jodhpur park sarbojanin

উত্তর ও পূর্ব কলকাতায় পুজো পরিক্রমা সেরে খবর অনলাইন বেরিয়ে পড়েছে দক্ষিণ কলকাতায় পরিক্রমা সারতে। উত্তরের মতো দক্ষিণও বিশাল এলাকা। তাই এই এলাকাকেও আমরা দু’টো ভাগে ভাগ করে নিচ্ছি। প্রথম ভাগ শুরু করছি পার্কসার্কাস অঞ্চল থেকে। এর পর পুরোনো বালিগঞ্জ, পিকনিক গার্ডেন হয়ে গড়িয়াহাট এলাকা। তার পর কসবা ঘুরে ফের গড়িয়াহাট হয়ে রাসবিহারী অ্যাভিনিউ বরাবর। তার পর ঢাকুরিয়া, যোধপুর পার্কে গিয়ে এই পরিক্রমা শেষ।  

পার্ক সার্কাস সর্বজনীন

অক্ষরধাম মন্দিরের আদলে মণ্ডপ। প্রতিমা সাবেক ধরনের। উপকরণে রয়েছে থার্মোকল, প্লাই ইত্যাদি। বিশেষ আকর্ষণ পুজোকে ঘিরে এক মাসের মেলা। পার্ক সার্কাস সাতমাথা মোড়ের কাছে পার্ক সার্কাস ময়দানে মণ্ডপ।

আদি বালিগঞ্জ সর্বজনীন

বদ্রিনাথ মন্দিরের আদলে মণ্ডপ। চার নম্বর ব্রিজ থেকে দিলখুসা স্ত্রিট হয়ে রাইফেল রেঞ্জ রোড ধরে গেলে ডান দিকে মণ্ডপ।

সুনীলনগর সর্বজনীন

বন্ডেল ফ্লাইওভার পেরিয়ে চলে যান ভিআইপি রোডের দিকে। পিকনিক গার্ডেন রোডে পেয়ে যাবেন সুনীলনগর সর্বজনীন। রুদ্রাক্ষ, বেল, কদবেল ইত্যাদি শুকিয়ে মণ্ডপসজ্জা করা হয়েছে। মণ্ডপ কাল্পনিক মন্দিরের ধাঁচে। শুকনো ফলের গয়নাও রয়েছে প্রতিমার পরনে।

২১ পল্লি সর্বজনীন

আবার ফিরে আসুন বন্ডেল ফ্লাইওভার ধরে বালিগঞ্জ ফাঁড়ির দিকে। বালিগঞ্জ প্লেস ও বন্ডেল রোডের মোড়ে ২১ পল্লি। এদের এ বারের পুজোর থিম ‘ভালোবাসতে মা শিখিয়েছে’।

ekdaliya evergreenএকডালিয়া এভারগ্রিন

চেন্নাইয়ের অষ্টলক্ষ্মী মন্দিরের আদলে মণ্ডপ। ২৮ ফুটের সাবেক প্রতিমার পরণে জরদৌসি বেনারসি শাড়ি। আলোকসজ্জায় ডিজনি ওয়ার্ল্ড। গড়িয়াহাট মোড়ের কাছে একডালিয়া রোডে মণ্ডপ।

singhi parkসিংহী পার্ক

এ বারের থিম ‘মুক্তাকাশে মানবতার বাহুপাশে’। মহীশূরের নমদ্রলিং গুম্ফার আদলে মণ্ডপ। তিব্বতী ঘরানার আলোর সাজ। একচালা সাবেক প্রতিমা। বুদ্ধের চিন্তাচেতনা জীবনাদর্শ তুলে ধরাই উদ্দেশ্য। গড়িয়াহাট মোড়ের কাছে ডোভার লেনে মণ্ডপ।

বোসপুকুর শীতলামন্দির

বিজন সেতু পেরিয়ে চলুন কসবার দিকে। বোসপুকুর মোড়ে রাসবিহারী কানেক্টরের ওপর শীতলামন্দির। এক সময় ভাঁড়ের মণ্ডপ করে যারা তাক লাগিয়ে দিয়েছিল, তাদের এ বারের আকর্ষণ পাইপে ঝাড়বাতি।

বোসপুকুর তালবাগান

এদের পুজোর বিশেষ আকর্ষণ থ্রিডি পেন্টিং। তার সঙ্গে রয়েছে পুতুলনাচ। বোসপুকুর শীতলামন্দিরের কাছেই তালবাগানের মণ্ডপ।

