durga idol of sreebhumi sporting club

বোধনের ঢাকে আনুষ্ঠানিক ভাবে কাঠি পড়তে এখনও দু’ দিন। কিন্তু কলকাতা ও শহরতলিতে মানুষের ঠাকুর দেখার ঢাকে কাঠি পড়ে গিয়েছে ইতিমধ্যেই। বেশির ভাগ নামকরা পুজোরই উদ্বোধন হয়ে গিয়েছে। রাস্তায় বেরিয়ে পড়েছেন বহু মানুষ। মহালয়ার পর থেকেই ফি সন্ধ্যায় মহানগরের রাস্তায় হচ্ছে জ্যাম। তাই খবর অনলাইনও বেরিয়ে পড়ল, পুজো পরিক্রমা সারতে। কলকাতা শহরকে কী ভাবে ভাগ করবেন, কী ভাবে শুরু করবেন ঠাকুর দেখা, কোন কোন ঠাকুর দেখবেন – এ সবেরই সুলুকসন্ধান।

রবিবার চতুর্থী। শুরু করা যাক উত্তর-পূর্ব কলকাতা দিয়ে। প্রথমেই যাওয়া যেতে পারে দমদম-লেকটাউন অঞ্চলে। সেখান থেকে ঘুরে ঢুকে পড়ুন সল্টলেকে।

দমদম

দমদম নরসিংহ অ্যাভিনিউ

এ বছরের থিম ‘পুতুলের স্বর্গ’। প্রায় ২৫০টি পুতুল ব্যবহার করা হয়েছে মণ্ডপে। বিশেষ একটা ঘরানার শিল্পকে তুলে ধরা হয়েছে এখানে। দমদম নাগের বাজার মোড়ের কাছেই মণ্ডপ।

শাস্ত্রীবাগান স্পোর্টিং ক্লাব

শীততাপনিয়ন্ত্রিত মণ্ডপ। থিম ‘স্বপ্ন’। মণ্ডপে তিনটি ধাপ রয়েছে। প্রথমে চোখের মতো একটা অংশ রয়েছে। তার পরের ধাপে চিত্রকলার মাধ্যমে নানান রঙিন স্বপ্ন দেখানো হয়েছে। তৃতীয় ধাপে ভাসমান বিশ্ব। দেবীমূর্তিও ভাসমান অবস্থায়। জোড়া মন্দির বাসস্টপের কাছে।

দমদম পার্ক তরুণ দল

মাঝিমাল্লাদের জীবন আর তাদের ব্যবহারের জিনিসপত্র নিয়ে থিম আর মণ্ডপ। মণ্ডপ নৌকোর আদলে। আছে জেটি, পালতোলা নৌকো, জল আকাশ ইত্যাদিও। ঠাকুর থিমের সঙ্গে মিলিয়ে। দমদম পার্ক পোস্ট অফিসের কাছে।

দমদম পার্ক তরুণ সংঘ

‘মাতানি পাছেড়ি’ গুজরাতের বাগরি উপজাতিদের একটা প্রাচীন চিত্রকলা। এ বারের থিম এটাই। রয়েছে রংবেরঙের চাঁদোয়া দিয়ে মণ্ডপসজ্জা, পাথরে খোদাই করা দেবীমূর্তি। দমদম পার্ক, ট্যাঙ্ক নম্বর ৩–এর কাছে।

দমদম পার্ক ভারতচক্র

এ বারে থিম ‘শক্তিরূপেণ সংস্থিতা’। মন্দিরের আদলে মণ্ডপ, তিন চত্বরে বিভক্ত। লোহার কাঠামোর ওপর থাকছে পাইন কাঠের পাখা, এটা ঘোরাবেন দর্শনার্থীরাই। দ্বিতীয় ভাগে নানা রকম পুতুলের সাজ। এই পুতুল এসেছে ওড়িশার রঘুরাজপুর থেকে। তৃতীয় ভাগে দেবী দুর্গা। চতুর্থ ভাগে আঁকার মাধ্যমে শক্তিরূপীণী দেবীর মহিষাসুরমর্দিনী রূপ। দমদম পার্ক, ট্যাঙ্ক নম্বর ২–এর কাছে।

দমদম পার্ক যুবকবৃন্দ

পাপোশের মণ্ডপ। তাতে উঠে এসেছে আদিবাসীদের শিল্পকলা, সংস্কৃতি। বিশেষ আকর্ষণ, পুজোর ক’দিন ৩৬ জন আদিবাসী শিল্পীর লোকসংস্কৃতি প্রদর্শন। দমদম পার্ক, ট্যাঙ্ক নম্বর ৪–এর কাছে।

লেকটাউন

লেকটাউন আদিবাসীবৃন্দ

এ বার ‘পুজোর সে-কাল এ-কাল’। থিম অনুযায়ী পুজোর বিবর্তন দেখানো হয়েছে একচালা, আর্ট আর থিমের ঠাকুরের সাহায্যে। কাঠের মণ্ডপে এই তিন ধরনের ঠাকুর। বিবর্তন বোঝানোর জন্য রয়েছে রথের চাকা, ঘড়ির কাঁটার মতো আরও কিছু বিষয়ও। গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে আলোর কাজে। জয়া সিনেমা হলের কাছে।

লেকটাউন নেতাজি স্পোর্টিং

পরিবেশ রক্ষা করার বার্তা দেওয়া হয়েছে মণ্ডপ আর তার চার ধারের সাজসজ্জার সাহায্যে। জলাশয়, ফুলপাতা, গাছপালা, জলে জ্যান্ত রাজহাঁস ইত্যাদি রয়েছে থিম ভাবনা তুলে ধরতে। যশোর রোডের দিকে লেকটাউন এ ব্লকের কাছে।

লেকটাউন নতুন পল্লি প্রদীপ সংঘ

গ্রামকে তুলে আনা হয়েছে প্রদীপ সংঘের মাঠে। মাঝে ধানের গোলা, সেটাই মণ্ডপ।  থিমের ছোঁয়ায় সাবেক প্রতিমা। ঢোকার মুখে লক্ষ্মীর বাহন বিশাল দু’টি প্যাঁচা স্বাগত জানাচ্ছে দর্শকদের। বাসস্টপ নতুনপল্লি। এস কে দেব রোডের ওপর পুজো।

sreebhumi sporting clubশ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাব

বাহুবলী ২ সিনেমার রাজপ্রাসাদের অনুকরণে তৈরি হয়েছে বিশাল মণ্ডপ। ভেতরে রয়েছে প্রাসাদের ভেতরের সুন্দর সাজসজ্জা। সঙ্গে বিভিন্ন রকমের মডেল। হাতির পায়ের নীচে দিয়ে মণ্ডপে ঢুকতে হবে দর্শকদের। সাবেক প্রতিমার সোনার গয়না হল মূল আকর্ষণ। লেকটাউন শ্রীভূমি বাসস্টপ।

সল্টলেক

লাবণি আবাসন

লাবণি আবাসনের পুজোয় সহিষ্ণুতার বার্তা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে মণ্ডপে। সঙ্গে প্রতিমাও নজর কাড়বে। সঙ্গে দারুণ আলোর কাজ।

এফডি ব্লক

এ বারে রয়েছে গ্রামের পরিবেশ। শহরের জটাজাল কাটিয়ে গ্রামের আমেজ দিতে সুন্দর আলোর ব্যবহার করা হয়েছে মণ্ডপসজ্জায়। মানানসই দেবীমূর্তি।

বিজে ব্লক

বিভিন্ন রাজ্যের শিল্প আর লোকসংস্কৃতির মেলবন্ধনে মণ্ডপ। তাল মিলিয়ে প্রতিমা। মূর্তিতে ঐক্যের সুর।

একে ব্লক

চিত্রকলার বিভিন্ন আঙ্গিকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে নারীদের উত্থান কাহিনি। লড়াই করে নারীদের এগিয়ে চলতে হয়। আজ তাঁরা প্রথম সারির সদস্য। এটাই বোঝানো হয়েছে।

এই পার্ট ওয়ান

জ্যামিতিক নকশার মাধ্যমে প্রাচীন মানব সভ্যতা, এটাই থিম। ব্যবহার করা হয়েছে কোমা, টিকি আর টোটেম শিল্পকলার। বেত, গাছের ডাল, শুকনো সরষের ব্যবহারও রয়েছে। মণ্ডপের ভেতরে রয়েছে কাঠের গুঁড়ি খোদাই করে কাজ।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন