৮০ বছরে হাটখোলা গোঁসাইপাড়ার থিম ‘ভাঁড়’, তবে ‘এ ভাঁড় সে ভাঁড় নয়’

0
921
স্মিতা দাস

শিল্পী মানস রায়। পাড়ার ছেলে মানসবাবু। তাই ‘আবার থিম’-এ ফেরার বছরটাতে তাঁর হাত ধরেছেন গোঁসাইপাড়ার সদস্যরা। গোটা ভাবনায় আর রূপায়ণে মানসবাবুই। সহযোগিতায় রয়েছেন, অঙ্কুশ চৌধুরী।

পুজোমণ্ডপের অন্দরের কথা জানতে খবর অনলাইন পৌঁছে গিয়েছিল গোঁসাইপাড়ায়। কথা হল পুজো কমিটির কোষাধ্যক্ষ সুরজিৎ সাহা ও কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সুভাষ পালের সঙ্গে।

তাঁরা বলেন, এই বছরের থিমে প্রচুর পরিমাণে ভাঁড় ব্যবহার করা হবে। তবে তা চা খাওয়ার ভাঁড় নয়। পয়সা ফেলার ভাঁড়। নানা আকৃতির এই ভাঁড় দিয়ে সাজানো হবে গোটা মণ্ডপ।

এই ভাঁড় আনা হচ্ছে কৃষ্ণনগরের কাছে বীরনগর থেকে। এখানকার একটা শিল্পই হল পয়সা ফেলার ভাঁড় তৈরি করা। সেগুলোই ব্যবহার করা হবে। তা ছাড়াও কলকাতার কিছু শিল্পীও বানাবেন এই বিশেষ ভাঁড়।

জানতে চেয়েছিলাম ঠাকুরের সঙ্গে এই ভাঁড়ের সমন্বয় করা হবে কী ভাবে? সুভাষবাবু বলেন, পয়সার মধ্যে ঠাকুরের একটা রূপ দেওয়া হবে। তবে সেটা কী ভাবে হবে? বা কেমন হবে, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে আরও কিছু দিন।

সুরজিৎবাবু বলেন, সেই বিষয়টা নিয়েও একটা আলাদা ক্যাপশন করা হয়েছে। সেটা এখনই জানানো হচ্ছে না, ঠিক এক মাস আগে জানানো হবে। সেখানেও আছে চমক।

প্রতিমাশিল্পী কে? – থিমশিল্পী প্রতি বছর বদল হলেও, প্রতিমাশিল্পী বদল হয় না। স্বপন পাল। ৮০ বছরের পুজোর টানা ৬০ বছরের প্রতিমাশিল্পী একই পরিবারের সদস্য। বংশ পরম্পরায় ঠাকুর করে আসছেন তাঁরা। তাই এ বছরেও তাঁরাই থাকছেন। এই ব্যাপারে একটা ঐতিহ্য বজায় রেখে চলা হয়। তা ছাড়া একটা আলাদা আবেগ জড়িয়ে আছে এই পরিবারের সঙ্গে, জানান সুভাষবাবু।

মণ্ডপে থিম সঙ থাকছে তো, কে করছেন থিম সঙ?

দু’ জনেই বলেন, মানস রায়ের থিম সং করতেন কালিকাপ্রসাদ। এ বারেও তিনিই ছিলেন থিম সঙের দায়িত্বে। কিন্তু তিনি মারা যাওয়ায় এ বারের শিল্পী বদল হবে। তবে তিনি কে সেটা শিল্পী মানসবাবুই জানেন। তবে কালিকাদার নামে মঞ্চ করা হবে। এর আগে ‘সেভ লাইফ সেফ ড্রাইভ’ অনুষ্ঠান করা হয়েছিল কালিকাদার স্মরণে।

বাজেট কেমন গোঁসাইপাড়ার?

সুরজিৎবাবু বলেন, খুব কম বাজেটের পুজো।  ৯ লক্ষ টাকা। গত বছর ছিল ৬ লক্ষ টাকা। সুভাষবাবু বলেন, গত বারে সাবেক পুজো করা হয়েছিল। ফলে থিমের খরচটা বেঁচে গিয়েছিল, সেটা যোগ হয়েই এ বারের বাজেটটা একটু বেড়েছে।

তাঁরা জানান, বাগবাজার সর্বজনীনের পর শুধু এই পাড়াতেই নিষ্ঠা করে পুজো করা হয়। পুজোর যাবতীয় উপাচার মেনে, নিজেদের বাসনে সমস্তটা করা হয়। খুবই নিষ্ঠা সহকারে নিজেরাই রান্না করে ঠাকুরকে ভোগ নিবেদন করা হয়। সেই ভোগবিতরণ করা হয়।

আরও পড়ুন: দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গ পর্যটনের আরও কয়েকটি প্যাকেজ

পরম্পরা মেনে পুরোহিত পরিবার অপরিবর্তিত। বংশ পরম্পরায় ওই পরিবারই বহু বছর ধরে পুজো করে আসছে।

তাঁরা বলেন, প্রেসিডেন্ট গোরাচাঁদ গোস্বামী পুজোর অন্যতম প্রবীণ মানুষ। ৮০ বছর তাঁর বয়স। তিনিই এই পুজোর পথপ্রদর্শক।

জানতে চেয়েছিলাম, গত বছরে কী করেছিলেন?

সুভাষবাবু বলেন, ৭৯তম বর্ষে প্রবীণদের আবদারে সাবেক পুজো হয়েছিল। প্যান্ডেল সাবেক ধরনের। শুধু বাঁশ, কাপড়ের আগেকার দিনে যেমন মণ্ডপ হত তেমনই। একটা মন্দির গোছের প্যান্ডেল করা হয়েছিল। তাতে ছিল বেতের নকশা করা নানান কাজ। প্রতিমাও ছিল এক্কেবারে সাবেক।

তবে ৭৮তম বর্ষে থিমে ছিল টিপনী শিল্পের ব্যবহার। পুরুলিয়ার শিল্প এটা। হাওড়া শিবপুরের বিল্টু বাপ্পা ছিলেন থিমশিল্পী। এই শিল্পে মাটির পুতুল তৈরি করা হয়। তাতে আঙুলে টিপে পুতুলের হাত, পা, নাক, মুখের গড়ন তৈরি হয়। ঠিক যেমন ছোটোরা ময়দা আটা দিয়ে পুতুল বানায় অনেকটা তেমনই। এই পুতুল আনানো হয়েছিল পুরুলিয়া থেকেই। তবে কিছু এখানেও বানানো হয়েছিল। তার ওপর রঙ করে ব্যবহার করা হয়েছিল। সঙ্গে ছিল থিম সঙ।

তাঁরা বলেন, আশি বছরের ইতিহাসে পুজো নিয়ে এমন অনেক ঘটনা ঘটেছে যেগুলো মন ছুঁয়ে গেছে। মনে আছে একবার পুজোয় বৃষ্টির ঘটনা। তা ছাড়া ১৯৬৮ সালে যুগান্তর পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল গোঁসাইপাড়ার মণ্ডপের ছবি। তখন থিমের বালাই ছিল না।

খুঁটি পুজো? – রথের দিন খুঁটি পুজো হয়ে গেছে। মণ্ডপ উদ্বোধন হবে চতুর্থীতে। আর আগস্টের প্রথম সপ্তাহ থেকে মণ্ডপ তৈরির কাজ শুরু হবে।

শোভাবাজার মেট্রোর সামনে থেকে লঞ্চঘাটের দিকে কিছুটা যেতেই ‘হাটখোলা গোঁসাইপাড়া’র পুজোমণ্ডপ। ল্যান্ডমার্ক হিসেবে রয়েছে বি কে পাল অর্থাৎ বটকৃষ্ণ পালের বাড়ি। তার ঠিক উলটো দিকেই দু’টি গলি রয়েছে। প্রথমটা মেডিক্যাল ব্যাঙ্কের গলি, আর দ্বিতীয় গলিটাই হল হাটখোলা গোঁসাইপাড়া।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here