হিন্দুস্থান পার্ক

চলে আসুন গড়িয়াহাট মোড়ের দিকে। চলুন রাসবিহারী অ্যাভিনিউ বরাবর। কিছুটা গেলেই মণ্ডপ। থিম ‘মিলে গেছে আঁধার আলোয়’। কালো যে খারাপ নয়,  তা দিয়েও যে দারুণ শিল্পসৃষ্টি হতে পারে তাই দেখানো হয়েছে থিমে। আঁধার পেরিয়ে আলোয় পৌঁছনো। মা দুর্গাই সেই আলোর উৎস।

tridhara sammilaniত্রিধারা সম্মিলনী

‘মোড়কে মানুষ’ থিমে দেখানো হয়েছে মানুষের ক্রিয়াকলাপে ধ্বংস হচ্ছে প্রকৃতি, তবুও হুঁশ নেই। থিমের সঙ্গে মিলিয়ে প্রতিমা। রাসবিহারী অ্যাভিনিউয়ে ট্রাঙ্গুলার পার্কের উলটো দিকে ত্রিধারা।

বালিগঞ্জ কালচারাল

থিম ‘জাতে মেটাল, তালে ঠিক’। মণ্ডপসজ্জায় তামা-পিতল-কাঁসা ব্যবহার করা হয়েছে। প্রবেশপথে এক লক্ষ পিতলের ঘণ্টা দিয়ে তৈরি হনুমানজির মূর্তি রয়েছে। সাবেক প্রতিমা। দেশপ্রিয় পার্কের দিকে যেতে ডান দিকে লেক ভিউ রোডে মণ্ডপ।

বালিগঞ্জ সমাজসেবী সংঘ

বিষয় ‘সবুজের অভিযান’। শৈশব হারিয়ে যাচ্ছে শিশুদের জীবন থেকে, তাঁরা যন্ত্রে পরিণত হয়েছে। তাই শৈশব ফিরিয়ে দেওয়ার আর্তনাদ মায়ের কাছে। মণ্ডপে রয়েছে চারটি ভাগ। তিন ভাগ পেরিয়ে পৌঁছোতে হবে মায়ের কাছে। প্রতিমা সাবেক। লেক ভিউ রোডে মণ্ডপ।

deshapriya parkদেশপ্রিয় পার্ক

তাইল্যান্ডের হোয়াইট টেম্পলের অনুকরণে মণ্ডপ। ‘দ্য সাইকেল অব রিবার্থের সেতু’ পেরিয়ে ‘গেট অব হেভেন’-এ পৌঁছোতে হচ্ছে। শুদ্ধ চিত্তে ভগবানের কাছে যেতে হয় এই ভাবনা থিমে। দেবীও তাইল্যান্ডের শিল্পকলায় তৈরি। রাসবিহারী অ্যাভিনিউয়ে  দেশপ্রিয় পার্কে মণ্ডপ।

বাবুবাগান

এ বার রাসবিহারী অ্যাভিনিউ ছেড়ে চলা যাক ঢাকুরিয়ায়। ঢাকুরিয়া বাসস্টপে নেমে বাঁ দিকে মণ্ডপ। এদের থিম ‘বারো মাসে তেরো পার্বণ’। মণ্ডপে রয়েছে চারটে রথ। মণ্ডপসজ্জায় ব্যবহার হয়েছে নানান ধরনের কুপি। রয়েছে বিষ্ণুপুরের দশাবতার তাস আর কালীঘাটের পটচিত্র।

95 palli৯৫ পল্লি

থিম ‘অধরা’। ঈশ্বরের অবস্থান মনের ভেতর। বাইরে কিছুতে খুঁজতে গেলে তিনি সব সময় অধরাই থেকে যান। তাঁকে ধরা যায় না। অনুভব করতে হয়। থিমের সঙ্গে মিলিয়ে দেবী মূর্তি। ঢাকুরিয়া বাসস্টপে নেমে খানিকটা ডান দিকে যোধপুর পার্কের রাস্তায় কিছুটা ভেতরে মণ্ডপ।

selimpur palliসেলিমপুর পল্লি

থিমের নাম ‘অনুরণন’। থিমে রয়েছে রবীন্দ্রনাথের ‘রক্তকরবী’র ব্যবহার। অসুর রয়েছে রাজার বেশে। দেবীকে এখানে গল্পের নায়িকা। মনের অশুভ শক্তি দমন করে শুভ শক্তিকে উদ্ভাসিত করার বার্তা দেওয়া হয়েছে। উপকরণ পাইন কাঠ, পিতল ইত্যাদি। কাঠের ওপর আর্টের কাজ করা হয়েছে। সেলিমপুর বাসস্টপে নেমে গলির ভেতর মণ্ডপ।

jodhpur park pandalযোধপুর পার্ক

থিম ‘নীড় ছোটো ক্ষতি নেই, আকাশ তো বড়ো’। মণ্ডপ যেন বিশাল পাখির বাসা। রয়েছে অসংখ্য পাখি। মানুষ পার্থিব চাহিদায় আটকে পড়েছে, স্বার্থপরতায় মগ্ন। ছোটো ছোটো আনন্দের কোনো মূল্য নেই তাদের কাছে। সাবেক প্রতিমায় থিমের ছোঁয়া।  ঢাকুরিয়ার দিকে থেকে গেলে সেলিমপুর বাসস্টপে নেমে ডান দিকে গলির ভেতর পার্কের ওপর পুজো।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here