samajsebi sangha puja
স্মিতা দাস

‘ফিরিয়ে দাও’ দেবীর কাছে প্রার্থনা। ফিরিয়ে দাও সবুজ শিশুদের শৈশব।

বর্তমানে শিশুরা অক্ষর আর পড়াশোনা ছাড়া আর কিছু চেনে না। ছোটো বেলার আনন্দ তাদের নষ্ট হয়ে গেছে। খাঁচায় বন্দি তারা। তাদের অনুভূতি, হৃদয় সবটাই প্রায় হারিয়ে গিয়েছে। তারা এখন এক একটা যন্ত্রে পরিণত হয়েছে। এক কথায় রোবট। সেখান থেকে ফিরিয়ে আনার জন্য এই ভাবনা। মণ্ডপের গোটাটাই লোহার। তা দিয়েই নতুন জগত গড়া হবে। থাকবে লোহার ফুল। শিশুরা ফুলের মতোই হয়। কিন্তু বর্তমান তাদের হৃদয়হীন করে দিয়েছে। তাই তারা লোহার নিষ্প্রাণ ফুলে পরিণত হয়েছে।

this year's theme
এ বারের থিম।

থিমের এই ভাবনায় চারটে ধাপ রয়েছে। তার জন্য চারটে আলাদা থিম মিউজিকও থাকছে। সামনে একটা আলাদা জোন, সেটা শিশুযন্ত্র তৈরি শুরুর ধাপ। তবে সেখানে হৃদয়স্পর্শী শব্দ আর আলো থাকবে। এগুলোই আমাদের কাছে বিশ্বাস জোগায়। তার পর থাকবে আশা। মানে বাবা-মার আশাপূরণের জন্য তাদের উৎপাদন, মেকানিজমের একটা জোন। এখানেই বোঝানো হবে যেন যন্ত্রে শিশু উৎপাদনের কাজ হচ্ছে। তার পরের ধাপ শিশুর পৃথিবীর আলো দেখার পর্ব। সেখানে স্কুলের একটা পর্ব দেখানো হবে। আর তার পর থাকছে গ্লোব। মানে পৃথিবী। শিশুদের শেখানো হয় পৃথিবীর চূড়ায় উঠতে হবে তাদের। তাই শেষ পর্বে তাদের লক্ষ্য বস্তু। সেখানেই থাকবে দেবীমূর্তি।

বালিগঞ্জ সমাজসেবীর ৭২তম বর্ষে থিমশিল্পী দেবাশিস ভট্টাচার্য। ঠাকুরও তিনিই করছেন। সাবেক প্রতিমাই থাকবে। কারণ অভিযোগ জানানো হয় মায়ের কাছে। তার জন্য মাকে মায়ের মতোই হতে হয়। তাই সাবেক ঠাকুরের ভাবনা।

থিম মিউজিকগুলো করছেন অভিষেক বসু। ঠাকুরের বেশবিন্যাসে তেজেস গান্ধী।

debashis bhattacharya
শিল্পী দেবাশিস ভট্টাচার্য।

গত বছরের খবরাখবর দেন অরিজিত মৈত্র, কমিটির সেক্রেটারি। বলেন, প্রতি বছরই একটু আলাদা বিষয় খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন তাঁরা। সব ক’টা থিমেই থাকে কিছু একটা ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন। বা একটু ভেবে দেখার আবেদন। গত বারে থিম ছিল ‘আমার দুর্গা’। বক্তব্যটা এমন, মাদার টেরিজাও যেমন দুর্গা, কুমোরটুলির একটা ছোট্টো মেয়েও তেমন দুর্গা, আবার বাড়িতে মা-ও তেমনই দুর্গা। কাউকেই অবহেলা করার নয়। সমাজের প্রতিটি মেয়েই আমাদের দুর্গা। সেটাই ভেবে দেখার আবেদন ছিল।

তার আগের বার ছিল, ডিজিট্যাল বুকের চাপে এত দিনের বইয়ের লাইব্রেরি হারিয়ে যাচ্ছে। সেই লাইব্রেরি, ছাপার অক্ষরে বই পড়ার অভ্যাস, সেই শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখার আবেদন ছিল সমাজের কাছে।

সে বার দেবীদুর্গাও ছিলেন বইয়ের আকারেই। চণ্ডীর মধ্যে। সে বারই সব থেকে বেশি পুরস্কার পেয়েছিল কমিটি।

এ বছরের বাজেট গত বারের থেকে ৫ লক্ষ টাকা বেড়েছে। হয়েছে ৩৫ লক্ষ।

দেশপ্রিয় পার্ক থেকে গড়িয়াহাটের দিকে যেতে দেশপ্রিয় পার্কের পরের স্টপে নেমে উলটো দিকের রাস্তায় একটু গেলেই মণ্ডপ।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন