৫২ বছরে ‘তেলেঙ্গাবাগান সর্বজনীন’, থিম শিশুশ্রমিকদের জগৎ

0
স্মিতা দাস

পুজোর হালহদিসে এই পর্বে রয়েছে ‘উলটোডাঙা তেলেঙ্গাবাগান সর্বজনীন’-এর সঙ্গে আলাপচারিতা।

‘উলটোডাঙা তেলেঙ্গাবাগান’-এর এ বার বাহান্নতম বর্ষ। এই বর্ষে কী থিম নিয়ে মণ্ডপসজ্জার পরিকল্পনা করছেন পুজোকর্তারা? খবর অনলাইন প্রশ্ন করেছিল তেলেঙ্গাবাগানের থিম শিল্পী পার্থ ঘোষকে।

পার্থবাবু এ বছরের থিমের নাম এখনই বলতে চাননি। তবে বিষয়টা কী স্পষ্ট ভাবেই জানিয়েছেন।

পার্থবাবু বলেন, মণ্ডপসজ্জার বিষয় শিশুশ্রমিকদের সমাজের মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনা। থিমে যেটা বলতে চাওয়া হয়েছে তা হল, শিশুশ্রমিকদের মধ্যে শিক্ষার আলো জ্বালাতে হবে। তাদেরও স্বপ্ন আছে। সেগুলো পূরণ করার দায়িত্ব সমাজের। তাদেরও ইচ্ছা করে বাবার হাত ধরে ঠাকুর দেখতে যেতে। রিকশা চালাতে চালাতে তারাও রিকশা ছেড়ে দৌড়ে যায় কাটা ঘুড়ি ধরতে। তাদের জীবনের কঠোর বাস্তব আর স্বপ্ন, এই দু’টোকেই তুলে ধরা হবে। তাদের রঙিন আকাশটা ফিরিয়ে দেওয়ার কথাই থিমের মাধ্যমে বলতে চাওয়া হবে। এগুলো পাওয়ার অধিকার তাদেরও আছে। এই মূল ভাবনাটাকে কেন্দ্র করে গোটা মণ্ডপসজ্জা করা হবে।

থিম ভাবনায় কারা, জানতে চাওয়া হলে পার্থবাবু বলেন, ভাবনা দু’ জন থিমশিল্পীর মিলিত প্রয়াসে আর ক্লাবসদস্যদের সম্মিলিত মতামতেই উঠে এসেছে। তিনি জানান, তিনি আর তাঁর ভাই সিদ্ধার্থ ঘোষ, এই দু’ জনেই থিমের দায়িত্বে আছেন। দু’ জনেই দক্ষিণ কলকাতার শিল্পী।

প্রতিমাশিল্পী কে? পার্থবাবু জানান, নবকুমার পাল এ বছরেও প্রতিমা তৈরির দায়িত্বে রয়েছেন। গত বারেও তিনিই ছিলেন প্রতিমাশিল্পী।

আরও পড়ুন: ২৬০ বছরে পা কলকাতার প্রথম জাঁকজমকের দুর্গাপুজোর

জানতে চেয়েছিলাম, মণ্ডপসজ্জায় কী ধরনের জিনিস ব্যবহার করা হবে? তিনি বলেন, নানা ধরনের জিনিস। প্রথমত থাকবে গ্লাস ফাইবার আর লোহার ব্যবহার। এ ছাড়াও প্রয়োজনমতো থাকবে  বাঁশ কাপড়, প্লাই, দড়ি, আরও অন্য রকমের বিশেষ কিছু উপকরণ।

কথায় কথায় পার্থবাবু জানালেন, গত বছরের থিম ছিল ‘ও পারের সাজে এ পারের উৎসব’। বলেন, বাংলাদেশের নববর্ষের উৎসবকে ঘিরে এই থিম ভাবা হয়েছিল। কারণ বাংলাদেশে নববর্ষের উৎসবই শ্রেষ্ঠ উৎসব। আর পশ্চিমবঙ্গে দুর্গাপুজো। এই দু’টো মেলানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। বাংলাদেশে রাস্তাঘাট নববর্ষের সময়ে বিশেষ ধরনের সুন্দর আলপনায় ভরিয়ে তোলা হয়। তেমনই আলপনা দিয়ে ভরে দেওয়া হয়েছিল আমাদের মণ্ডপ ও সামনের পথ। বাংলাদেশের ১৫০ বছরের পুরোনো মূর্তির আদলে প্রতিমা তৈরি করা হয়েছিল। নববর্ষের দিন ওখানে যেমন ভোরবেলা প্রভাতফেরি বেরোয়, তেমনই পরিবেশটা প্রভাতফেরির মতো করে তুলে ধরা হয়েছিল। এ দেশের বিখ্যাত গায়ক প্রতুল মুখোপাধ্যায়ের গাওয়া গান ‘আমি বাংলায় গান গাই’ থিম সং হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছিল। কিন্তু গানটা গেয়েছিলেন ও-পারের বিখ্যাত গায়ক সামসুজ্জামান। এই মেলবন্ধনটা মণ্ডপের আনাচেকানাচে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল। গত বারেও থিমের দায়িত্বে ছিলেন পার্থবাবুই।

মণ্ডপসজ্জায় ব্যবহার করা হয়েছিল মুখোশ, থার্মোকল, পিচ বোর্ড, গ্লাস ফাইবার ইত্যাদি। এগুলো দিয়ে ট্যাবলো আর মূর্তি তৈরি করা হয়েছিল।

উলটোরথের দিন আয়োজন করা হয়েছে ‘উলটোডাঙা তেলেঙ্গাবাগান’-এর খুঁটি পুজো।

‘উলটোডাঙা তেলেঙ্গাবাগান’-এর সর্বজনীন পুজোমণ্ডপ খান্নার মোড় থেকে উলটোডাঙা স্টেশনে যাওয়ার পথে পড়ে। অরবিন্দ সেতু থেকে নেমে কিছুটা গিয়ে বাঁ হাতে তৃতীয় যে পুজোমণ্ডপটি পড়ে সেটাই তেলেঙ্গাবাগানের মণ্ডপ। একটু এগোলেই বাঁ হাতে গলির ভেতর পুজো।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন