৬৯–এ সম্মিলিত লালাবাগান সর্বজনীন, এ বারের থিম ‘শূন্য’

0
413
স্মিতা দাস

আর ৮১ দিন। দেখতে দেখতে দিন এগোচ্ছে। এই শুরু হয়েছিল ১০০-র কাউন্ট ডাউন। কেটে গেল ১৯ দিন। প্যান্ডেল, থিম সব কিছু নিয়েই পাড়ায় পাড়ায় চলছে জোরদার তোড়জোড়।

পিছিয়ে নেই খবর অনলাইনও, পুজোর আমেজ নিয়ে এসেছে প্রায় এক পক্ষকাল আগে থেকেই।

এই পর্বে রয়েছে ‘সম্মিলিত লালাবাগান সর্বজনীন’-এর মাঠের খবর। ৬৯ বছরে পড়ল এই পুজো। পুজোর খবরাখবর করতে কথা বলেছিলাম পুজো কমিটির সেক্রেটারি পার্থরঞ্জন ঘোষের সঙ্গে।

পার্থবাবু জানালেন, সেক্রেটারির পাশাপাশি আর্টিস্টের দায়িত্বও পালন করেন তিনি। থিম ভাবনা, রূপায়ণেও থাকে তাঁর সমান অবদান। তবে এই বারে তাঁদের পরিকল্পনাটা একটু আলাদা। তাই বিশেষ কাউকে দিয়ে থিমের কাজ করাতে চান তাঁরা।

তা হলে কে রয়েছেন এ বারের থিমশিল্পী? কী করতে চলছেন এ বারের পুজোয়?

এর উত্তরে পার্থবাবু বলেন, এ বছরে ফ্যাশন ডিজাইনার শর্বরী দত্ত দায়িত্ব নিয়েছেন। ডিজাইনিং-এর দুনিয়ায় তিনি এক জন বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব। ফলে তাঁর চিন্তাভাবনাটাও অন্যদের থেকে বেশ কিছুটা আলাদা।

থিমের নাম কী?

সম্মিলিত লালাবাগান সর্বজনীনের ৬৯তম বছরের থিম ‘শূন্য’। ট্যাগ লাইন ‘ভো সম্ভো শিব শম্ভো স্বয়ম্ভু’।

সজ্জার কাজে কী কী জিনিস ব্যবহার করা হবে জানতে চাওয়া হলে পার্থবাবু খোলসা করে কিছু বলতে চাননি। শুধু বলেন, এই সব ব্যাপার পুজোর কিছু দিন আগে বলা হবে।

গত বারের থিম সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে পার্থরঞ্জনবাবু জানান, গত বছরে বেণিপুতুলের ওপর থিম পরিকল্পনা করা হয়েছিল। মেদিনীপুরের প্রত্যন্ত গ্রামের লুপ্ত একটা শিল্প এই বেণিপুতুল। এক দম অন্ধকারে তলিয়ে গিয়েছিল এই শিল্প, আতান্তরে পড়েছিলেন শিল্পীরা। তাই তাঁদের আবার আলোয় আনতে এই প্রচেষ্টা। এখনও ওই গ্রামে দু’ একটা পরিবার এই শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন। তাঁদেরই নিয়ে এসে একটা লাইভ শো করানো হয়েছিল। তা ছাড়াও গোটা মণ্ডপে প্রায় ১২০০ বেণিপুতুল ব্যবহার করা হয়েছিল।

এই বিশেষ ধরনের পুতুল সাধারণত পেপারপাল্প দিয়ে তৈরি করা হয়। তা ছাড়াও থার্মোকলেও তৈরি হচ্ছে। হাতগুলো করা হয় কাঠের। কারণ হাত দিয়ে শব্দ করার ব্যাপার থাকে।

পার্থবাবু জানান, গত বছরে সাতটা পুরস্কার পেয়েছিল তাঁদের পুজো। হ্যাটট্রিক ইয়ার ছিল একটা বিশেষ পুরস্কারের। তা ছাড়াও আরও ছয়টি পুরস্কার পেয়েছিলেন তাঁরা।

এ বছরের বাজেট কেমন রাখা হচ্ছে? পার্থবাবু বলেন, গত বছরের বাজেট ছিল ৭ লক্ষ। তবে এ বছরের বাজারের যা পরিস্থিতি তাতে খানিকটা কমতে পারে।

‘সম্মিলিত লালাবাগান সর্বজনীন’-এর খুঁটি পুজো ১৬ জুলাই।

‘সম্মিলিত লালাবাগান সর্বজনীন’-এর পুজোমণ্ডপ খান্নার মোড় থেকে উলটোডাঙা স্টেশনে যাওয়ার পথে পড়ে। অরবিন্দ সেতুতে ওঠার আগে গৌরীবাড়ি বাস স্টপে নেমে ডান হাতে যে রাস্তাটা ঢুকে গেছে পরেশনাথের মন্দিরের দিকে ওই রাস্তায়। কিছুটা হেঁটে লালাবাগান ময়দানের ওপরই ‘সম্মিলিত লালাবাগান সর্বজনীন’-এর পুজোমণ্ডপটি।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here