ahiritola sarbojanin
আহিরীটোলা সর্বজনীনের মণ্ডপ। নিজস্ব চিত্র।
smita das
স্মিতা দাস

কালের পরিবর্তনের সঙ্গে হারিয়ে গিয়েছে একান্নবর্তী পরিবারের সেই হইচই। সেই আনন্দ। তা ছাড়াও সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেওয়া, আরও কত কিছুই। নিউক্লিয়ার ফ্যামেলি কালচার এসে ক্রমশ কোনঠাসা করে দিয়েছে যৌথ পরিবারের সেই প্রাচীন ধারণাকে। একা করে দিয়েছে মানুষকে। একটি সময় এমন অনেক বাড়িই ছিল যেখানে শরতের আগমনের দিন গোনা হত বছরের বাকি দিনগুলিতে। কারণ একটাই, বাড়ির পুজো। সেখানে মা দুগগা আসবেন বাড়িতে। আর পরিবারের এখানে ওখানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সদস্যরাও বাড়িতে এসে উঠবেন কয়েকটা দিনের জন্য। আর সবাই মিলে হইচই করে কাটিয়ে দেওয়া হবে পুজোর দিনগুলি। সেই ভাবনাটাকে মাত্র কয়েকটা দিনের জন্য হলেও ফিরিয়ে দিতে চায় আহিরীটোলা সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতি।

durga idol of ahiritola
এই প্রতিমাই সেজে উঠছে। নিজস্ব চিত্র।

আহিরীটোলা সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতির স্যুভেনির সেক্রেটারি অভিজিৎ গাঙ্গুলি বলেন, তাঁদের পুজোর এ বার ৭৯তম বর্ষ। এই বছরে আসলে কোনো থিম নয়, তুলে আনা হয়েছে একটি কালচার, একটি সংস্কৃতিকে, যা প্রায় হারিয়ে গিয়েছে। মণ্ডপ তৈরি হয়েছে একটা পুরোনো রাজবাড়ির আদলে।

আসলে দুধের সাধ ঘোলে মেটানো বলা যেতে পারে। আহিরীটোলা জায়গাটি বনেদিয়ানার অন্যতম প্রাণকেন্দ্র হলেও বঞ্চিত সেই ঐতিহাসিক সময়ের জমিদারবাড়ি, রাজবাড়ির ঐতিহ্য-মাহাত্ম্য থেকে। কারণ আশেপাশের এলাকাগুলিতে রয়েছে জমিদারবাড়ি, রাজবাড়ি। কিন্তু এখানে তেমন কোনো বাড়ি কোনো কালেই ছিল না। তাই এলাকাবাসীকে সেই রাজবাড়ির পুজোর সাধ দিতেই এই রকম একটি মণ্ডপ আর তার সঙ্গে খাপ খাওয়ানো মাতৃ-আরাধনার আয়োজন করা হয়েছে।

furnitures of rajbari, ahiritola sarbojanin
বনেদি পরিবারের আসবাবপত্র। আহিরীটোলার মণ্ডপে। নিজস্ব চিত্র।

আড়াই মাস ধরে তৈরি হয়েছে মণ্ডপ। প্রতিমাশিল্পী সুশান্ত পাল। রাজবাড়ির একচালা হলুদ প্রতিমা তৈরি করেছেন তিনি। এ বছর মাকে গয়না দিয়ে সাজিয়েছে অঞ্জলি জুয়েলার্স। তাই একে বলা হচ্ছে ‘আহিরীটোলা রাজবাড়ির অঞ্জলির প্রস্তুতি’। অরিজিৎবাবু বলেন, পুজোর পর মায়ের গায়ের এই গয়না নিলামে তোলা হবে। তাতে যে টাকা সংগ্রহ হবে তা দেওয়া হবে নারীশিক্ষা প্রসারের স্বার্থে। এক সংস্থার হাতে। উদ্দেশ্য লেখাপড়ায় আগ্রহী মেয়েদের সাহায্য করা।

আরও পড়ুন ‘আদম ক্ষুধায় লাগাম টানো, দাও উমাকে সম্মান’, বার্তা পল্লি উন্নয়ন সমিতির

গোটা মণ্ডপ তৈরি ফাইবার দিয়ে। শিল্পী তন্ময় চক্রবর্তী। মণ্ডপকে ‘ন্যাচরাল লুক’ দিতে ব্যবহার করা হয়েছে আসল মার্বেল, ১৫৭ বাতির বেলজিয়াম গ্লাসের ঝাড়, পুরোনো দিনের আলোর স্ট্যান্ড, ছবি, ঝোলানো পাখা, সুইচ বোর্ড, আসবাবও।

পথনির্দেশ

শোভাবাজার মেট্রো স্টেশন থেকে পশ্চিমে শোভাবাজার স্ট্রিট ধরে একটু এগিয়ে বাঁ দিকে বি কে পাল অ্যাভেনিউ ধরতে হবে। পেরোতে হবে রবীন্দ্র সরণি। বি কে পাল অ্যাভেনিউ ধরেই আরও এগিয়ে গেলে আহিরীটোলা সর্বজনীনের মণ্ডপ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন