md ali park puja
মহম্মদ আলি পার্কে চিতোরগড়। নিজস্ব চিত্র।
smita das
স্মিতা দাস

সঞ্জয় লীলা বনসালির ‘পদ্মাবত’-এর কথা মনে আছে? ঐতিহাসিক চলচ্চিত্র বানাতে গিয়ে তাই নিয়ে সে কি তুমুল বিতর্ক, হইচই, ভাঙচূর? যতই যা-ই হোক লাভের মধ্যে একটাই, গোটা ইতিহাস এই বিতর্কে উন্মোচিত হয়। যে কথা অনেকেই জানত না সে কথা সবাই জেনে যায়। তা হল রানি পদ্মাবতীর বীরত্ব। কেন তিনি করেছিলেন জহরব্রত ইত্যাদি এমন কথাই। যা নারীশক্তির প্রকাশ। সেই পদ্মাবতীর নারীশক্তিকে দেবী দুর্গার শক্তির সঙ্গে মিলিয়ে দিতে এ বার কি না দুর্গাপুজোয় সেই ‘পদ্মাবত’! না না কোনো ভাঙচূর নয়। রয়েছে রাজস্থানের চিতোরগড় দুর্গের ক্ষুদ্র সংস্করণ। সিনেমায় দেখানো নকল নয়, এক্কেবারে আসল দুর্গের আদলে তৈরি হয়েছে মণ্ডপ। আর সেই মণ্ডপ হয়েছে মধ্য কলকাতা ছুঁই ছুঁই দুর্গাপুজো মণ্ডপ মহম্মদ আলি পার্কে।

৫০তম বর্ষে মহম্মদ আলি পার্কের প্রচেষ্টা ‘পদ্মাবত’। থিমশিল্পী প্রশান্ত পাল। প্রশান্তবাবু বলেন, গোটা মণ্ডপটি প্রায় ৪৫ ফুটের। তাতে ব্যবহার করা হয়েছে প্লাই, আর বিশেষ ধরনের থার্মাল পদার্থ।

decoration at md. ali park
মহম্মদ আলি পার্কে মণ্ডপসজ্জা। নিজস্ব চিত্র।

এই থিম ভাবনার পর রাজস্থানে গিয়ে চিতোরগড় দুর্গ দেখে এসে এই মণ্ডপ নির্মাণের সিদ্ধান্তটি পাকা করেন কমিটি সদস্যরা, জানান জয়েন্ট সেক্রেটরি অশোক ওঝা। প্রায় ছয় মাস ধরে তৈরি হচ্ছে মণ্ডপ। আশা করছেন একটি ছোট্টো রাজস্থান উপহার দিতে পারবেন দর্শনার্থীদের। মণ্ডপের ভেতর বাইরে গোটাই তৈরি হয়েছে হুবহু দুর্গের আদলে। বাইরে রয়েছে ঘুমর নাচের প্রতীকী ব্যবস্থা। ভেতর বাইরে পুরোটাই রাজস্থান। রয়েছে সৈনিক, রাজকীয় বেশে সুসজ্জিত হাতি। দেবী প্রতিমাও রাজস্থানী বেশভূষায় বিরাজ করবেন মণ্ডপে। দেবীর পরনে থাকছে রানির বেশ। তাতে রয়েছে রাজস্থানের ঘাঘরা, ওড়না, গয়না ইত্যাদি যাবতীয় জিনিস। এ বছরের প্রতিমা শিল্পী মেদিনীপুরের কুশ বেরা।

দ্বিতীয়ায় মহম্মদ আলি পার্কের পুজো উদ্বোধন করবেন মুখমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আরও পড়ুন রবিঠাকুর রয়েছেন ৭৬ বছরের চালতাবাগানে

গত বছর মহম্মদ আলি পার্কের প্রতিমা ঘিরে জোড় বিতর্ক দানা বাঁধে। বিতর্কের মুখে বন্ধ হয়ে যেতে বসেছিল মণ্ডপ দর্শন। কারণ ছিল দেবীর পায়ের কাছে ডাক্তারবেশী অসুরের মূর্তি। তা দেখেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে গোটা চিকিৎসক মহল। সেখানে দেখানো হয়েছিল চিকিৎসক রোগীর কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন। বিষয়টি আদালত পর্যন্ত টেনে নিয়ে যাওয়ার হুমকিও দেয় চিকিৎসক সংগঠন। বাধ্য হয়েই তড়িঘড়ি চিকিৎসকরূপী অসুরকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

পথনির্দেশ

চিত্তরঞ্জন অ্যাভেনিউ ও মহাত্মা গান্ধী রোডের সংযোগস্থলের কাছে চিত্তরঞ্জন অ্যাভেনিউয়ে মহম্মদ আলি পার্ক। পার্কের মধ্যেই বিশাল মণ্ডপ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন