pandal of darjipara
দর্জিপাড়ায় দুর্গার অসংখ্য মুখ। নিজস্ব চিত্র।
smita das
স্মিতা দাস

‘মাছের তেলে মাছ ভাজা’ কথাটা আমাদের খুবই শোনা কথা। বা ধরুন ‘গঙ্গাজলে গঙ্গাপুজো’। খানিকটা ঠিক তেমনই ব্যাপার উত্তর কলকাতার অন্যতম পুজো দর্জিপাড়া সর্বজনীনের। দশভূজার আরাধনায় থিম কী কী হতে পারে? তার হিসাবের কোনো শেষ নেই। এটি ঠিক কথা, তা বলে দশভূজার আরাধনায় থিম ‘দশভূজা’! এ-ও কি সম্ভব?

ঠিক এই ঘটনাটাই সম্ভব করেছেন দর্জিপাড়া সর্বজনীনের ৮৭তম বর্ষের থিমশিল্পী প্রবীর সাহা। শিল্পী জানান, দুর্গার দশ হাত। তা ছাড়া দেবীর আর একটা নাম দশভূজা। তাই এই বিষয়টা নিয়ে কাজ করা যায়। তার থেকেই এই চিন্তা। অন্য দিকে নারীশক্তি নিয়ে এত কাজ হচ্ছে তা হলে দেবীকে নিয়ে কেন নয়? তিনিই তো সেই শক্তির প্রকাশ। তাই এই থিম-ভাবনা।

darjipara sarbojanin
অসংখ্য হাত। নিজস্ব চিত্র।

মণ্ডপের বাইরেটা সাজানো হয়েছে বিশাল আকৃতির দশটা হাত দিয়ে। হাতগুলি তৈরি হয়েছে বাঁখারি, বাঁশ, পেপার পালপ্‌ আর থার্মোকল দিয়ে। প্রত্যেক হাতেই রয়েছে বিশাল অস্ত্র। এই হাতগুলোর সব কয়টিই রয়েছে আলো আঁধারিতেই। মণ্ডপের বাইরের চেহারাটা দেওয়া হয়েছে বিমূর্ত হরপার্বতীর। সেখানে শুধু এক একটি চোখের মাপই ১৬ ফুট করে। হরপার্বতীর সবটা মিলিয়ে দৈর্ঘ্যে প্রস্থে ৩২/২৪ ফুটের। আর ভেতরের সজ্জায় রয়েছে দুর্গার অসংখ্য মুখ। সঙ্গে পদ্মের স্কালপচার। যে হেতু দুর্গাপুজোর সঙ্গে পদ্মের একটা সংযোগ রয়েছে তাই এই পদ্মফুলকে বেছে নেওয়া হয়েছে। পদ্মগুলি রয়েছে জলের ওপর। গোটা মণ্ডপ জুড়ে রয়েছে অসংখ্য বার লেখা দুগগা দুগগা।

আরও পড়ুন অচ্ছুত নয় তৃতীয় লিঙ্গ, বোঝাচ্ছে বড়িশার বড়বাগান কালচারাল আ্যাসোসিয়েশন ক্লাব

প্রতিমার দায়িত্বে রয়েছেন সৌমেন পাল। থিমের সঙ্গে মিলিয়ে রূপ দেওয়া হয়েছে দশভূজার। এখানে অসুর রয়েছে ধ্যানমগ্ন অবস্থায়।

চতুর্থীতে পুজোর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে থাকবেন রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা।

পথনির্দেশ

শ্যামবাজার থেকে হেদুয়ার দিকে যেতে রূপবাণী বাস স্টপে নেমে উলটো পারে গলির ভেতর বিশাল পার্কের ভেতর মণ্ডপ।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন