নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি : ঢাকে কাঠি পড়ে গিয়েছে। এ বার পালা ঘুরে ঘুরে দেবী দর্শনের। পঞ্চমীর দিন থেকেই রাস্তায় বেরিয়ে পড়েছেন জলপাইগুড়িবাসী। এ বারে পুজোয় বিভিন্ন থিমের পাশাপাশি জায়গা করে নিয়েছে কিছু সাম্প্রতিক ও সামাজিক সমস্যাও। যেমন কোথাও দেওয়া হয়েছে ব্লু হোয়েল নিয়ে সর্তকবার্তা। কোথাও আবার নির্মল বাংলা গড়ার ডাক। রয়েছে সবুজায়ন বা সেফ ড্রাইভ সেফ লাইফ নিয়ে প্রচার।

চলুন তাহলে বেরিয়ে পড়া যাক জলপাইগুড়ির রাস্তায়। দেখে নেওয়া যাক শহরের বেশ কয়েকটি পুজো মণ্ডপ।

১) পাতকাটা কলোনি কালচারাল ক্লাব ও পাঠাগার : জলপাইগুড়ি শহর থেকে একটু দূরে ডেঙ্গুয়াঝার চা বাগান। সেই চা বাগান ঘেঁষে তৈরি হয়েছে পাতকাটা কলোনি কালচারাল ক্লাব ও পাঠাগার পরিচালিত দুর্গাপুজোর বিশাল মণ্ডপ। এ বারে ৫৯তম বর্ষ। বাজেট আট লক্ষ টাকা।

সবুজ ধ্বংসের ফলে কী ভাবে মানুষের ক্ষতি হচ্ছে, কী ভাবে মানুষ আর বন্যপ্রাণীর সংঘাত বাড়ছে, সেই চিত্র তুলে ধরা হয়েছে মণ্ডপ সজ্জায়। ফালাকাটার শিল্পী শম্ভুনাথ দে’র তিনমাসের প্রচেষ্টায় তৈরি হয়েছে মণ্ডপের বিভিন্ন মডেল। গ্রামে মানুষ, জঙ্গলে হাতি, গণ্ডার সবই রয়েছে এখানে। মৃৎশিল্পী দীনবন্ধু পাল দেখিয়েছেন দেবী দুর্গা কী ভাবে সবুজ ধ্বংসকারী দুষ্কৃতী অসুরকে নিধন করছেন। রয়েছে চন্দননগরের আলোকসজ্জাও।

২) পাতকাটা কলোনি অগ্রণী সংঘ ও পাঠাগার : এক্কেবারের গা ঘেঁষেই রয়েছে পাতাকাটা কলোনী অগ্রণী সংঘ ও পাঠাগারের পুজো মণ্ডপ। ৬০তম বর্ষে পা দেওয়া এই প্রাচীন পুজো সাধারণ মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।

কর্নাটকের বিধানসভার আদলে তৈরি হয়েছে মণ্ডপ। কুচবিহারের শিল্পী লক্ষণ বর্মণ হোগলাপাতার সুন্দর ব্যবহারে মণ্ডপের বহিরাঙ্গ ও অন্দরমহল সজ্জিত করেছেন। হোগলাপাতা দিয়েই মণ্ডপের দেওয়ালে বিভিন্ন প্রতিকৃতি ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। মণ্ডপের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে দৃষ্টিনন্দন প্রতিমা বানিয়েছেন মৃৎশিল্পী জীবন পাল। সব মিলিয়ে বাজেট আট লক্ষ টাকা।

৩) জাগ্রত সংঘ: এ বারে ঢুকে পড়া যাক জলপাইগুড়ি শহরের ভেতরে। ৬৭তম বর্ষে পা দিল বিগ বাজেটের এই পুজো। এদের থিম ‘বাংলা আমার মা’। মণ্ডপসজ্জা ও প্রতিমার মধ্য দিয়ে থিমকে রূপ দিয়েছেন মণ্ডপশিল্পী ও মৃৎশিল্পী জীবন পাল। পি-ফোম দিয়ে পুরো মণ্ডপটি তৈরি করা হয়েছে। বাংলার পরিচিতি তুলে ধরা হয়েছে মণ্ডপসজ্জায়। কৃষি-শিল্প-চা বাগানের সহাবস্থানের চিত্র সুচারুভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি।

মণ্ডপের ভেতরে আবার অন্য চিত্র। ইস্পাতের তৈরি নেট দিয়ে বিভিন্ন কারিকুরি করে মণ্ডপের অন্দরসজ্জা করা হয়েছে। রয়েছে বালি দিয়ে তৈরি বিভিন্ন দেবদেবীর প্রতিকৃতি। ঘিয়ে রঙের দুর্গা প্রতিমাটিও অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন। আর সেই সঙ্গে চন্দননগরের আলোকসজ্জা। খরচ সব মিলিয়ে ১৬ লক্ষ টাকা।

৪) অসম মোড় তারাপাড়া সর্বজনীন : অসম মোড় রিক্রিয়েশন ক্লাবের এই পুজোর এ বারে ৫২তম বর্ষ। এ বারের থিমে বেশকিছু দিক তুলে ধরা হয়েছে। যেমন রয়েছে ব্লু হোয়েল, সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ, নির্মল বাংলা গড়ে তোলার  আবেদন। মণ্ডপটি কাল্পনিক হলেও দৃষ্টিনন্দন। চট, মাদুর, হোগলাপাতা দিয়ে মণ্ডপ তৈরি করেছেন শিল্পী হীরক সাহা।

মণ্ডপের অন্দরসজ্জা হয়েছে কাঁচ এবং বালি দিয়ে। দেবী প্রতিমাকে গ্রাম্য রূপ দিয়েছেন মৃৎশিল্পী ভুবনেশ্বর পাল। গরুর গাড়ি করে সপরিবারে গ্রাম বাঙলার রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন দেবী দুর্গতিনাশীনি। ১৫ লক্ষ টাকা ব্যয় করা হয়েছে পুজোয়।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here