মৈত্রী মজুমদার

সকালে ঘুম থেকে উঠেই সবার প্রথমে যা দরকার তা হল, এক কাপ ধোঁয়া ওঠা গরম চা।  আহাঃ! আর চা মানেই অসম। সেই চা-এর প্রসঙ্গেই মনে ভেসে উঠল একটা ছবি, আদিগন্তবিস্তৃত সবুজ চা বাগান আর তার প্রেক্ষাপটে বিহু নৃত্যরতা একদল তরুণী, পরনে তাঁদের সোনালি মুগাসিল্কের মেখলা-চাদর।

আচ্ছা, আপনারা জানেন কি গোটা পৃথিবীতে যে তিন ধরনের সিল্ক পাওয়া যায়, তার মধ্যে দু’টো মুগা (১০০%) আর এরি (৯০%), একমাত্র অসমেই পাওয়া যায়?

আরও জানেন কি প্রতি দিনের স্নান করা, ভাত খাওয়ার মতোই নিজের হাতে, নিজের বাড়ির উঠোনে বসে, তাঁতে কাপড় বোনাও অসমিয়া জাতি ও জনজাতীয় মহিলাদের রোজনামচার অংশ? উজানি থেকে নামনি, অসমের প্রত্যন্ত গ্রামের ঘরে ঘরে, মাকুর চালে আর রঙিন সুতোর পরতে পরতে দিনের পর দিন বোনা হয় সোনালি স্বপ্নের জাল।

স্বপ্নই বলা ভালো, কারণ যে দেশের জমি ফি বছরের বন্যায় বছরের প্রায় ছয় মাস জলের তলায় থাকে, সেখানকার মানুষের হাতেই পরম মমতায় যে সব অসাধারণ বয়ন আর নকশা তৈরি হয়, তা এক কথায় অভাবনীয়।

আমাদের ফি বছরের দুর্গাপুজোও তো আমাদের সারা বছরের স্বপ্নের ফসল। তাই দুই প্রদেশের স্বপ্নকে মিলিয়ে এ বারের পুজোয় আপনার সাথী হোক না অসমের পোশাক।

খবর অনলাইনের পাঠকদের জন্য এক্সক্লুসিভ কালেকশন-এর সন্ধানে পৌঁছে গেছিলাম গুয়াহাটিতে থাকা বেশ পুরোনো একটি বুটিক, ‘কঁহুয়া’-তে। এরা কোনো বড়োসড়ো দোকান নয়, কিন্তু অনেক দিন ধরে এরা সবার অলক্ষ্যে কাজ করে চলেছেন প্রত্যন্ত গ্রামের বয়নশিল্পীদের সঙ্গে। কঁহুয়ার কর্ণধার অপরাজিতা বড়ুয়ার মতে, ওই প্রত্যন্ত অঞ্চলের বয়নশিল্পীরা অসম্ভব প্রতিভাশালী হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের কাজের ঠিক দাম পান না। কারণ তাঁদের পক্ষে ঠিক ক্রেতার কাছে পৌঁছোনো দুষ্কর। তাই অনেক সময় এই কাজ বন্ধ করে দেওয়ার কথা ভাবেন এ সব বয়নশিল্পী। এদের বাঁচাতেই এই কাজে হাত দিয়েছেন বড়ুয়া-দম্পতি। আর বাজারের চাহিদা অনুযায়ী ডিজাইন তৈরির জন্য এঁদের সঙ্গে আছেন সিঙ্গাপুরের একটি ডিজাইনার সংস্থা।

যোগাযোগের নম্বর:  ৮৬৩৮৬১৪৩০৯ (গুয়াহাটি), ৮২৪০১৭৮৫২৫ (কলকাতা)। 

কী কী পাওয়া যাবে তা হলে কঁহুয়ার ভাণ্ডারে?

কঁহুয়ার আরেক কর্ণধার অঞ্জন বড়ুয়া জানালেন, যে হেতু অসমের পোশাক, তাই ‘মেখলা-চাদর’ তো থাকছেই।

‘টু পিস শাড়ি’ নামে শুধু দেশে নয়, বিদেশেও নাকি আজকাল খুব জনপ্রিয় মেখলা-চাদর।

এটি পরা আর বহন করা শাড়ির থেকে বেশি সুবিধাজনক, আবার পরার পর অনেকটাই শাড়ির মতো দেখায় তাই এ বার পুজোয় আপনার পছন্দ হয়েই যাক না মেখলা-চাদর।

কঁহুয়ায় আপনি পেয়ে যাবেন,অসম-সিল্ক, নুনিপাত (র সিল্ক), এরি সিল্ক, তসর, মুগা, এমনকি বিশেষ ধরনের অসম-কটনের মেখলা-চাদরও। তাই দৈনন্দিন ব্যবহার থেকে পার্টিওয়্যার, সব রকম ভাবেই এই পোশাক আপনার কাজে লাগবে।

কিন্তু শুধু মেখলাই নয়, কঁহুয়ার সম্ভারে আছে শাড়ির খুবই এক্সক্লুসিভ একটি কালেকশন। এরির ওপর নেট, ভেজিটেবিল ডাই-এর কাজ করা, ট্রাইবাল মোটিফ-এর কাজ করা, মুগা সুতোর কাজ করা, প্লেন মুগাউইভ। এ ছাড়াও, ট্রাইবাল কটন, তসর ইত্যাদিও পাবেন এখানে। এক্সপোর্ট কোয়ালিটির এই সব শাড়ি এক কথায় অসামান্য।

অসমের বয়নের বিশেষত্ব প্রসঙ্গে বড়ুয়া দম্পতি জানালেন, ‘মুগা’ খুবই দুস্প্রাপ্য হয়ে পড়ছে দিনে দিনে। আর এটি হল, সেই সিল্ক যা সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে আপনার ত্বককে আগলে রাখে। তাই বেশির ভাগ প্রোডাকশনই বিদেশে চলে যাচ্ছে।

আর ‘এরি’ সিল্কের বিশেষত্ব হল এটি শীত-গ্রীষ্মে আপনাকে শীততাপ নিয়ন্ত্রিত রাখে। প্রত্যেক বার ধোওয়ার পর এর জৌলুস বাড়তে থাকে। এই দুই ধরনের জিনিসই আপনার বংশ পরম্পরায় সংগ্রহে রাখার উপযুক্ত।

এবং এদের প্রত্যেকটি জিনিসই অরগানিক আর ইকোফ্রেন্ডলি।

যোগাযোগের নম্বর:  ৮৬৩৮৬১৪৩০৯ (গুয়াহাটি), ৮২৪০১৭৮৫২৫ (কলকাতা)। 

এ সবের সঙ্গে আছে কটনের ওপর অসমের মিশিং জনজাতির ট্রাইবাল জিওমেট্রিক মোটিফ-এর কাজ, খুবই সূক্ষ্ম এবং রঙিন কাজ। নিজের চোখে দেখে আর হাতে পরখ না করলে জীবনে সত্যিই কিছু মিস করবেন।

শাড়ি, মেখলা ছাড়াও ড্রেস মেটিরিয়াল, স্টোল, আনস্টিচড ফেব্রিকও থাকছে এদের কালেকশনে। আপনার পকেট ও পছন্দ অনুযায়ী বেছে নিতে পারবেন সব কিছুই।

সেই সুদূর অসমের প্রত্যন্ত অঞ্চলের এক গাঁয়ের বঁধূর কল্পনা আর ভালোবাসায় বোনা বিচিত্র রঙ আর নকশার এই সব চালচিত্র আপনার সংগ্রহে থাকা মানেই,যাকে বলে ‘আপনার গর্ব, পড়শির ঈর্ষা’ ।

মনে মনে নিশ্চয়ই ভাবছেন এসব কিনতে কি অসম দৌড়বেন!? না না তার দরকার নেই। কঁহুয়া তাঁর সম্ভার নিয়ে কলকাতায় উপস্থিত থাকবে আগামী  ১৪ আর ১৫ জুলাই, বেলা ১২টা থেকে ৮টা, বালিগঞ্জের উইভারস স্টুডিও সেন্টার-এর  ‘সায়েবানা’ একজিবিশনে। তা হলে আর দেরি না করে নিজের ক্যালেন্ডারে দাগ দিয়ে রাখুন। আপনার পুজোর কেনাকাটা শুরু হোক কঁহুয়ার সঙ্গেই।

যোগাযোগের নম্বর:  ৮৬৩৮৬১৪৩০৯ (গুয়াহাটি), ৮২৪০১৭৮৫২৫ (কলকাতা)। 

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here