অন্য গয়নার অচেনা ‘সাজ’-এ উজ্জ্বল হতে পারে আপনার এবারের দুর্গাপার্বণ

0
1075
মৈত্রী মজুমদার

পুজোর সাজের কথা বলতে শুরু করলেই মনে ভেসে ওঠে ‘পরনে ঢাকাই শাড়ি কপালে সিঁদুর’ পরিহিতা সালংকৃতা মহিলাদের ছবি। পুজোই তো সময় যখন পা থেকে মাথা পর্যন্ত সব ধরনের গয়নায় সেজে উঠে চুরির কিঙ্কিনি বা নূপুরের রুনঝুন শব্দে বাড়ি মাতিয়ে রাখা যায়। তবে আজকের দিনে বাঙালির দুর্গা পুজো তো আর শুধুমাত্র আটপৌরে ভাবগম্ভীরতায় সীমাবদ্ধ নয়। দুর্গোৎসব সেই কবেই ধর্মীয় পরিসর ছেড়ে আন্তর্জাতিক কার্নিভ্যালে পরিণত হয়েছে, তাই পোশাক থেকে গয়না, পুজোর ফ্যাশন নিয়ে আলোচনাতে গেলে, সব ক্ষেত্রেই বেশ বড়ো পরিসরে আলোচনা করতে হয়।

আজ তাই ভাবলাম কাপড়জামা ছেড়ে একটু গয়নার বিষয়ে আলোচনা করি। গয়না ছাড়া মেয়েদের সাজ কখনওই সম্পূর্ণ নয়। আর গয়না বলতে আজ আর মহিলারা শুধুমাত্র তথাকথিত সোনা, রুপা, হিরে ইত্যাদি দামি জিনিসে আটকে নেই। আর ইমিটেশনের গয়না মানেও আজ আর সস্তার গয়না বোঝায় না।  বিভিন্ন ধরনের মেটেরিয়ালের আর সৃজনশীলতার মেলবন্ধনে গয়নার এক বিরাট বিবর্তন আজকের দিনে দেখা যাচ্ছে। আর সেই গয়না ছাড়া পুজোর ‘সাজ’-এর পরিকল্পনা নৈব নৈব চ।

‘গয়না সেই জিনিস যার মাত্র একটির ব্যবহারে আপনি হয়ে ওঠেন অনন্যা। হতে পারে আপনার পোশাক অন্য অনেকের মতো কিন্তু আপনার ব্যবহৃত সেই একমাত্র গয়না আপনার পুরো লুকটাকেই পালটে দিতে পারে চোখের নিমেষে’।  …আলোচনার শুরুতেই এ কথা বললেন ‘সাজ’ গয়নার বুটিকের কর্ণধার মৌ গুপ্তা।

সাজ বুটিকের পথ চলা শুরু ২০১৪ সাল থেকে। পেশাগত ভাবে অন্দরসজ্জা-বিশারদ মৌ গুপ্তা নিজের সাজের প্রয়োজনেই শুরু করেছিলেন গয়না বানানো। বাজারচলতি গয়নার সঙ্গে নিজের সাজের মেলবন্ধন পছন্দসই ছিল না তাঁর। এভাবেইশুরু। তারপর বন্ধুবান্ধব, প্রিয়জনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তাঁর গয়না। আসতে থাকে অর্ডার। সেই শুভেচ্ছা পাথেয় করেই ‘সাজ’-এর যাত্রা শুরু।

সম্প্রতি বালিগঞ্জের উইভারস স্টুডিও-তে হয়ে গেল ‘সাজ’-এর প্রদর্শনী। মূলত বিভিন্ন ট্রাইবাল জায়গা থেকে উপাদান সংগ্রহ করে তাকে একটি সমকালীন লুক দেওয়ার চেষ্টা করেছেন মৌ। এছাড়াও উত্তরপূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জনজাতির ব্যবহৃত গয়নাও চোখে পড়ল ‘সাজ’-এর কালেকসনে।

গয়নার কথা উঠলেই শাড়ির কথা এসে যায়, কিন্তু ‘সাজ’-এর গয়নার বিশেষত্ব হল, যে কোনো ধরনের পোশাকের সঙ্গেই মানানসই হবে এই কালেকশন। এথনিক, ওয়েস্টার্ন, ইন্দোওয়েস্টার্ন- পোশাক যাই হোক; ‘সাজ’-এর গয়না সম্পূর্ণ করবে আপনার সাজকে।

বাজারে তো হাজার ধরনের জিনিস পাওয়া যায়,তাহলে আপনার কাছে আসবে কেন ক্রেতা? এর উত্তরে মৌ বলছেন, “ ‘সাজ’-এর বিশেষত্ব হল কাস্টমাইজড ডিজাইন। ক্রেতা তাঁর নিজের পছন্দ অনুযায়ী এবং বাজেট অনুযায়ী গয়না অর্ডার করে বানাতে পারেন ‘সাজ’-এর স্টুডিওতে। বিভিন্ন ধরনের সেমি প্রেসাস, স্টোন, বিডস, ক্রিস্টাল, মেটাল, উইভ আমাদের কাছে আছে এবং আমরা নিজেদের ডিজাইনের পাশাপাশি ক্রেতার সুবিধা আর পছন্দের কথা মাথায় রেখে ডিজাইন করে দিয়ে থাকি। শুধু তাই নয়, কেউ যদি তাঁদের সোনা বা রুপার গয়নায় নতুনত্ব আনতে চান, আমাদের কাছে নিয়ে এলে আমরা সেটাও মেকওভার করে থাকি”।

“আর আমাদের কাছে কিছু অথেন্টিক ট্রাইবাল কালেকশনও আছে যা সচরাচর অন্য কোথাও পাওয়া যাবেনা”।

‘সাজ’-এর সঙ্গে যোগাযোগের জন্য নীচে দেওয়া নম্বরে ফোন করে পৌঁছে যেতে পারবেন।

যোগাযোগ: ৮২৪০৮৮২২৩৫, ৯৮৩১৬৫৮৭৩১

তাহলে আর দেরি কিসের, পুজোর কেনাকাটা যখন শুরু করেই দিয়েছেন গয়নাই বা বাদ থাকে কেন?

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here