jalpaiguri food

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: পুজো মানেই প্যাণ্ডেল হপিং, দেদার আড্ডা আর জমিয়ে খাওয়াদাওয়া। দুর্গাপুজোর এই ক’টা দিন নানা রকম পদ চেখে না দেখলে আনন্দটা যেন অসমাপ্ত থেকে যায় উৎসবমুখর বাঙালির। সেই রসনাতৃপ্তিতে কসুর করে না হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোও।

এই ব্যাপারে কলকাতার থেকে খুব একটা পিছিয়ে নেই উত্তরের শহরগুলি। ধরা যাক জলপাইগুড়ির কথা। এই শহরেও নয় নয় করে গজিয়ে উঠেছে কয়েক ডজন হোটেল-রেস্তোরাঁ। এর মধ্যে থ্রি-স্টার বা টু-স্টার হোটেলগুলিরও যেমন বিলাসবহুল রেস্তোরাঁ রয়েছে, তেমনি রয়েছে সাধারণ মানুষের আয়ত্তের মধ্যে ঝাঁ চকচকে রেস্তোরাঁ বা ফুডস্টল। ভোজনরসিক বাঙালির জন্য বাইরে থেকে শেফ আনিয়ে নতুন নতুন পদ চেখে দেখার সুযোগ দিচ্ছে কোনো রেস্তোরাঁ, কেউ বা জিএসটির ভার লাঘব করতে ছাড় দিচ্ছেন খাবারের দামে।

শুরু করা যাক জলপাইগুড়ি শহরের প্রাণকেন্দ্র কদমতলার ডেল প্রিতম দিয়ে। তিনতারা এই হোটেলটির রেস্তোরাঁ বেশ বিলাসবহুল। এ বারে দুর্গাপুজোয় ভোজনরসিকদের টানতে এই রেস্তোরাঁর আকর্ষণ লখনউয়ের নবাবি খানা। পুজো উপলক্ষে লখনউ থেকে আনা হয়েছে বিশেষ রাঁধুনি।
ইন্ডিয়ান-চাইনিজ-কন্টিনেন্টাল ডিশের সঙ্গে থাকছে লখনউয়ের নবাবি ঘরানার কিছু পদ। যেমন ক্ল্যাসিক বিরিয়ানি, পনির শাম-সবেরা, কোলাপুরি কোফতা এবং পনির আচারী। পুজোর চার দিন দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত অতিথি আপ্যায়নে কোনো ত্রুটি রাখা হবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন হোটেলের জেনারেল ম্যানেজার অরূপ গঙ্গোপাধ্যায়।
jalkhabar 1
এ বারে চলে যাওয়া যাক শহরের ক্লাব রোডের আরও একটি নামী হোটেল রত্নদ্বীপ-এ। রবিবার চতুর্থীর দিন থেকে এই দু’তারা হোটেলের রেস্তোরাঁটিকে নতুন ভাবে সাজিয়ে তোলা হয়েছে খাদ্যরসিকদের জন্য। চিরাচরিত ডিশগুলির সাথে আনা হয়েছে বেশ কিছু নতুন পদ। যেমন কাশ্মীরি চিকেন বা সেসমি চিকেন। চিনা স্টাইলে তৈরি কুং-পাও-চিকেন। থাকছে বাঙালির প্রিয় ইলিশের রকমারি পদও। যেমন চিরন্তন ইলিশ ভাপা, ইলিশ মাছের মাথা দিয়ে কচুর শাক এবং ইলিশের ডিম ভাজা। থাকছে চিংড়ি মালাইকারি। পুজোর দিনে মাছ বা মাংসে রুচি নেই? তা হলে আপনার জন্য রয়েছে মাশরুম-ইন-হট-গারলিক-সস। রয়েছে মনচাও সুপও। রত্নদ্বীপের অন্যতম ডিরেক্টর সানি চৌধুরী জানিয়েছেন, “জিএসটির প্রভাব যাতে ক্রেতাদের ওপর না পড়ে, সেই জন্য ১৫% ছাড়ের ব্যবস্থা রয়েছে খাবারের দামে”। খেতে খেতে যদি হঠাৎ বৃষ্টি নামে বা রাত হয়ে যায়, তা হলেও চিন্তা নেই। খাদ্যরসিকদের বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার জন্য গাড়ির ব্যবস্থাও করে রেখেছে রত্নদ্বীপ।
bhapa ilish
ভাপা ইলিশ
অতিথি আপায়্যনে নাম রাখতেই হবে শহরের গোল্ডেন টিউলিপ, সাফারি বা অতিথিকেও। রকমারি পদ নিয়ে এরা সবাই হাজির।
তবে বাদ রাখা যাবে না মধ্যবিত্তের পকেটসই মন চায়, হট এণ্ড স্পাইস বা অভিনন্দন-এর সুস্বাদু পদগুলিকে। সারা বছর সাধারণ মানুষকে রসনায় ভরিয়ে রাখা এই ফুডস্টলগুলিও নিজেদের মতো করে দুর্গাপূজার উপহার দিচ্ছে শহরবাসীকে।
হট এণ্ড স্পাইসে এ বার পূজো স্পেশাল মেনু থাকছে পিনাট বাটার চিকেন এবং তাই চিকেন কারির মতো রকমারি পদও। এর জন্য বাইরে থেকে রাঁধুনিকেও আনা হয়েছে, এমনই জানালেন মালিক জয়ন্ত সরকার। তবে শুধু খাবারে নয়, অতিথি আপ্যায়নে সব দিকেই নজর রাখছে হোটেল রেস্তোরাঁগুলি। ফ্রি ওয়াই-ফাই, জিএসটিতে ছাড়, ভিড় এড়াতে বুফে সিস্টেম, থাকছে সবই। শহরের বেগুনটারির অভিনন্দন রেস্তোরাঁর মালিক শুভজিৎ দাস জানিয়েছেন, তাদের এখানে ফ্রি ওয়াই ফাই, বুফে এবং জিএসটিতে ১০%ছাড় থাকছে।
jalpaiguri restaurant
সেজে উঠেছে রেস্তোরাঁ
সব মিলিয়ে পূজোয় পেটপূজোর আয়োজনে ভরপুর শহর। প্যাণ্ডেল হপিং শেষে এ বার শুধু দল বেঁধে ঢুকে পড়ার পালা।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন