last year's puja of roy family
রায়বাড়ির গত বারের পুজো। নিজস্ব চিত্র।
ইন্দ্রাণী সেন

বাঁকুড়া: স্বয়ংবরসভায় অপমানিত হয়ে শুরু করেছিলেন দুর্গাপুজো। হুগলি জেলার কামারপুকুর এলাকায় স্বয়ংবর সভায় গিয়েছিলেন কোতুলপুরের দারাপুর গ্রামের জমিদার দর্পনারায়ণ রায়। ভরা সভায় উপস্থিত সকলের সামনেই কন্যাপক্ষের তরফে জমিদারবাবুকে প্রশ্ন করা হয় দুর্গাপুজো হয় কি না। জমিদার নিরুত্তর থাকেন। এর পর  জমিদারের কাছে জানতে চাওয়া হয় তিনি শিবলিঙ্গ প্রতিষ্ঠা করেছেন কিনা। এরও কোনো উত্তর দিতে পারেননি তিনি। কন্যাপক্ষ উত্তর না পাওয়ায় জমিদারবাবুকে অপমান করে কন্যাদান করতে অস্বীকার করেন। ভগ্ন হৃদয় জমিদার দর্পনারায়ণ বাড়ি না ফিরে তারকেশ্বরে চলে যান। সেখান থেকে বারোটি শিবলিঙ্গ নিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। এলাকায় প্রতিষ্ঠা করেন বারোটি শিবলিঙ্গ। সঙ্গে সঙ্গেই শুরু করেন দুর্গাপুজো ও বাসন্তীপুজো। তার পর থেকেই প্রায় সাড়ে তিনশো বছর ধরে রীতিনীতি মেনেই দারাপুর গ্রামের রায়বাড়িতে পুজিত হচ্ছেন দেবী মহামায়া। পুজো শুরু হওয়ার এই হল প্রচলিত কাহিনি।

idol ,aking is going on
চলছে মূর্তি গড়ার কাজ। নিজস্ব চিত্র।

এখানে পুজো শুরু হয় প্রতিপদের দিন থেকে। স্থানীয় পুকুরে ঘট তুলে শুরু হয় দেবী আরাধনা। তবে প্রথমেই রায় পরিবারের কুলদেবতা দামোদরজিউ ও শীতলামায়ের পুজো হয়। এই পুজো চলে ষষ্ঠীর দিন পর্যন্ত।ষষ্ঠীর দিন রীতিনীতি মেনেই দেবীর বোধন, সপ্তমীতে ঘট স্থাপনের মধ্য দিয়েই চলে দেবীবন্দনা। পুজোর চার দিন নানা ধরনের নৈবেদ্য সাজিয়ে দেবীকে অর্পণ করা হয়। এ ছাড়াও চার দিন ধরে চণ্ডী পাঠ ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও অনুষ্ঠিত হয়।

durgadalan of roy family
রায়বাড়ির দুর্গাদালান। নিজস্ব চিত্র।

বর্তমান প্রজন্মের রায় পরিবারের সদস্য সন্তোষ রায় বলেন, কয়েক পুরুষ আগে তাঁদেরই পুর্বপুরুষ শুরু করেছিলেন এই দুর্গাপুজো। একচালা কাঠামোয় দেবী অবস্থান করেন। তিনি আরও বলেন, ষোলো রকম পদ দিয়ে দেবীকে পুজোর চার দিন ভোগ নিবেদন করা হয়। এর মধ্যে অন্যতম হল চালতার চাটনি। এ ছাড়াও ভাত, ঘি, কাগজি লেবু, চার পাঁচ রকমের তরকারি, ভাজাভুজি, খিচুড়ি, পায়েস। মিষ্টি ইত্যাদি।

আরও পড়ুন বাঁকুড়ার দিগতোড়ের ক্ষত্রিয় ষোলোআনা দুর্গাপুজোর এ বার ১২৫ বছর

শুধুমাত্র চালতারই চাটনি কেন এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে সন্তোষবাবু বলেন, বাড়ির বড়োদের কাছে শোনা চালতা দেবী দুর্গার অত্যন্ত পছন্দের। তাই দুর্গাপুজোর চার দিনই দেবীকে এই চাটনি নিবেদন করা হয়। সম্প্রতি দেবী দুর্গার নতুন মন্দির প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে পরিবারের সকলের প্রচেষ্টায়।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন