telengabagan
মণ্ডপ তৈরির কাজ চলছে তেলেঙ্গাবাগানে। নিজস্ব চিত্র।
smita das
স্মিতা দাস

সূর্যোদয়ের দেশ ভারতবর্ষ। জাতি-ধর্ম-বর্ণের ঊর্ধ্বে উঠে ধর্মনিরেপেক্ষ দেশ ভারত। ৭২ বছর আগে দেশ স্বাধীন করার পেছনে বেশ কয়েকটি মূল উদ্দেশ্যের পেছনে আরও একটি লক্ষ্য এটিও ছিল স্বাধীনতা সংগ্রামী মহামানবদের। লক্ষ্য ছিল ধর্মের দীনতা মলিনতা ঘুচিয়ে, সাম্প্রদায়িক বিরোধ মিটিয়ে, বিচ্ছিন্নতা পেরিয়ে একটি সুন্দর দেশ হিসাবে গড়ে উঠুক স্বপ্নের ভারতবর্ষ। পরাধীনতার বেড়া ভেঙে যেন একে অপরের হাতে হাত মিলিয়ে মানববেড়াও গড়ে তোলা যায় মানবকিতার স্বার্থে। দুর্বিনীত অন্যায় অপশাসন আর শক্তির বিরুদ্ধে।

কিন্তু হায়। কোথায় সেই স্বপ্নপূরণ। চারিদিকে খালি স্বপ্নভঙ্গের শব্দে রক্তাক্ত হচ্ছে গোটা জাতি। চারিদিক আবদ্ধ বিভেদের কানাজালে। কিন্তু উৎসব নিয়ে আসে আশার আলো। নতুন আশ্বাস। বাঙালির শ্রেষ্ঠোৎসব দুর্গাপুজো। সেই পুজোকে কেন্দ্র করে তাই স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ওই স্বপ্নকে শ্রদ্ধা জানিয়ে সেই ‘আলোর পথ যাত্রী’দের শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করা হচ্ছে তেলেঙ্গাবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসবে। ৫৩তম বর্ষে ইচ্ছা ঘোর অন্ধকারে পথ দেখাতে আরও একবার তাঁদের জীবনজ্যোতি জ্বালিয়ে তোলা, যা আলোকবর্তিকা হয়ে উঠবে সকলের জীবনে, পূণ্যভূমিতে পরিণত হবে পাপপূর্ণ এই ধরাধাম।

আরও পড়ুন মধেরার সূর্য মন্দির দেখবেন? চলুন সিংহি পার্ক সর্বজনীনে

হ্যাঁ, ঠিক মনে হচ্ছে। তেলেঙ্গাবাগানের এই বছরের মণ্ডপসজ্জা আর থিম হল ‘আলোর পথযাত্রী’। থিমের মধ্য দিয়ে সেই মহান আত্মাদের প্রতি আবেদন জানানো হচ্ছে, তাঁরা যেন আবার আবির্ভূত হয়ে সমাজের এই কলুষতা দূর করেন।

last year's theme child labour
গত বারের থিম ‘শিশুশ্রম’। নিজস্ব চিত্র।

এই বছরেও থিম ভাবনা, মণ্ডপসজ্জা আর রূপায়ণে রয়েছে শিল্পী পার্থ ঘোষ আর সিদ্ধার্থ ঘোষের যুগলবন্দি। শিল্পী পার্থ ঘোষ জানান, গোটা মণ্ডপটি তৈরি হচ্ছে এরই অনুষঙ্গে। মণ্ডপময় থাকছে মানানসই নানান ভাস্কর্য, স্থাপত্য আর ইন্সটলেশন। হাসিমুখে মৃত্যুকে বরণ করেছেন তাঁরা। তাই তাঁদের উদ্দেশে রয়েছে বিশাল বিশাল বরমাল্য। সমগ্র বিষয়টি গড়ে তোলা হবে গ্লাস ফাইবার, মেটাল ইত্যাদি সামগ্রীর ব্যবহারে। আর মা বিরাজ করবেন তাঁর রুদ্রাণী বেশে। মায়ের এই রুদ্ররূপ গড়ার দায়িত্বে রয়েছেন দীপ্তরেখ ভড়।

পথনির্দেশ

‘উলটোডাঙা তেলেঙ্গাবাগান’-এর সর্বজনীন পুজোমণ্ডপ খান্নার মোড় থেকে উলটোডাঙা স্টেশনে যাওয়ার পথে পড়ে। অরবিন্দ সেতু থেকে নেমে কিছুটা গিয়ে বাঁ হাতে তৃতীয় যে পুজোমণ্ডপটি পড়ে সেটাই তেলেঙ্গাবাগানের মণ্ডপ। একটু এগোলেই বাঁ হাতে গলির ভেতর পুজো।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন