uttarparas-sramghat-sarbajanion
papiya mitra
পাপিয়া মিত্র

সেই অর্থে জাঁকজমক ছিল না, ছিল গভীর আন্তরিকতা। নির্দিষ্ট প্রাঙ্গণ না থাকলেও পুজো থেমে থাকেনি কখনও। কলাবউ স্নান সেরেছে ৯৯টি বছর ধরে পরম্পরার কোলে চেপে। সেই ‘রামঘাট সর্বজনীন দুর্গাপুজো’ এই বছর শত বর্ষে পা দিল।

একটা সময় ছিল যখন হুগলির উত্তরপাড়ায় মাত্র জমিদারবাড়ি বা ব্যবসায়ীবাড়ির পুজো ছিল। সেখানে সাধারণের খুব একটা যাতায়াত ছিল না বললেই চলে। তাই এলাকায় দুর্গাপুজোর চাহিদা ক্রমেই বেড়ে চলছিল। ‘সারস্বত সম্মিলন’ প্রবর্তিত ও ‘উত্তরপাড়া ফ্রেন্ডস ইউনিয়ন ক্লাব’ পরিচালিত এই দুর্গাপুজো শহরতলির একমাত্র প্রাচীন বারোয়ারি দুর্গাপুজো রূপে আজও সমাদৃজুগঐতিহ্যমণ্ডিত এই দুর্গাপুজো কোনো দিনই এলাকার নিজস্ব পুজো ছিল না। উত্তরপাড়া সহ কোতরং-ভদ্রকালী-কোন্নগর-রিষড়া-ও-বালির বাসিন্দাদের কাছে রামঘাটের দুর্গাপুজোই ছিল ঘরের পুজো, প্রতিমাদর্শন ছিল তীর্থদর্শনের সমতুল। হবে না-ই বা কেন? প্রাচীন এই প্রাঙ্গণের সামনের দিকে গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড ও পিছন বরাবর বয়ে চলেছে গঙ্গা। আজও মানুষ প্রতিমা দর্শনের আগে একটি বার গঙ্গায় ডুব দেওয়ার অমৃতলাভের আশাটুকু থেকে বঞ্চিত হতে চান না।

জিটি রোড থেকে পা পাঁচেক গেলেই চত্বর জুড়ে শত বর্ষের পুজোমণ্ডপের কাজ চলছে জোর কদমে। তার ভিতরে চলছে প্রতিমা নির্মাণের কাজ। বাম দিকে রামসীতার মন্দির, দু’পা এগোলে নাটমন্দিরের দুই প্রান্তে দু’টি শিবমন্দির। তার গা ঘেঁষে বয়ে চলেছে গঙ্গানদী। এই মনোরম পরিবেশে এই শতাব্দীস্পর্শ পুজোর শুরুটা কেমন ছিল?

আরও পডুন: ৭৫তম বর্ষে চালতাবাগান চাইছে ‘মুক্তি’ 

সময় ১৯১৭, স্থানীয় এলাকায় একটি পুজোর প্রয়োজন ছিল। এলাকাবাসীর উদার অর্থ-সাহায্যে শুরু হল এই সর্বজনীন দুর্গোৎসব। সেই সময় সারস্বত সম্মেলনের সভাপতি ললিতমোহন মুখোপাধ্যায় ও তাঁর পরিবারবর্গের আন্তরিক সাহায্য পুজোপর্বের প্রথম দিকের অঙ্গ ছিল। জনগণের উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠল এলাকার পুজো। চলল একটানা ১৯৪৯ পর্যন্ত পাঠাগারের টিনের ছাউনির নীচে। পরে পাঠাগারে স্থানসংকুলান ও টিনের ছাউনি ফেলে দ্বিতল করার সিদ্ধান্তে পুজো সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় রামঘাট প্রাঙ্গণে। হাতে গোনা মাত্র ক’জনা যুবক সে দিন পুজোর দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। শুরু হল রামঘাট সর্বজনীন দুর্গাপুজোর আরও এক ধাপ এগিয়ে চলার পালা।

uttarparas-sramghat-sarbajanionসে দিনের উদ্যোগী যুবকদের মধ্যে একমাত্র জীবিত ও পুজো কমিটির সভাপতি সুকুমার চট্টোপাধ্যায় জানালেন, ঐতিহ্যমণ্ডিত এই পুজো শতবর্ষে পা দিল। দীর্ঘ চলার পথে নানা অসুবিধে এলেও পুজো এক বারের জন্যও বন্ধ হয়নি। কালের নিয়মে পুজোর আয়োজনে ও পরিচালনায় এগিয়ে এল পরের প্রজন্ম, ‘উত্তরপাড়া ফ্রেন্ডস ইউনিয়ন ক্লাব’। প্রাচীন পথপ্রদর্শক এই পুজো নিষ্ঠা ও শুচিতায় শ্রেষ্ঠ বলে শহরতলীর জনমনে স্বীকৃতি পেয়েছে।

ক্লাবের পক্ষ থেকে যুগ্ম সম্পাদক মানস চট্টোপাধ্যায় জানালেন, সাবেক সাজে ‘রামঘাট সর্বজনীন দুর্গোৎসব’ তার পুরোনো ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। এ বারের প্রতিমাশিল্পী পার্থসারথি চট্টোপাধ্যায়। মণ্ডপ লোকনাথ ডেকরেটরস কোন্নগর। উদ্বোধন চতুর্থীর দিন। গত বারের থিম ছিল পিপলি আলোর ওপরে নীলাচলে মহাপ্রভু।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here