচলিত সুরে গানটি করেন – ‘ভজিতে তোমারে শিখি নাই কভু / ডাকি শুধু তোমায় মা বলে।/ সাধনার রীতি জানি নাকো নীতি / পূজি শুধু তোমায় আঁখিজলে…”।  

Continue Reading

দুর্গা পার্বণ

পুজোর কার্নিভাল: রাজীব বসুর ক্যামেরায়

kashi bose lane

ওয়েবডেস্ক: বৃষ্টি নিয়ে আশঙ্কা থাকলেও বৃষ্টি কোনো বাধ সাধেনি। বৃষ্টির মোকাবিলায় সব রকম ব্যবস্থা থাকলেও, সে সব ব্যবহার করতে হয়নি। শুক্রবার রেড রোডে পুজোর কার্নিভাল নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন হল।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্ধারিত সময়ের আগেই উপস্থিত হন। অতিথি অভ্যাগতরাও যথাসময়ে হাজির হয়ে যান।

কার্নিভালে আমন্ত্রিত বিদেশি বাণিজ্য দূতাবাসের আধিকারিকরা।

কলকাতার নামজাদা সর্বজনীন পূজাকমিটিগুলি তাঁদের প্রতিমা নিয়ে মিছিল করে যান। সঙ্গে ছিল নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। পুলিশের কসরতও।

আলিপুর ৭৮ পল্লি।

শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব।

চোরবাগান সর্বজনীন।

ভবানীপুর স্বাধীন সংঘ।

তেলেঙ্গাবাগান।

বাঘা যতীন তরুণ সংঘ।

দমদম পার্ক ভারত সংঘ।

ফরোয়ার্ড ক্লাব।  

Continue Reading
Advertisement
ক্রিকেট6 hours ago

ক্রিকেটের প্রত্যাবর্তনে ঐতিহাসিক জয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের

বাংলাদেশ9 hours ago

জাল করোনা-শংসাপত্র চক্রের অন্যতম পাণ্ডা ধৃত ও চাকরি থেকে বরখাস্ত

রাজ্য10 hours ago

রাজ্যে মোট করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৩০ হাজার পার, কমছে মৃত্যুহার

রাজ্য10 hours ago

রাজ্যের লক্ষ্য দৈনিক ১ লক্ষ করোনা নমুনা পরীক্ষা করা, আসছে নতুন যন্ত্র

পরিবেশ10 hours ago

একুশ শতকে প্রথম মুক্ত অবস্থায় ঘুরে বেড়াতে দেখা গেল সোনালি বাঘকে

দেশ11 hours ago

কেরল সোনা পাচারকাণ্ড: এনআইএ-র হাতে গ্রেফতার স্বপ্না সুরেশ, উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য

indian post
শিল্প-বাণিজ্য12 hours ago

দেখে নিন পোস্ট অফিসের ক্ষুদ্র সঞ্চয় প্রকল্পগুলিতে সর্বশেষ সুদের হার

দেশ13 hours ago

ঘোড়া আস্তাবল থেকে পালালে তবেই কংগ্রেসের ঘুম ভাঙবে? সচিন পায়লট প্রসঙ্গে বিস্ফোরক মন্তব্য কপিল সিবালের

কেনাকাটা

কেনাকাটা3 days ago

ঘরের একঘেয়েমি আর ভালো লাগছে না? ঘরে বসেই ঘরের দেওয়ালকে বানান অন্য রকম

খবরঅনলাইন ডেস্ক : একে লকডাউন তার ওপর ঘরে থাকার একঘেয়েমি। মনটাকে বিষাদে ভরিয়ে দিচ্ছে। ঘরের রদবদল করুন। জিনিসপত্র এ-দিক থেকে...

কেনাকাটা5 days ago

বাচ্চার জন্য মাস্ক খুঁজছেন? এগুলোর মধ্যে একটা আপনার পছন্দ হবেই

খবরঅনলাইন ডেস্ক : নিউ নর্মালে মাস্ক পরাটাই দস্তুর। তা সে ছোটো হোক বা বড়ো। বিরক্ত লাগলেও বড়োরা নিজেরাই নিজেদেরকে বোঝায়।...

কেনাকাটা6 days ago

রান্নাঘরের টুকিটাকি প্রয়োজনে এই ১০টি সামগ্রী খুবই কাজের

খবরঅনলাইন ডেস্ক : লকডাউনের মধ্যে আনলক হলেও খুব দরকার ছাড়া বাইরে না বেরোনোই ভালো। আর বাইরে বেরোলেও নিউ নর্মালের সব...

কেনাকাটা1 week ago

হ্যান্ড স্যানিটাইজারে ৩১ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিচ্ছে অ্যামাজন

অনলাইনে খুচরো বিক্রেতা অ্যামাজন ক্রেতার চাহিদার কথা মাথায় রেখে ঢেলে সাজিয়েছে হ্যান্ড স্যানিটাইজারের সম্ভার।

নজরে