৮৪ বছরে পা, দু’ বছর হল সাবেকি ছেড়ে থিমে এসেছে গৌরীবেড়িয়ার পুজো

0
1067
স্মিতা দাস

মাসের গুনতিতে আর তিন মাসও নেই। খবর অনলাইন চায় কলকাতার সেরা পুজোগুলোর যাবতীয় খবরাখবর তার পাঠকদের কাছে পৌঁছে দিতে। তাই ইতিমধ্যেই শুরু করে দিয়েছে পাড়ায় পাড়ায় পুজোভ্রমণ।

আজ এনেছে উলটোডাঙার অন্যতম সেরা পুজো ‘গৌরীবেড়িয়া সর্বজনীন দুর্গোৎসব ও প্রদর্শনী’-র খবর।

গৌরীবেড়িয়া সর্বজনীন পুজোর এ বার ৮৪ তম বর্ষ।

এ বারের থিম কী, প্রশ্ন করা হয়েছিল ক্লাবের জয়েন্ট সেক্রেটারি মান্টা মিশ্রকে। তিনি জানান, পুজোর বয়স ৮৪ হলেও, থিম পুজোর বয়স মাত্র দু’ বছর। এত দিন সাবেকি বা ট্র্যাডিশনাল পুজো করে এলেও শেষের দিকে আর পাল্লা দিয়ে পারা যাচ্ছিল না পাশাপাশি পুজোগুলোর সঙ্গে। আশে পাশে সবাই থিম পুজো করছে। সেখানে সাবেকি পুজো করে ভিড় টানা যাচ্ছিল না। তাই থিম পুজোয় আসা। গত বারে শুধু মণ্ডপে থিম ছিল। এ বারে সর্বাঙ্গীন ভাবে থিম। তবে এখনই নয় আরও একটা মাস যাক। তার পরই পর্দা উঠবে ২০১৭-র পুজোর থিমের ওপর থেকে।

থিমের প্রচার

তবে পুরোপুরি নিরাশ করেননি মান্টাবাবু। পুজো নিয়ে নানা রকম প্রশ্ন করতে মন খুলে অনেক কথাই ভাগ করে নিলেন খবর অনলাইনের সঙ্গে।

তিনি বলেন, অমর সরকারের হাত ধরেই তাঁদের এই থিমের প্রতিযোগিতায় ঝাঁপিয়ে পড়া। তিনি দায়িত্ব নিয়েছিলেন থিমের। এর পর তিনি তাঁর গুরু তরুণ দে-র ওপর দায়িত্ব দিয়ে দেন। এঁরা দু’জনই দক্ষিণ কলকাতার নামী শিল্পী। অমর সরকার থিম পরিকল্পনায়, তরুণ দে হলেন প্রতিমাশিল্পী। ফলে এঁরা দু’জনে অন্য ক্লাবগুলোকে বেশ চাপে রেখেছেন। তাই গোপনীয়তা একটু বেশি। গত দু’ বছর ধরে থিম পুজোয় মেতেছে এই ক্লাব। এ বারে থিম থাকবে গোটা মাঠ জুড়ে। মণ্ডপ, প্রতিমা, আলো তার সঙ্গে থিম সং। থিমের গোটা পরিকল্পনা আর রূপায়ণের দায়িত্বেই তরুণবাবু আর অমরবাবু।

আরও পড়ুন: ৭০–এ পা উলটোডাঙা করবাগানের, এ বারের থিম ত্রিমাত্রা

তাঁদের পুজোর বাজেট কত? তিনি জানালেন, অন্যান্য পুজো কমিটির বাজেট অনেক বেশি। তারা অনেক কিছু করতে পারে। কিন্তু তাঁদের বাজেট বেশি না। মাত্র ৪০ লাখ। তার মধ্যে থেকেই আরও নতুন কিছু করার পরিকল্পনা। পুরোপুরি ভাবে থিমে নেমে পড়ার প্রচেষ্টা।

মান্টাবাবু জানান, ৪ জুন খুঁটিপুজো হয়ে গেছে। তার আগেই এ বছরের পুজোর ব্যানার উদ্বোধন হয়ে গেছে।  কিন্তু থিম জানানো হবে দু’ মাস আগে।

গতবারের মণ্ডপ

গত বছরের থিম কী ছিল জানতে চাওয়ায় তিনি বলেন, ‘পাথর কিনা পারে’ এই ছিল ১৬-র থিম। শিল্পী সুতনু মাইতি।  ছোটো ছোটো নুড়ি পাথর, রঙ করে তা দিয়ে ডিজাইন করা হয়েছিল, ইন্দোনেশিয়ার প্যাগোডার অনুকরণে সাজানো হয়েছিল মণ্ডপ। সে বছর বাজেট ছিল ৩২ লাখ। সনাতন রুদ্র পাল ছিলেন প্রতিমাশিল্পী। প্যান্ডেল সজ্জায় থিম থাকলেও প্রতিমা হয়েছিল সাবেকি।

কী কী পুরস্কার পেয়েছিল প্রথম বছরে থিমের লড়াইয়ে? মান্টাবাবু বললেন, মেয়র চয়েস, যুব কল্যাণের তরফ থেকে সেরা বারোয়ারি, ইনকোডা টিভি থেকে সবার সেরা, এগুলো তো ছিলই। তা ছাড়া এবিপি আনন্দ থেকে বিশেষ পুরস্কারও ছিল। আর ঢাকি কলকাতা এক্সপ্রেস প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছিল ক্লাব। প্রতিযোগিতায় ছিল তিনটি ঢাক আর একটি কাঁসর।

gouriberia2016
গতবছরের প্রতিমা

জানতে চেয়েছিলাম সব থেকে সেরা বছর কোনটা ছিল? তিনি বলেন সেটা বাপ-ঠাকুরদার আমলের কথা। ৬৯-৭০ সালে। তখন রাজ্য সরকারের তরফ থেকে পুরস্কার দেওয়া হত। এই সব প্রাইভেট ব্যবস্থা তেমন ছিল না। সেই সময় পর পর দু’ বছর পুরস্কার পেয়েছিল ক্লাব। তখন থিমের চাষ ছিল না। পুরস্কার দেওয়া হত প্রতিমার ওপর।

মান্টাবাবু বলেন, পুজো ছাড়াও ক্লাব সারা বছর ধরেই হেলথ চেক-আপ ক্যাম্প, বৃক্ষরোপণ, থ্যালাসেমিয়া নিয়ে সচেতনতা শিবির করে থাকে।

‘গৌরীবেড়িয়া সর্বজনীন দুর্গোৎসব ও প্রদর্শনী’-এর পুজোমণ্ডপ খান্নার মোড় থেকে উলটোডাঙা স্টেশনে যাওয়ার পথে পড়ে। অরবিন্দ সেতুতে ওঠার আগেই। সেতুর বাঁ পাশ দিয়ে সরু রাস্তা চলে গেছে সেতুর সমান্তরালে। সেতুর ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় পুজোপ্রাঙ্গণ দেখতে পাওয়া যায়।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here