Arun-das

সমীর মাহাত, ঝাড়গ্রাম: ছোটোবেলায় টুসু বানানোর হাত ধরে ঝাড়গ্রামের অরুণ আজকের নিজেই থিম দুর্গার কারিগর।

অরুণ দাস, বাড়ি ঝাড়গ্রামের জামবনি ব্লকের আলামপুর গ্রামে। বাবা ছিলেন প্রতিবন্ধী। মাধ্যমিকে সফল না হওয়ায় পড়াশোনা ছেড়ে বাড়িতে বসেই মাটির টুসু তৈরির কাজে মন দেন তিনি। চাষ আবাদের জমিও কম। ১৭ বছর ধরে ভাস্কর্যশিল্পে তিনি ক্রমশ নিপুণ হয়ে ওঠেন। নিজস্ব থিমে ঝাড়গ্রাম শহরের রাজ কলেজ সংলগ্ন ‘অরণ্য সংঘ’-এ পাঁচ বছর ধরে তিনিই দুর্গাপ্রতিমা তৈরি করছেন।

এ বছর এই পুজো মণ্ডপের থিম বিদ্যাসাগরের ‘বর্ণপরিচয়’। এর আগে বৃহৎ ‘নীল সরস্বতী’ নির্মাণ ঝাড়গ্রাম এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। আসলে তাঁর কোনো শিক্ষাগুরু নেই। তা হলে এই প্রতিভার উৎস কী!

তাঁর পরিবারের কাছ থেকে জানা গিয়েছে, তরুণবাবুর জ্যাঠামশাই ছিলেন রেলের ইঞ্জিনিয়ার। আত্মীয়স্বজনদের মতে, এই শিল্পকলায় তাঁদের নাড়ির টান। ভাস্কর্য হিসেবে গিধনিতে তিনি প্রতিমার মূর্তি বানিয়েছেন। বাড়িতে বহু মনীষীদের মূর্তি বানিয়ে রেখেছেন। জঙ্গলমহলের কোনো মেলায় সেগুলির প্রদর্শনী করবেন। অরুণবাবু সাক্ষাৎকারে জানান, “পাঁচ বছর ধরে এখানে দুর্গা প্রতিমা তৈরির সুযোগ কর্তৃপক্ষ করে দিয়েছেন। থিমের ভাবনা আমার নিজস্ব।”

Arun-das

তিনি জানান, “এ বছর বিদ্যাসাগরের বর্ণপরিচয়-এর দেড়শো বছর পুর্ণ হচ্ছে, তাই থিম রেখেছি বর্ণপরিচয়। থিমের প্রতিযোগিতার বাজারে আশা করি, আমার এই প্রচেষ্টা সার্থক হবে। ভাস্কর্যশিল্পীদের জায়গা সরকারি লোক প্রসার প্রকল্পে আছে কি না জানি না, জানলে আবেদন করতাম। মাটির মূর্তি বিক্রি বলতে, আগে গ্রামাঞ্চলে টুসু ছিল প্রধান। তাই টুসু বানানো ছিল আমার হাতেখড়ি।”

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন