last year's pandal of badamtala ashaar sangha
বাদামতলার গত বছরের মণ্ডপ। নিজস্ব চিত্র।
smita das
স্মিতা দাস

৮০ বছর বয়সে ‘সব চরিত্র কাল্পনিক’। বাদামতলার আষাঢ় সংঘের এই বছরের প্রচার-বাক্য এটাই। গোটা মণ্ডপ একটা কল্পনার দেশ। সেখানে সব চরিত্রই কাল্পনিক। তবে শিল্পীর কথায় কাল্পনিক দেশের চরিত্র হলেও চরিত্রগুলো যেন প্রতিনিয়তই বাস্তব জীবনের বেড়াজালে ধরা দেয়। এই বছরেও বাদামতলার থিম আর প্রতিমা শিল্পী পরিমল পাল।

শিল্পীর কথায়, জীবনের স্রষ্টা ‘নারী’ – সে  জীবনের ধারক ও বাহক। আবার এই ‘নারী’ এই কল্পজগতের কেন্দ্রবিন্দুও। নারী কখনও মা, কখনও প্রেয়সী, কখনও বা ভগিনী আবার কখনও কন্যা। সমাজ সভ্যতা এত এগিয়েছে যে চলার পথে সর্বত্রই নারীর দৃপ্ত পদচারণা। কিন্তু তা সত্ত্বেও বার বার তাকে হারিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এই শতাব্দীর প্রেক্ষাপটেও নারী ভোগ্যপণ্য হিসেবেই রয়ে গিয়েছে কিছু মানুষের চিন্তাভাবনায়। জ্ঞান-বিজ্ঞান, শিক্ষা-বুদ্ধির ক্রমোন্নতির পরেও ‘নারী’ সম্পর্কে এ সমাজের কিছু অংশের  দৃষ্টিভঙ্গির কোনো পরিবর্তনই ঘটেনি। এক দিকে যেমন সে যুগের অপালা, লোপামুদ্রা, সংঘমিত্রা, অনসূয়া থেকে এ যুগের কপ্লনা চাওলা, দীপা কর্মকার, সাক্ষী মালিক, হেমা দাসরা রয়েছেন, তেমনই অন্য দিকে রয়েছেন অসংখ্য হতভাগ্য নির্ভয়ারা। বাদামতলা তথা সভ্যতার আবেদন নারীশক্তির প্রকৃত মূল্যায়ন ও সন্মানই জন্ম দিতে পারে এক নতুন উন্নত সমাজের। তাই নারী ও পুরুষের সমান অধিকার শুধু বই এর পাতায় থাকলে চলবে না, সমান অধিকার চাই মমনে-ভাবনায়, আচারে-ব্যবহারে। সর্বত্র তা প্রতিফলিত হোক।

আরও পড়ুন সম্পর্ক রাখার সময় যে কমে যাচ্ছে মনে করিয়ে দিচ্ছে হাটখোলা গোঁসাইপাড়া

গোটা মণ্ডপে ব্যবহার করা হচ্ছে, বাঁশ, কাঠ অ্যাসবেস্টস-সহ অনেক কিছুই। মণ্ডপে দেখা যাবে পুরোনো সময়ের কয়েকটা মোটিফ সঙ্গে আধুনিক যুগ। দেখা যাবে একটি নির্মীয়মান সেতু, থাকবে শহরের পথের পরিচিত বাসস্ট্যান্ড। আরও অনেক কিছু।

বাদামতলার আষাঢ় সংঘের গত বারের থিম ছিল এক টুকরো আমেরিকা। এ বারের পুজোর উদ্বোধন দ্বিতীয়াতে। উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

পথনির্দেশ

রাসবিহারী মোড় বা কালীঘাট মেট্রো স্টেশন থেকে চেতলা ব্রিজের দিকে কিছুটা হেঁটে গিয়ে ডান দিকের রাস্তায়। রাসবিহারী গুরুদ্বারের কাছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন