hari ghosh street puja
হরি ঘোষ স্ট্রিটের পূজা।

খবর অনলাইন উত্তর কলকাতার দ্বিতীয় ভাগে পরিক্রমা শুরু করেছে কলকাতার অন্যতম সাবেক র্সবজনীন পুজো বাগবাজার দিয়ে। তার পর কুমোরটুলি অঞ্চল ছুঁয়ে ফিরে এসেছে শ্যামবাজারে। তার পর বিধান সরণি বরাবর গিয়ে মানিকতলা অঞ্চলে শেষ করেছে এই পরিক্রমা। আসুন, তা হলে বেরিয়ে পড়ি এই পথে।

বাগবাজার সর্বজনীন

প্রতিবারের মতোই বিশাল প্রতিমা। একচালা ঠাকুর, ডাকের সাজ। সামনের মাঠে বিশাল মেলা। গিরিশ মঞ্চের পাশে মাঠের ওপর মণ্ডপ।

কুমোরটুলি সর্বজনীন

এ বারে স্মরণ করছে প্রয়াত শিল্পীদের। থিম ‘শ্রদ্ধাঞ্জলি’। উপকরণ বাঁশ, খড়, গয়না, রঙের পুঁটলি ইত্যাদি। মণ্ডপের ভেতরে কাঠের লরিতে প্ল্যাস্টিকের মোড়কে প্রতিমা। ঠিক যেন কুমোরটুলি থেকে প্রতিমা চলেছে মণ্ডপে। কুমোরটুলিতে নেমে গঙ্গার দিকে যেতে গলির ভেতর মণ্ডপ।

কুমোরটুলি পার্ক

থিমে সবুজায়নের বার্তা। মণ্ডপ বৃন্দাবনের একটা মন্দিরের আকারে। প্রতিমাকে বিশ্বসুন্দরীর শিল্প ভাবনায় গড়ে তোলা হয়েছে। কুমোরটুলি পার্কে নেমে গলির ভেতর একটু এগোলে বাঁ দিকে পার্কে মণ্ডপ।

আহিরিটোলা সর্বজনীন

থিমের নাম ‘সৃষ্টির গলক বৃত্ত’। পৃথিবী আর জীবন-মৃত্যু দু’ই চক্রাকারে ঘোরে, সেটাই থিম। রয়েছে চারটে গোলক। লোহার কাঠামো, প্লাই, কাঠ, ইত্যাদি দিয়ে মানুষ, পশুপাখির আকৃতি বানানো হয়েছে। থিমের সঙ্গে মিলিয়ে সাবেক ঠাকুর। আহিরিটোলার মোড়েই মণ্ডপ।

বিকে পাল সন্ধানী সর্বজনীন

এদের এ বারের থিম ‘ত্রিভুবন’। ‘ত্রিভুবন’-এ রয়েছেন ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বর তিন দেবতাই। সামনে ১৮ ফুটের শিবমূর্তি। মণ্ডপটি এমন যেন পাথর কেটে তৈরি মন্দির। ভেতরে অসংখ্য শিবলিঙ্গ। থিমের সঙ্গে মিলিয়েই আর্টের দুর্গাপ্রতিমা। শোভাবাজার মেট্রো স্টেশন থেকে বিকে পাল অ্যাভিনিউর দিকে হেঁটে ২-৩ মিনিট। স্টেট ব্যাঙ্কের পাশেই মণ্ডপ।

শ্যামবাজার পল্লি সংঘ

এ বারে থিম ঐতিহ্যের বাতায়নে নতুনের জয়গান। পটচিত্র দিয়ে গোটা মণ্ডপ। উদ্দেশ্য, হারানো পটচিত্রশিল্পকে আবার ফিরিয়ে আনা। মণ্ডপের সামনে রয়েছে নবান্ন উৎসব আর বৃক্ষরোপণের মোটিফ। ভূপেন বোস অ্যাভিনিউয়ের ওপর মণ্ডপ।

মোহনবাগান বারোয়ারি

১০১ বছরে ডাকের সাজে ১৩ ফুটের সাবেক প্রতিমা। মণ্ডপসজ্জায় হ্যালোজেন আর টুনিলাইটের ব্যবহার রয়েছে। শ্যামবাজার থেকে হাতিবাগান যাওয়ার পথে বাঁ হাতে গলির ভেতর পুজো।

শিকদারবাগান

পরিবেশ সচেতনতা নিয়ে ১০৫ বছরে শিকদারবাগান। চাঁচড়ি বাঁশ হোগলাপাতা দিয়ে মণ্ডপসজ্জা। বলতে চাওয়া হয়েছে ‘থাকুক সৃষ্টি, বাঁচুক প্রাণ’। প্রতিমা একচালার। বাঁশের কাজের ছোঁয়া রয়েছে প্রতিমার সাজ আর আলোকসজ্জায়। টাউন স্কুল বাসস্টপের কাছে গলির মুখে পুজো।

হাতিবাগান সর্বজনীন

এ বারের থিমভাবনা ‘উড়ান’। রয়েছে বারাণসীর বিশেষ ধরনের লোকশিল্প। থিমের সঙ্গে মিলিয়ে প্রতিমা। খড়, প্লাস্টিক দিয়ে মণ্ডপসজ্জা। আবহসংগীত করেছেন জয় সরকার। হাতিবাগান মোড় থেকে খান্নার দিকে যাওয়ার পথে মণ্ডপ।

darjipara sarbojanin দর্জিপাড়া সর্বজনীন

জীবনে চলার পথে নানা রকমের বাধা আসে। সেই বাধা কাটিয়ে এগিয়ে চলাই জীবনযুদ্ধ। সেই এগিয়ে চলাকেই নানা ভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে দর্জিপাড়ার মণ্ডপে। হাতিবাগান থেকে কলেজ স্ট্রিটের দিকে যেতে রূপবাণী বাসস্টপে নেমে, ডান দিকে লক্ষ্মীনারায়ণ চপের দোকানের গায়ে গলির ভেতরে। ব্ল্যাকস্কোয়ার পার্কের মাঠে পুজো।

kashi bose lane pujaকাশীবোস লেন

থিম ‘আবহ’। মণ্ডপ তৈরি হয়েছে একতারা, হারমোনিয়াম, পিয়ানো, ১৯০১ বা তার সমসাময়িক বেশ কয়েক ধরনের অ্যান্টিক রেডিও, তুলো ধোনার যন্ত্র ইত্যাদি দিয়ে। মণ্ডপকে ভাগ করা হয়েছে তিন পর্বে। থিমের সঙ্গে মিলিয়ে দেবীমূর্তি। রূপবাণী বাসস্টপে নেমে হেদুয়ার দিকে একটু এগোলেই ডান হাতে গলির ভেতর মণ্ডপ।

হরি ঘোষ স্ট্রিট

বিশাল শিবলিঙ্গের ভেতরে মা দুর্গা। এলাকাটাকে একটা প্রাচীন তীর্থস্থানের রূপ দেওয়া হয়েছে। ব্যবহার করা হয়েছে শিবপুজোর যাবতীয় সরঞ্জাম। বিধান সরণিতে হেদুয়া পার্ক বাসস্টপে নেমে উলটো দিকে বিডন স্ট্রিটে ঢুকে ডান হাতের প্রথম গলি হরি ঘোষ স্ট্রিট। একটু এগোলেই মণ্ডপ।

বিডন স্ট্রিট সর্বজনীন

রাজবাড়ির ঠাকুরদালানের আদলে মণ্ডপ। একচালার সাবেক প্রতিমা। দেবীর মুকুট আনা হয়েছে বর্ধমান থেকে। বিবেকানন্দ রোড ক্রসিং-এ নেমেই বিডন স্ট্রিট ধরে হাঁটলেই একটু গেলে মণ্ডপ।

সিমলা ব্যায়াম সমিতি

৯২ বছরে তৈরি হয়েছে মহীশূরের রাজপ্রাসাদ। রয়েছে পাটের মডেল। হোগলাপাতার ওপর কারুকার্য করে মণ্ডপ সাজানো হয়েছে। মণ্ডপ তৈরি হয়েছে প্লাই দিয়ে। ঠাকুর ঐতিহ্য মেনে সাবেক ধরনের। বিবেকানন্দ রোড দিয়ে গিরিশ পার্কের দিকে হাঁটলে বাঁ দিকে মণ্ডপ।

chaltabaganচালতাবাগান

হীরক জয়ন্তীতে থিম ‘চাই না বন্দি, চাই মুক্তি’। মন্দিরের আকারে মণ্ডপ। খাঁচায় বন্দি পশুপাখিদের আর্তনাদ আছে, তাদের নিজেদের একটা মুক্ত জগৎ আছে। তাদের সেখানেই ছেড়ে দিতে হয়। এই বার্তা দিয়েই থিম ভাবা হয়েছে। আটার চালুনির ওপর গাছ, ফুল, পশু, পাখি দিয়ে মণ্ডপ সাজানো হয়েছে। আট ফুটের একটা সিংহও রয়েছে। উপকরণ তামা, পিতল, লোহা, সাদা সিমেন্ট ইত্যাদি। আমহার্স্ট স্ট্রিট ও বিবেকানন্দ রোডের ক্রসিং-এ নেমেই সামনে মণ্ডপ।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন