durgapuja of raut family of kharshi village
indrani sen
ইন্দ্রাণী সেন

জলপিপাসায় কাতর হয়ে ঘরে ফিরছিলেন সাধক রাধাকান্ত রাউত। পথের ধারেই নায়কা পুকুর। তৃষ্ণা মেটাতে আঁজলা ভরে জল খেতে গেলেন সেখানে। জলের মধ্যেই ভেসে উঠল দেবী মহামায়ার মূর্তি। দেখে বিস্মিত সাধক। ঠিক পরের দিন স্বপ্নাদেশ পেলেন। করতে হবে দুর্গাপুজো।

এই কাহিনি ৩১৪ বছর আগেকার। সে দিন থেকে আজও নিয়ম মেনেই দুর্গাপুজো করেন বাঁকুড়া জেলার ইন্দাস ব্লকের আকুই দুই পঞ্চায়েতের খড়শি গ্রামের পূর্বপাড়ার রাউত ও সিংহ পরিবার।

সিংহ পরিবার হল রাউতদের দৌহিত্র। দু’টি পরিবারই ওই পুজোয় যোগ দেয়। এই পুজো তাই এখন রাউত ও সিংহ পরিবারের পুজো হিসাবে পরিচিত।

তিন তিনটে শতক অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার পর এখন খুব সাধারণ ভাবেই দুর্গাপুজো করেন দুই পরিবারের সদস্যরা। রাউত পরিবারের উত্তরসূরি নবকুমার সরকার বলেন, তাঁদের মূল পদবি রাউত। কয়েকশো বছর আগে স্থানীয় রাজার কাছে থেকে তাঁরা সরকার উপাধি পেয়েছিলেন। তাই খড়শি গ্রামে সরকারবাড়ি আজও রাউতদের বাড়ি নামেই পরিচিত।

রণজিৎ সরকার বলেন, দুর্গাপুজোর নিয়ম মেনেই চার দিন পুজো হয়। তবে নবমীর দিন শরিকি খাঁড়ায় নিয়ম মেনেই চালকুমড়ো বলি হয়।

new durga temple
নতুন দুর্গামন্দির।

রাউত পরিবারের প্রবীণ সদস্য অভয় সরকার বলেন, বহু দিন ধরেই মাটির মন্দিরেই দুর্গাপুজো হত। সম্প্রতি পরিবারের যৌথ উদ্যোগে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে একটি দুর্গামন্দির নির্মাণ করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, যখন পুজো শুরু হয় তখন পরিবারের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি খুব একটা ভালো ছিল না। দেবীর কৃপায় আজ এই মন্দির তৈরি করতে পেরে ভালো লাগছে। অনেক দিনের ইচ্ছাপূরণ হল।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here