pandal decoration, ultodanga pallisree
উলটোডাঙা পল্লিশ্রীর মণ্ডপসজ্জা। নিজস্ব চিত্র।
smita das
স্মিতা দাস

মহাভারতের শেষে শ্রীকৃষ্ণের মৃত্যু আর তার পর এক বছরব্যাপী তাঁর চিতা জ্বলার ঘটনাটা মনে আছে? কিংবা তার পরের ধাপে রাজা ইন্দ্রদ্যুন্নের নীলমাধব দেখার ইচ্ছা থেকে ক্রমশ জগন্নাথের মূর্তি তৈরির পৌরাণিক ইতিহাস? এই সবটাই একটার সঙ্গে একটা সুতোয় গাঁথা। কারণ পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে শ্রীকৃষ্ণের মৃত্যূর পর চিতা জ্বলতে থাকে দীর্ঘ এক বছর। তার পর আকাশবাণী হয়, সেই চিতার জলন্ত অংশ জলে সমর্পণ করার জন্য। তার পর সেই আদেশানুসারে পাণ্ডবরা সেই চিতার জলন্ত অংশ সমুদ্রের হলে অর্পণ করেন। এর পর পুরীর রাজা ইন্দ্রদ্যুন্নের মনে ভগবানের অস্তিত্ব উপলব্ধির বাসনা জাগে। তাঁর মনের এই বাসনা পূরণ করতে ভগবান স্বয়ং সম্মুখে আবির্ভূত হন আর পুরীর সমুদ্রে ভেসে আসা কাঠের টুকরো দিয়ে জগন্নাথ মূর্তি গড়ার আদেশ দেন। তার পর কাঠ ভেসে আসে আর মূর্তি গড়ার কাজ শুরু হয় বৃদ্ধ কাষ্ঠশিল্পীর বেশে বিশ্বকর্মার হাতে। পরবর্তী ঘটনা সকলের কম বেশি জানা।

ultodanga pallisree
মণ্ডপসজ্জা। নিজস্ব চিত্র।

যা-ই হোক শিল্পী শুভময় সিনহা আর মলয় রায়ের চোখে এই দুই ঘটনা মিলেমিশে এক সূত্রে গাঁথা মালা হয়েছে। ৭০তম বর্ষে উলটোডাঙা পল্লীশ্রীর নিবেদন ‘অন্তহীন প্রাণ’। এই বিষয়কে মণ্ডপে ফুটিয়ে তুলতেই শিল্পী আশ্রয় নিয়েছেন শ্রীকৃষ্ণ আর জগন্নাথের। মণ্ডপের ভেতরে বিভিন্ন ভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই বিষয়। সেখানে মাতৃশক্তি অর্থাৎ নারীশক্তিকে প্রাণের ধারক শক্তি হিসাবে দেখানো হয়েছে। নারী না থাকলে অন্তহীন প্রাণের প্রকাশই অসম্ভব হয়ে পড়ত। তাই তাঁর প্রতীক হিসাবে মণ্ডপে ব্যবহার করা হয়েছে অসংখ্য শাড়ি।

আরও পড়ুন শুনেছেন আন্দামান এখন বড়িশা সর্বজনীনে!

প্রথমে ঢুকতেই রয়েছে প্রচুর ইনস্টলেশন। রয়েছে মানবদেহী কৃষ্ণের মূর্তি ঢুকতেই। তার পর রয়েছে জগন্নাথের চোখের ব্যবহার। তার পরের ধাপে রয়েছে দু’খানি দোলনা। তার একটিতে শ্রীকৃষ্ণ আর একটিতে জগন্নাথ। এই দোলনা দু’টি এক এমন কৌণিক দূরত্বে দর্শকের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে যে মনে হবে খুব কাছে, ধরে ফেলা যাবে। কিন্তু পারা যাবে না। সঙ্গে সঙ্গে দূরে সরে যাবে। আসলে এর মধ্যে দিয়ে শিল্পী বোঝাতে চেয়েছেন প্রাণকে আর ভগবানকে হাতের সাহায্যে ধরা যায় না। তা অনুভূতির মাধ্যমে উপলব্ধি করতে হয়। এখানেই ধরা পড়েছে এক দেহ থেকে অন্য দেহে প্রাণের সঞ্চার। এই সঞ্চার যে কেবল মানুষের মধ্যে তা নয় যে কোনো সজীব বস্তুর মধ্যেই ঘটনাটা ঠিক একই। খালি দেহের রূপ পরিবর্তন।

পথনির্দেশ

উত্তর কলকাতায় আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রোডে খান্নার মোড় থেকে উলটোডাঙা স্টেশন যাওয়ার পথে অরবিন্দ সেতু থেকে নেমে একটু এগোলেই বাঁ হাতে গলির ভেতরে উলটোডাঙা পল্লীশ্রীর পুজোমণ্ডপ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন