sarada durga puja
শ্রয়ণ সেন

অদ্ভুত কৃপা মা দুর্গার। প্যান্ডেলের মধ্যে ঢুকতেই আকাশ ভেঙে বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল। এক সেকেন্ডের এ-দিক ও-দিক, ব্যাস ভিজে যেতাম পুরো। বেশ কিছুক্ষণ ধরেই প্রস্তুতি নিচ্ছিল। হাইওয়ে দিয়ে যেতে যেতেই কড়া রোদের বদলে জায়গা করে নিয়েছিল কালো মেঘ।

khoriop1
তখন প্রবল বৃষ্টি

এসেছি আমতার খড়িয়পে শ্রীরামকৃষ্ণ প্রেমবিহারের সারদা দুর্গাপুজোয়। আজ থেকে ঠিক পাঁচ বছর আগে এমনই এক দিনে এই আশ্রমে প্রথম এসেছিলাম। এখানকার প্রেসিডেন্ট মহারাজ, স্বামী সম্বুদ্ধানন্দের সঙ্গে পরিচয় হতেই এক অদ্ভুত তৃপ্তি অনুভূত হয়েছিল। তার পর ধীরে ধীরে কবে যে এই আশ্রমেরই একজন হয়ে গিয়েছি জানি না। গত মাসেই আশ্রমের তরফ থেকে বন্যাত্রাণের কাজকর্মেও হাত লাগিয়েছি। ফিরে আসি পুজোর কথায়।

তখন প্রবল বৃষ্টি। সেই সঙ্গে মুহুর্মুহু বজ্রপাত। সেই বৃষ্টিকে উপেক্ষা করেই যত বেলা গড়িয়েছে মানুষের সমাগম বেড়েছে। স্থানীয় মানুষজনের পাশাপাশি কলকাতা থেকেও অনেকে এসেছেন। কেউ কেউ আশ্রমের মহারাজ স্বামী যোগসুন্দরানন্দের উচ্চারিত মন্ত্রে অঞ্জলি দিচ্ছেন, কেউ পাশের পুকুরের দিকে তাকিয়ে বৃষ্টিকে উপভোগ করছেন, কেউ নির্ভেজাল আড্ডা দিচ্ছেন আবার কেউ এক মনে প্রতিমার দিকে চেয়ে রয়েছেন।

khoriop2
চলছে অঞ্জলি

এখানকার পুজোর বিশেষত্ব হল মা সারদাকে দুর্গা রূপে পুজো করা হয়। তাই মণ্ডপে দুর্গার প্রতিমার পাশেই রয়েছেন মা সারদা। স্বামী বিবেকানন্দের কাছে মা সারদা ছিলেন জীবন্ত দুর্গা। স্বামীজির সেই কথাকে স্মরণ করেই এখানে দুর্গা রূপে পূজিত হন মা সারদা।

১৯৯৫ সালে স্বামী সম্বুদ্ধানন্দের হাত ধরে পথ চলা শুরু করে খড়িয়পের আশ্রম। এর চার বছর পর, অর্থাৎ ১৯৯৯ সালে এখানে দুর্গাপুজো শুরু। ২০০০ সালে চিড়িয়া মোড়ের কাছে দমদমের রেডিও গলিতে এই আশ্রমের প্রধান কার্যালয় স্থানান্তরিত হয়। এখন অনেক সামাজিক কাজকর্মে ব্রতী হয়েছে এই আশ্রম। আশ্রমের পক্ষ থেকে চালানো হয় একটি প্রাথমিক স্কুল, দাতব্য চিকিৎসালয়। চিকিৎসার পাশাপাশি বিনামূল্যে ওষুধও দেওয়া হয়। দারিদ্রসীমার নীচে থাকা বেকার যুবক ও ছাত্রদের বাগান পরিচর্যা, পশুপালন, মাছচাষ ও নানা কুটির শিল্পের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। দেওয়া হয় কুটির শিল্পের নানান উপকরণও। পুরুষ, নারীদের জন্য স্বনির্ভর গোষ্ঠী খোলা হয়েছে। অঙ্কন, সেলাই ও কাটিং শেখানো হয়। প্রতি বছরই বেশ কিছু অনাথ শিশুর লেখাপড়া-থাকা সহ সার্বিক দায়িত্বও নেয় আশ্রম।

এই দুর্গাপুজোর আরও এক আকর্ষণ আশ্রমের ভোগ। পুজোর চার দিনই অসংখ্য মানুষ এখানে ভোগ খেতে আসেন। অষ্টমীর দিন তো আশ্রমসংলগ্ন গ্রামগুলি ভেঙে পড়ে এই আশ্রমে। মহারাজদের মতে অষ্টমীর দুপুরে প্রায় তিরিশ হাজার মানুষের সমাগম হয়। অষ্টমী এবং নবমীর সন্ধিক্ষণে সন্ধিপুজোও এখানকার আরও এক আকর্ষণ।

khoriop 3
চলছে ভোগ খাওয়া

যা-ই হোক, দেবী দুর্গা দর্শন করে পেট ভরে ভোগ খেয়ে আশ্রম থেকে যখন বেরোলাম তখন বৃষ্টি ধরলেও আকাশের মুখ বেশ ভার। অষ্টমীতেও ভালো বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া রয়েছে। তবে আশ্রমের মহারাজরা জানেন, বৃষ্টি যতই হোক, মানুষের ঢল নামাকে কেউ আটকাতে পারবে না।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here