chaltabagan
চালতাবাগানের মণ্ডপ। নিজস্ব চিত্র।
smita das
স্মিতা দাস

“এসেছে শরৎ হিমের পরশ লেগেছে হাওয়ার পরে,/ সকাল বেলায় ঘাসের আগায় শিশিরের রেখা ধরে।”

শরৎকাল প্রায় শেষের মুখে। আর হাতে গোনা মাত্র কয়েকটা দিন। তার পরই বোধনের ঢাকে কাঠি পড়বে। তবুও বর্তমানে যা আবহাওয়ার অবস্থা তাতে এই শরৎ-এ হিমের পরশ লেগেছে কি না, সেটা বলা দুষ্কর। তবে রবিঠাকুরের পরশ যে আপামর বাঙালির জীবনের সর্বত্র লেগে রয়েছে তা বলাই বাতুলতা মাত্র। রবীন্দ্রনাথ জড়িয়ে আছেন আমাদের সর্বত্র। আমাদের আনন্দ দুঃখ বেদনা বিরহ কীসে নেই তিনি? রবিঠাকুরের গান-কবিতা ছাড়া বাঙালির জীবন প্রায় অসম্পূর্ণ। সারা জীবনে একবারও রবিঠাকুরের সৃষ্টি মুখে আওড়ায়নি এমন বাঙালি বোধ হয় নেইই। অন্তত গুনগুন করে হলেও করেছেন। এই বার দুর্গাপুজোর থিমেও রবীন্দ্রনাথ। উত্তর কলকাতার অন্যতম একটি মণ্ডপ চালতাবাগান। ৭৬-এ পড়ল চালতাবাগান সর্বজনীনের দুর্গাপুজো। এই বছরে তাদের থিম রবি ‘ঠাকুরের শান্তিনীড়’।

প্রতি বারের মতো এ বারেও থিম শিল্পী শান্তনু মাইতি। তিনি জানান, গোটাটাতেই রয়েছে শান্তিনিকেতনের স্কালপচার। তৈরি করা হয়েছে সেখানকার ছোটো ছোটো কুঁড়ে ঘরগুলির আদলে মণ্ডপ। পাশেই থাকছে রবি ঠাকুরের মূর্তি। তাতে দেখানো হচ্ছে চেয়ার- টেবিলে বসে তিনি লিখছেন। মণ্ডপ জুড়ে সাজানো হয়েছে শান্তিনিকেতনের নানান উৎসবের অনুষঙ্গ। দেখানো হচ্ছে দোল উৎসব, বাউল উৎসব ইত্যাদি। এই সব কিছু তুলে ধরা হচ্ছে বেশ কিছু মডেলের সাহায্যে। এ ছাড়াও দর্শকদের জন্য রয়েছে আরও একটা পাওনা। মণ্ডপে থাকছে রবিঠাকুরের বিভিন্ন লেখায় যে সব শিল্পীর আঁকা দেখা যায় যেমন অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নন্দলাল বসু প্রমুখ, তাঁদের আঁকা বেশ কিছু অতিপরিচিত চিত্রও।

আরও পড়ুন সেলিমপুর পল্লিতে এ বার ‘জন্মান্তর’

শান্তনু মাইতি বলেন, ঠাকুরের প্রতিমাও হয়েছে শান্তিনিকেতনী ধাঁচে। এ বছরের প্রতিমাশিল্পী অমর পাল। মল্লার ঘোষ করেছেন থিম সঙ। তাতে রয়েছে সম্মিলিত ভাবে কবিগুরুর গান, কবিতা, গল্প। আর সঙ্গে সেগুলি দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে থ্রিডি ডায়মেনশনে।

পুজোর উদ্বোধন হবে দ্বিতীয়া অথবা তৃতীয়ার দিন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে।

গত বারের ভাবনা ছিল ‘চাই না বন্দী, চাই মুক্তি’। থিম দাঁড় করানো হয়েছিল তারের সরু নেট দিয়ে কাঠামো তৈরি করে, তার ওপর ওয়ালপুট্টি দিয়ে প্রলেপ করে।

পথনির্দেশ

আমহার্স্ট স্ট্রিট ও বিবেকানন্দ রোডের ক্রসিং-এ নেমেই সামনে মণ্ডপ। বা মানিকতলা ক্রসিং-এ নেমে আমহার্স্ট স্ট্রিটের দিকে মিনিট খানেক হাঁটলেই মণ্ডপ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন