ballygunge cultural
বালিগঞ্জ কালচারালে এ বার শোলার প্রতিমা। নিজস্ব চিত্র।
smita das
স্মিতা দাস

একটা সময় পর্যন্ত দুর্গাপুজো মানেই একটা সাদার অনুষঙ্গ ছিল। অবাক লাগছে কেন এমন ‘সাদা সাদা’ করছি। দুর্গাপুজো মানেই তো রঙিন সব কিছু। তা হলে সব সাদা হয়ে কেন ধরা দিল আমার কাছে? একটু তলিয়ে দেখলেই ব্যাপারটা স্পষ্ট হয়ে যাবে। ভাবুন দুর্গাপুজো মানেই ঝকঝকে নীল আকাশ আর তাতে ‘সাদা মেঘের ভেলা’। সাদা পেঁজা তুলোর মতো এই মেঘের ভেলা দেখার জন্য আমাদের সারা বছরের অপেক্ষা। দুর্গাপুজো মানেই রেল লাইনের ধারে ধারে, মাঠের একটা পাশে এ-দিক ও-দিক থরে থরে কাশ ফুল ফোটা। কাশ ফুল মানেই তো সাদা ফুলের জোয়ার। আরও একটা সাদা হল শোলা। দুর্গাপুজো মানেই শোলার সাজ। মণ্ডপে মণ্ডপেও ছিল শোলা। তা দিয়ে নানান নকশা করে সাজানো হত গোটা মণ্ডপ। এক কথায় শোলা আর পুজো সেই সময় ছিল যেন একে অপরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গি ভাবে জড়িয়ে।

যুগের পরিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে সেই শোলার কাজ। কিন্তু কিছু মানুষ এখনও আছেন যাঁরা ভুলে যাননি অবলুপ্তির পথে পা বাড়ানো সেই শিল্পকে। তাই তো ৬৮তম বর্ষে বালিগঞ্জ কালচারাল নিয়ে আসছে শোলার মণ্ডপ। শোলার সাজ। কালচার মানে সংস্কৃতি। সেই সংস্কৃতিরই ধারক বাহক হয়ে এখনও পুরোনোকে আঁকড়ে ধরে রেখেছে বালিগঞ্জ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন।

এই মণ্ডপ তৈরির জন্য কাজ করছেন দু’টি গ্রামের ৪০ জন শিল্পী ও তাঁদের ২০০ জন সহকর্মী। এই বিশেষ থিম ভাবনায় ও রূপায়ণে শিল্পী বিমান সাহা। প্রতিমা গড়ছেন প্রদীপ রুদ্র পাল।

গত বছরের থিম ছিল ‘জাতে মেটাল, তালে ঠিক’। মণ্ডপসজ্জায় তামা-পিতল-কাঁসা ব্যবহার করা হয়েছিল। প্রবেশপথে এক লক্ষ পিতলের ঘণ্টা দিয়ে তৈরি হয়েছিল হনুমানজির মূর্তি।

বালিগঞ্জ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের এ বারের পুজোর উদ্বোধন হবে যথারীতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে।

পথনির্দেশ

গড়িয়াহাট থেকে রাসবিহারী মোড়ের দিকে যেতে ডান দিকে লেক ভিউ রোডে মণ্ডপ। দেশপ্রিয় পার্কের কাছে, প্রিয়া সিনেমার উলটো দিকে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন