bagbazar sarbajanin

নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা : সামাজিক কাজ পরিচালনার জন্য বাগবাজার সর্বজনীন দুর্গোৎসব এ বার একটি বাড়ি কিনল।

১৯১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি একেবারে গোড়া থেকেই নানা ধরনের সামাজিক কাজকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিল। ১৯২৯ সাল থেকে এই পুজোর সঙ্গে একটি প্রদর্শনী যুক্ত হয়। প্রদর্শনীর মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশাত্মবোধের উন্মেষ ঘটানো। চার দিকে তখন জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের জোয়ার এসেছে। এই পরিস্থিতিতে এই সুপ্রাচীন পল্লির যুবকরাও দেশহিতৈষণার সঙ্গে তাঁদের পুজোর উদ্যোগকে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেন। ১৯৩০ সালে এই সংগঠনের সভাপতি হন কলকাতা পুরসভার অল্ডারম্যান বিশিষ্ট আইনজীবী দুর্গাচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর একান্ত আগ্রহে এই পুজোর নামকরণ করা হয় বাগবাজার সর্বজনীন দুর্গোৎসব ও প্রদর্শনী। সে বার বেশ খানিকটা গুছিয়েই প্রদর্শনীর সূত্রপাত হয়েছিল। মূলত স্বদেশী ভাবনা এবং স্বদেশী উদ্যোগই ছিল এই প্রদর্শনীর মূল প্রতিপাদ্য। এই স্বদেশিয়ানা আর জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে পরোক্ষ কিন্তু স্পষ্ট যোগসূত্রের কারণে দু’ দু’বার সভাপতি হয়ে এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু।

তার পর থেকে ধারাবাহিক ভাবে কখনও বন্যাত্রাণে সাহায্য, কখনও গরিব মানুষের জন্য রক্তপরীক্ষা শিবির আবার কখনও বা শীতবস্ত্র বিতরণের মতো কোনো না কোনো কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যায় এই উদ্যোগ। ধারাবাহিক ভাবে কাজ চালাতে গেলে দরকার একটা নির্দিষ্ট দফতর। কিন্তু এত প্রাচীন আর বড়ো প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও এত দিন পর্যন্ত তার কোনো স্থায়ী ঠিকানা ছিল না। জিনিসপত্রও থাকত ছড়িয়ে ছিটিয়ে। পুজোর বাসন থেকে শুরু করে প্রতিমার স্থায়ী অঙ্গসাজ রাখা হত কোনো সদস্যের বাড়ি। তবে নিয়মিত কাজ পরিচালনা করা হত হরনাথ হাইস্কুল নামের একটি প্রাচীন স্কুলবাড়ি থেকে। প্রসিদ্ধ ক্রীড়া সংগঠক সমর কুমার পাল এই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হয়েই প্রথম জোর দিয়েছিলেন নিজস্ব ঠিকানা গড়ে তোলার ওপর। বছর দু’য়েক আগেই হরনাথ হাইস্কুলের ঠিক উলটো দিকের একটা প্রাচীন বাড়ি পছন্দ হয়। বাড়িটা মেরামত করা দরকার। দরকার ভাড়াটিয়াদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে সেটাকে দফতরের উপযোগী করে তোলা। পুজোর এক উদ্যোক্তা জানালেন ৫০ লক্ষ টাকায় বাড়িটা ক্রয় করা হয়েছে। এর পর আরও ১০-১৫ লক্ষ টাকা খরচ করে সম্পূর্ণ মেরামত করা হবে। এই বছরই গৃহপ্রবেশের পরিকল্পনা থাকলেও আর মাত্র এক বছর পরে এই পুজোর শতবর্ষের শুভ সূচনায় বাড়িটার উদ্বোধন করা হবে।

এর আগে অবশ্য সিমলা ব্যায়াম সমিতি তাদের নিজস্ব বাড়ি নির্মাণ করেছে। সিমলা পার্কের এই বাড়ির সঙ্গেই রয়েছে আধুনিক জিম। সিমলা ব্যায়াম সমিতির বাড়িটা অবশ্য শুধুমাত্র পুজো কমিটির বাড়ি নয়। কিন্তু বাগবাজারের বাড়িটা হবে সে দিক দিয়ে অনন্য। একেবারে পুজো কমিটিরই বাড়ি।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here