tala palli
টালা পল্লি।

উত্তর কলকাতা বলতে নির্দিষ্ট কোনো সীমানা টানা মুশকিল। তাই লেনিন সরণির উত্তরাংশকে উত্তর কলকাতা ধরে নিয়ে খবর অনলাইন এখানে পুজো পরিক্রমা করেছে দু’ ভাগে। প্রথম ভাগে খবর অনলাইনের পুজো পরিক্রমা  শুরু হয়েছে টালা অঞ্চল থেকে। তার পর সোজা আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রোড ধরে শিয়ালদহ। তার পর কলেজ স্ট্রিট ছুঁয়ে মহম্মদ আলি পার্কে গিয়ে শেষ হয়েছে। আসুন, তা হলে বেরিয়ে পড়ি এই পথে।

tala baroyariটালা বারোয়ারি               

যুগের থেকে ৫০ বছর এগিয়ে টালা বারোয়ারি। যন্ত্রায়ণের যুগে আগামী কয়েক বছরে কী হাল হতে চলেছে সমাজের, তারই একটা ইঙ্গিত দিতে এই থিমভাবনা। থিমের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ঠাকুর। টালা পোস্ট অফিস বাসস্টপে নেমে ডান দিকে এই পুজো।

টালাপল্লি সাধারণ দুর্গোৎসব

থিম ‘শহরে নাকি টাকা ওড়ে’। জাগতিক সুখের পেছনে ছুটতে গিয়ে হারিয়ে যাচ্ছে জীবনের স্বাভাবিক সুখ, শান্তি। সেই বার্তা রয়েছে এই থিমে। সাদা পোশাকে দেবী সিংহের ওপর বসা। অসুর যুদ্ধে নয়, ধ্যানে মগ্ন। টালা পোস্ট অফিস বাসস্টপে নেমে বাঁ হাতেই মণ্ডপ ব্রিজের পাশেই।

tala parkটালা পার্ক প্রত্যয়

৯২ বছরের থিমে ত্রিমাত্রিক আলোরসজ্জা স্থান পেয়েছে। রেক্সিন, প্লাস্টিক পাইপ, কাপড় দিয়ে মণ্ডপসজ্জা। ভাবনায় স্বর্গ দেখার ইচ্ছা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। দেবীর শান্ত রূপ। টালা পার্কের কাছে মণ্ডপ।

টালা সরকারবাগান সম্মিলিত সংঘ

প্ল্যাটিনাম জুবিলিতে  থিম ‘শুদ্ধং দেহি’। অশুভ শক্তির বিনাশের ভাবনায় এই থিম। প্রবেশ পথে ১০০ ফুটের দেওয়াল রয়েছে দু’ পাশে। তার ওপর ব্রাশ, ঝাড়ু ইত্যাদি দিয়ে সাজানো হয়েছে। মণ্ডপসজ্জা, প্রতিমার পেছনের চালচিত্রেও এই উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে। সাবেক প্রতিমা। টালা স্টেশনের কাছে মণ্ডপ।

হাতিবাগান নলিন সরকার স্ট্রিট

টালা ছেড়ে চলে আসি খান্নার মোড়ের কাছে নলিন সরকার স্ট্রিটে। এদের পুজোর থিম মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে। উদ্বোধনও করেছে তারাই। দেবী মায়ের কাছে তারা অনুরোধ জানিয়ে চিঠি লিখেছে কৈলাসে, তিনি যেন তাদের বাড়িতে আসেন। তাদের ডাকে সাড়া দিয়েছেন মা। মণ্ডপে মা দেবীর সাজে নয়, মায়ের সাজে, সম্পূর্ণ আটপৌরে সাজে।

বৃন্দাবন মাতৃমন্দির

১০৮ বছরের পুজো। ১০৮টা প্রদীপ, পদ্ম, বেলপাতা আর দুর্গানামে সাজানো হয়েছে মণ্ডপ। থিম ‘সৃষ্টি সুরের উল্লাসে’। রয়েছে শিবঠাকুরের বরবেশ, অ্যালুমিনিয়ামের ওপর ঠুকে কাজ করা গয়না। গয়নায় নদিয়ার বিশেষ শিল্প।সুকিয়া স্ট্রিট বাসস্টপে নেমে বাঁ দিকে একটু এগোলে নজরে পড়বে মণ্ডপ।

শিয়ালদা অ্যাথলেটিক ক্লাব

৭০তম বর্ষে মুম্বইয়ের ছত্রপতি শিবাজি স্টেশনের সামনের অংশের মতো মণ্ডপ তৈরি হয়েছে। মণ্ডপময় বেগুনি আর তার ওপর থাকবে সোনালি, রুপোলি রঙের আধিক্য। রয়েছে বিশাল ঝাড়বাতি। উপকরণে রয়েছে থার্মোকল আর প্লাই। রয়েছে ২৭ ফুটের সাবেক প্রতিমা। শিয়ালদা স্টেশন বাসস্টপে নেমে বাঁ হাতে গলির ভেতর মাঠের ওপর বিশাল মণ্ডপ।

সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার বা লেবুতলা পার্ক

৮২ বছরের পুজো। বিশেষ আকর্ষণ, প্রতিমার কাপড় তৈরি হয়েছে ২০-২৫ কিলোর সোনা দিয়ে। অন্য দেবদেবী আর অসুরও পরেছে সোনার বস্ত্র। উদ্দেশ্য, বিশ্ব বাংলায় স্বর্ণশিল্পকে আলাদা মাত্রায় পৌঁছে দেওয়া। মণ্ডপ লন্ডনের বাকিংহাম প্যালেসের আদলে। রয়েছে লন্ডনের অন্যান্য স্থাপত্য – ওয়াচটাওয়ার, বিগ বেন, লন্ডন ব্রিজ। শিয়ালদা অঞ্চলে লেবুতলা পার্কে মণ্ডপ।

কলেজ স্কোয়ার

জয়পুরের রানি সতীর মন্দিরের আদলে মণ্ডপ। ভেতরে সাবেক দুর্গার সঙ্গে অন্যান্য দেবদেবীও রয়েছেন। প্রবেশপথে ১৫ ফুটের বজরঙ্গবলীর মূর্তি। উপকরণে স্থান পেয়েছে লোহা, বেত, অ্যালুমিনিয়াম, থার্মোকল। সঙ্গে রয়েছে চন্দননগরের আলোর সাজ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উলটো দিকে পার্কের ভেতর মণ্ডপ।

কানাইধর লেন অধিবাসীবৃন্দ

থিম ‘অবগুণ্ঠিতা নারীশক্তি’। কন্যা ভ্রূণহত্যার প্রতিবাদ জানিয়ে এই থিমভাবনা। এখানে নারীদের সামাজিক মর্যাদাদানের বার্তা দেওয়া হয়েছে। প্লাই, চট, লোহার জাল ইত্যাদি হল উপকরণ। কলেজ স্কোয়ারের পেছনে রাজা রামমোহন সরণির কাছে।

md.ali park puja mandapমহম্মদ আলি পার্ক

৪৯তম বর্ষে বাঙলার ছয় ঋতু নিয়ে থিম। কাজ হয়েছে ফাইবার, প্লাই, কাঠ, কাপড়, বাঁশ ইত্যাদি দিয়ে। ঠাকুর থিমের সঙ্গে মিলিয়ে। মহাত্মা গান্ধী রোড ও চিত্তরঞ্জন অ্যাভেনিউয়ের মোড়ের কাছে মহম্মদ আলি পার্ক।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন