barisha barobagan cultural association
বড়বাগান কালচারাল আ্যাসোসিয়েশনের মণ্ডপসজ্জা। নিজস্ব চিত্র।

শৌভিক পাল

সমাজে তাদের জায়গা একেবারে নীচে। সাধারণ মানুষের থেকে তারা অনেকটা আলাদা। ওরা তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ। যদিও এই ভেদাভেদের দাগ টেনেছে আমাদের সমাজই। কিন্তু ওদেরও যে একটা স্বপ্ন আছে, ইচ্ছে আছে, ওদেরও যে বাঁচার অধিকার আছে তা আমরা ভুলে গেলেও ভোলেননি বড়িশার বড়বাগান কালচারাল আ্যাসোসিয়েশন ক্লাবের মণ্ডপশিল্পী উপাসনা চ্যাটার্জি। তাই ক্লাবের এ বারের থিমে থাকছে সেই সমস্ত তৃতীয় মানুষের দিনযাপনের কথা।

আরও পড়ুন সুকান্তর ‘ক্ষুধার পৃথিবী’ বেহালার দেবদারু ফটকের মণ্ডপে

মণ্ডপে প্রবেশ করতেই দেখা যাবে আস্ত একটা মানুষের মুখমণ্ডলের সঙ্গে মিশে গেছে ছাগলের মুখ। শিল্পী বোঝাতে চেয়েছেন তৃতীয় লিঙ্গের মানুষগুলো যেন বলির পাঁঠা এই সমাজে। এ ছাড়াও মণ্ডপে তিনটে ঘর দেখা যাবে। যেখানে প্রথম ঘরে সাজানো রয়েছে অসংখ্য রেডিও। রেডিওর ফ্রিকুয়েন্সি দিয়ে শিল্পী বোঝাতে চেয়েছেন, আমরা রেডিওর বার্তায় তাদের বঞ্চিত করে রেখেছি।

pandal decoration of barobagan cultural association
মণ্ডপসজ্জায় ছাগলের মুখ। নিজস্ব চিত্র।

দ্বিতীয় ঘরে সাজানো রয়েছে অসংখ্য সংবাদপত্র। যে সব কুৎসা মন্তব্য ওদের নিয়ে আমরা সংবাদপত্রে করে থাকি তা যেন বন্ধ হয়। এই বার্তাই পৌছে দিতে শিল্পীর এই চিন্তাভাবনা।

তৃতীয় ঘরে শিল্পী তুলে ধরেছেন ওদের থাকার ঘরের পরিবেশ। তার পর দেখা যাবে মা তার ছেলে গণেশকে কোলে নিয়ে বসে আছেন স্বয়ং সেই তৃতীয় লিঙ্গের মানুষেরই ঘরে। মণ্ডপটি প্রায় ৩০লক্ষ টাকা ব্যয় করে সাজিয়েছেন শিল্পীরা।

আরও পড়ুন ‘আমার অলিন্দে’ দাঁড়িয়ে ৮১-র কাশী বোস

বস্তাপচা বিশ্বাস, ধারণা পালটে দিয়ে এরা যে অপবিত্র নয় এটা বিশ্বাস করা, তা তো শুধু এই লেখা পড়ে বোঝা সম্ভব নয়। তাই একবার গিয়েই দেখুন না সেখানে, কে বলতে পারে হয়তো বা ওদের নিয়ে আপনার মনের ভ্রান্ত বিশ্বাসও ভেঙে যেতে পারে।বড়বাগান কালচারাল আ্যাসোসিয়েশনের পুজোর এ বার ৩৮তম বছর। গত বছরের থিম ছিল, যুদ্ধং নয় বুদ্ধং দেহী নমস্তুতে।

পথনির্দেশ

বেহালা শিলপাড়া / কদমতলা বাসস্ট্যান্ড থেকে জেমস লঙ সরণি ফায়ার ব্রিগেডের কাছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন