durgadalan of dey family, bolpur

নিজস্ব সংবাদদাতা, বোলপুর: সব কিছুর মতোই দুর্গাপুজোতেও নানা পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু বোলপুরের দে-বাড়ি এই পরিবর্তনের ছোঁয়া সযত্নে এড়িয়ে চলেছে। আজও পুরোনো আদবকায়দা, রীতিনীতি মেনে পুজো চলে আসছে এই দে-বাড়িতে।

দে-বাড়ির বর্তমান প্রজন্মের সদস্যরা গর্ব করে বলেন, এক সময় ক্ষিতিমোহন সেন,  অমিতা সেন, অন্নদাশঙ্কর রায়,  নন্দলাল বসু,  কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়,  রামকিঙ্কর বেইজ,  ভবতোষ দত্ত,  প্রবোধচন্দ্র সেনের মতো শান্তিনিকেতনের কৃতী মানুষজন নিয়ম করে আসতেন তাঁদের বাড়ির পুজোয়। সেই স্মৃতি বুকে ধরেই এ বাড়ির পুজো এ বার ১৯৯ বছরে পড়ল।

durga idol of dey family
দে-বাড়ির দুর্গাপ্রতিমা।

বোলপুর-সংলগ্ন সুপুর গ্রামে এই পুজো শুরু হয়েছিল ১৮১৯ খ্রিস্টাব্দে। শুরু করেছিলেন সুস্বরমণি দেবী। তিনি নাকি দেবীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে এই পুজো শুরু করেন। সেই সময় সুপুর গ্রামের খুব রমরমা ছিল। ছিল বড়ো বাণিজ্যক্ষেত্র। পরবর্তীকালে সুস্বরমণি দেবী দুই পুত্র ও এক কন্যাকে নিয়ে চলে আসেন বোলপুরে। সঙ্গে নিয়ে আসেন গৃহদেবী দুর্গাকেও। বোলপুরে শুরু করেন পুজা। পুরোনো ঐতিহ্য মেনে সেই পুজো চলে আসছে।

দেবমন্দির সাধারণত পশ্চিমমুখী হয় না। কিন্তু এখানে দে-বাড়ির দুর্গামন্দির পশ্চিমমুখী। কথিত আছে, মন্দির তৈরি করার সময় মাটির নীচ থেকে একটি পঞ্চমুখী শঙ্খ পাওয়া যায়, সেটির মুখ ছিল পশ্চিমমুখী। তাকেই দেব-নির্দেশ মেনে এখানে যে মন্দির তৈরি করা হয়, সেটিও হয় পশ্চিমমুখী।

সাবেকি একচালা প্রতিমা। দে-বাড়ির ছেলেমেয়েরাই প্রতিমা সাজান। এই পুজোর এটাই বৈশিষ্ট্য। বৈষ্ণব মতে পুজো হয়, তাই বলিদানের কোনো প্রথা নেই।

দে-বাড়ির অনেকেই কর্মসূত্রে বাইরে থাকলেও, সমস্ত কাজ ফেলে চার দিনের জন্য ছুটে আসেন বাড়িতে, পুজোয় যোগ দেবেন বলে। সেই চার দিন ফের গম গম করে ওঠে বাড়িটা।

 

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here