last years puja at roy family of digtore village
দিগতোড় রায় পরিবারের গত বারের প্রতিমা। নিজস্ব চিত্র।
ইন্দ্রাণী সেন

বাঁকুড়া: কাশীপুররাজের প্রছন্ন মদতে বাংলার ১৩০১ সনে বাঁকুড়ার হীড়বাঁধের দিগতোড় গ্রামের রায় পরিবারে শুরু হয় দুর্গাপুজো। হীড়বাঁধ ব্লকে প্রথম দুর্গাপুজোর সূচনা হয় এই ক্ষত্রিয় পরিবারের হাত ধরেই। বর্তমানে যা গ্রামের ক্ষত্রিয় ষোলোআনা দুর্গাপুজো বলেই অধিক পরিচিত। গ্রামে কোনো দুর্গাপুজো না থাকায় দুর্গাপুজোর দিনগুলো আর পাঁচটা সাধারণ দিনের মতোই কাটত এই গ্রামে। কাশীপুর রাজার বিশেষ কৃপাধন্য সারদাপ্রসাদ রায়, নাগর রায়, জ্যোতিপ্রিয় রায়রা দুর্গাপুজো করার অনুমতি প্রার্থনা করেন রাজার কাছে। প্রজাদের ইচ্ছাপূরণের জন্য তৎকালীন সময়ের পুরুলিয়ার কাশীপুরের মহারাজা এসে এই পুজো উদ্বোধন করেন বলে জানান পুজো উদ্যোক্তারা।

আরও পড়ুন চকদিঘির ঐতিহ্যশালী সিংহরায় বাড়ির পুজো

দেখতে দেখতেই একশো পঁচিশ বছরে পড়ল এই পুজো। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই এখানকার পুজোতেও এসেছে আধুনিকতার ছোঁয়া। মাটির মন্দিরের বদলে দালান তৈরি হয়েছে। একশো পঁচিশতম বছরের পুজো উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা। পুজো কমিটির পক্ষ থেকে উদ্যোক্তা শিশির রায় বলেন, তাঁদের পূর্ব পুরুষদের উদ্যোগে ও পুরুলিয়ার কাশীপুরের রাজার সমর্থনে শুরু হয়েছিল এই পুজো। পুরোনো মাটির মন্দিরের কাঠের কড়ি বড়গায় সিঁদুরে লেখা সাল থেকেই এই পুজোর প্রাচীনত্ব সম্পর্কে জানতে পারা যায়।

idol making in progress
চলছে প্রতিমা গড়া। নিজস্ব চিত্র।

পুজোর আরও এক উদ্যোক্তা বিনয়কৃষ্ণ রায় বলেন, মহাসপ্তমীর দিন পাঁচটি কৌলিক ঘট সহ নতুন ৩২টি মঙ্গলঘট কুমারী মেয়েরা নবপত্রিকা স্নানের সময় পুকুর থেকে মন্দিরে এনে স্থাপন করবেন। এ ছাড়া পুজোর দিনগুলিতে পেশাদারি যাত্রা সহ নানা ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানিয়েছেন। তিনি আরও জানান, এই পুজো শাক্ত মতে হয়। তাই বলিপ্রথা চালু আছে। এ ছাড়া অন্যান্য বছরের মতো এ বারেও ব্রাক্ষণ ও নরনারায়ণ সেবার ব্যবস্থা থাকছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন