pandal of kashi bose lane
কাশী বোস লেনে 'বারান্দা'। নিজস্ব চিত্র।
smita das
স্মিতা দাস

বারান্দা কত রকমের হয়, তার কোনো ধারণা আছে? কেউ বলবেন গাড়িবারান্দা, কারও কারও মনে পড়বে ঝুলবারান্দার কথা, কেউ আবার বসবেন গোলবারান্দায়। সব মিলিয়ে কত রকমের বারান্দা আমরা দেখেছি? কিন্তু তার চেয়ে ঢের বেশি রয়েছে শুধু কাশী বোস লেনেই। ৮১ বছরের কাশী বোস লেন সর্বজনীন দুর্গোৎসবের এই বছরের থিমের নাম বা ক্যাপশন ‘আমার অলিন্দে’। অলিন্দ বলতে আমরা বারান্দা বুঝলেও, শিল্পী কিন্তু এখানে শুধু বারান্দা নয় বলতে চেয়েছেন মনের ভেতরের কথাও।

এই থিম বেছে নেওয়ার পেছনে রয়েছে ফ্ল্যাট কালচার এসে যাওয়ার পরে বারান্দার অবলুপ্তি। সেই হারানো বারান্দায় লুকিয়েছিল কত রকমের অনুভূতির পাহাড়। রাগ-ঝাল, দুঃখ-কষ্ট, কী নেই সেই বারান্দাকে ঘিরে। বড়ো হয়ে ওঠা, আচার দেওয়া, পাঁপড় শুকানো সব – সবই ধরা যায় বারান্দার আত্মকথায়। বাড়ির ওই বারান্দা যেন সেই সময় শুধু বারান্দাই ছিল না। ছিল মানুষের একটি মুক্তির পথ। সব রকম অনুভূতি ভাগ করে নেওয়ার এক ভালো বন্ধুর মতো। কিন্তু বর্তমান ব্যবস্থার বিপাকে শহরের বুক থেকে হারিয়ে যাচ্ছে পুরোনো বাড়ি, সেই বারান্দা, সেই নস্টালজিয়া। তাই উত্তর কলকাতার এই পাড়া দুর্গোৎসব আয়োজনে সেই নস্টালজিয়াকে ফিরিয়ে এনেছে।

আরও পড়ুন ১২০০ স্কোয়ার ফুটের ঝাড় লন্ঠন কলেজ স্কোয়ারের অক্ষরধামে

তবে বারান্দা তো বাড়ির বাইরে দেখা যায়। কিন্তু শিল্পীর কল্পনায় যে হেতু বারান্দা মনের ভেতরের সম্পদ, তাই মণ্ডপের বাইরে বারান্দা নয়। একাধিক বারান্দা রয়েছে মণ্ডপের ভেতরে। সেখানে রকমারি ডিজাইনের বারান্দার সমাহার। সেখানে কিন্তু ভেদাভেদ নেই রাজ্য বা সংস্কৃতির। বাঙলার বারান্দা, রাজস্থানের বারান্দা থেকে দেখা না দেখা নানান ধরনের বারান্দা রয়েছে মণ্ডপের অন্দরসজ্জায়। তাতে রয়েছে নানান কারুকাজ, চিত্রাঙ্কন, বারান্দার সাজগোজ। পুরোনো কলকাতার সেই বারান্দার নীচে দাঁড় করানো অবস্থায় দেখা মিলছে পুরোনো ধরনের সাইকেল, সঙ্গে ফিটন গাড়িও। রয়েছে কালো কালো নকশা করা স্তম্ভের মতো জলের কল, ছাদে বসানো পুরোনো দিনের জলের ট্যাঙ্ক। সব কিছু। আর মণ্ডপের বাইরে রয়েছে প্রথমে ছাদ, তার পর বৈঠকখানা, তার পর বারান্দা।

আর দেবী প্রতিমা দেখা যাচ্ছে ছাদের ওপর। তার পেছনে অনন্ত আকাশ। যার পেছনে নেই কোনো বহুতল। একটি ছোট্টো রাজকুমারী, রাজনন্দিনীর বেশে দেখা যাচ্ছে মাকে। যার হাতগুলো আকাশের দিকে প্রসারিত। সে যেন ছাদের উপর দাঁড়িয়ে আহ্লাদে আটখানা হয়ে নৃত্যরতা।

আরও পড়ুন ৩০০ ফুটের ফ্যাশন র‍্যাম্পে মিমি, বালিগঞ্জ সমাজসেবী সংঘে

এই রকম থিম বাছার পেছনে রয়েছে একটি মহতি উদ্দেশ্য। এক, বয়স্কদের কাছে সেই নস্টালজিয়া ফিরিয়ে আনা, আর নতুন প্রজন্ম যারা এই সব কোনো দিনও পায়নি তাদের সেই পরিবেশের সঙ্গে পরিচয় করানো। এই থিম-ভাবনা শিল্পী প্রদীপ দাসের। প্রতিমাশিল্পী সনাতন দিন্দা।

উদ্বোধন হবে তৃতীয়াতে। উপস্থিত থাকবেন একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব।

পথনির্দেশ

শ্যামবাজার থেকে হেদুয়ার দিকে যেতে কাশীবোস লেন বাস স্টপে নেমে উলটো পারে গলির ভেতর মণ্ডপ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন