suruchi sangha, new alipur

খবর অনলাইন দক্ষিণ কলকাতার দ্বিতীয় পর্বে পুজো পরিক্রমা শুরু করছে ভবানীপুর থেকে। ক্রমশ এগিয়ে যাচ্ছে দক্ষিণে। সোজা টালিগঞ্জের দিকে যেতে যেতে রাস্তার দু’ দিকে ঠাকুর দেখা। এর ফাঁকেই চেতলা ও নিউ আলিপুর ছুঁয়ে আসা। তার পর টালিগঞ্জ ট্রাম ডিপো থেকে অটোয় চেপে হরিদেবপুরে তিনটি ঠাকুর দেখে ট্রাম ডিপোয় ফিরে সেখান থেকে কুদঘাট
ছুঁয়ে পশ্চিম পুটিয়ারি গিয়ে এ যাত্রায় পরিক্রমা শেষ করা হয়েছে।

ভবানীপুর ৭৫ পল্লি

মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্ন, কলকাতাকে লন্ডন বানানোর। সেই ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিয়েই থিম ‘আমার স্বপ্ন ভবানীপুর’। মণ্ডপের পথে গলির মুখে লন্ডনের ঘড়ি। গোটা রাস্তায় লন্ডনের পরিবেশ। কিন্তু পেছনেই কলকাতার পুরোনো বাড়ির বাস্তব চিত্র। তবে থিমের বাইরের আবরণটাই লন্ডনের। মণ্ডপের ভেতরের স্বপ্ন শরতের। সেখানে কাশ ফুল, বৃষ্টিময় শরতের আকাশ, পেঁজা তুলোর মতো মেঘ, সঙ্গে পরী। দেবী বরণের পরিবেশ। ঠাকুরের অলংকার তৈরি হয়েছে বাঁকুড়ার ডোকরা শিল্পীদের হাতে। প্রতিমা মেহগনি কাঠের। নেতাজি ভবন মেট্রো স্টেশন থেকে অল্প হেঁটে গলির ভেতরে মণ্ডপ।

bhawanipore kishore sanghaভবানীপুর কিশোর সংঘ

সুবর্ণজয়ন্তীতে ‘মঙ্গলময়’ থিম। ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে হিন্দু মুসলিম শিখ সর্বধর্ম সম্বন্বয়ের বার্তা। একটা তীর্থস্থানের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। মণ্ডপে ঢোকার মুখে পুজোর ডালির দোকান, একটা প্রাচীন গাছ, বিভিন্ন পার্শ্ব দেবতার মন্দির। নেতাজি ভবন মেট্রো স্টেশন থেকে যদুবাবু বাজারের দিকে অল্প হেঁটে গলির ভেতরে মণ্ডপ।

চক্রবেড়িয়া সর্বজনীন

থিমের নাম ‘বাবুয়ানি’। ফিটন গাড়ি, বাবুদের বাড়ির হাতপাখা, টানাপাখা, গড়গড়া ইত্যাদি দিয়ে মণ্ডপ সাজানো হয়েছে। বিরাট ঠাকুরদালান, এক চালার সাবেক ঠাকুর। যদুবাবুর বাজার বাসস্টপ বা নেতাজি ভবন মেট্রো স্টেশন নেমে হাঁটা পথে মণ্ডপ।

অবসর

বিশ্ব উষ্ণায়ণ এ বারের থিম। বিশাল কাচের মণ্ডপ। কাচের বিশাল গ্লোব বানানো হয়েছে। এই গ্লোবটার উচ্চতা ৪০ ফুট, চওড়ায় ৩৪ ফুট। লম্বায় ১২০ ফুট। ফিরোজাবাদের শিল্পীরা ছ’ মাস ধরে তৈরি করেছেন। রয়েছে লোহার কাঠামো। দেবীর হাত ধরে আসছে ঠান্ডা বাতাসের আমেজ। আবহ করেছেন পণ্ডিত বিক্রম ঘোষ। পূর্ণ সিনেমার বিপরীতে।

muktodal, bhawaniporeভবানীপুর মুক্তদল

‘নারী শক্তি মহামায়া’। দেবীদুর্গাও একজন নারী। আর সমাজেও নানা ক্ষেত্রে নারীরাই বিভিন্ন পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করেন, ঘরে বাইরে সর্বত্র। তা ছাড়া বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী, মহাকাশচারী সব জায়গায় নারীর পদচারণা। সেটাকেই কোলাজের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। মূল উপকরণ শান্তিনিকেতনের কাঠের পুতুল, চাঁদমালা। তা ছাড়া থার্মোকল, সানপ্যাক, প্লাই ইত্যাদি রয়েছে। ঠাকুর সাবেক ধরনের। হরিশ মুখার্জি রোডের ওপর, নেতাজি ভবন বা যতীন দাস পার্ক মেট্রো স্টেশন থেকে হাঁটা পথে মণ্ডপ।

বকুলবাগান সর্বজনীন

এ বারে এদের বিশেষত্ব সব বাঁশের সাজ। যতীন দাস পার্ক মেট্রো স্টেশন থেকে বিজলী সিনেমার দিকে এগিয়ে গেলে ডান দিকের রাস্তায়।

ম্যাডক্স স্কোয়ার

নাটমন্দিরের আদলে মণ্ডপ, সঙ্গে ঝাড়বাতি। কৃষ্ণনগরের ডাকের সাজ, একচালা প্রতিমা কালিঘাটের শিল্পীদের। সাবেক রিচি রোডে মণ্ডপ। সেন্ট লরেন্স স্কুলের কাছে।

badamtala ashar sanghaবাদামতলা আষাঢ় সংঘ

ইন্দোইউএস টুরিজম ইয়ার ২০১৭-কে সেলিব্রেট করা হচ্ছে আষাঢ় সংঘে। গোটা আমেরিকার বেশ কিছু স্থাপত্যকে তুলে ধরা হয়েছে মণ্ডপে। উপকরণে রয়েছে কাঠ, বাঁশ, প্লাই, বিভিন্ন ধাতু। তবে অ্যালুমিনিয়ামের ব্যবহারটাই বেশি। থিমের সঙ্গে মিলিয়ে দেবীর সাজবেশ। কালীঘাট মেট্রো স্টেশন বা রাসবিহারী মোড় থেকে একটু হেঁটেই মণ্ডপ।

66 palli, kalighat৬৬ পল্লি

৬৭তম বর্ষে এদের থিম ‘বিবর্তন’। রয়েছে বহুরূপীদের দুঃখের কথা। থিমে রয়েছে বহুরূপীদের আসল মুখোশের ব্যবহার। বীরভূমের শিল্পীদের দিয়েই সেগুলো তৈরি করানো হয়েছে। তা ছাড়া সেখানকার কাঠের শিল্পও রয়েছে। তারাসুন্দরীর গান থিম সং হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। বাদামতলা আষাঢ় সংঘের পাশেই।

আদি দক্ষিণ কলকাতা

৯০তম বর্ষে থিম ‘শক্তিরূপেণ সংস্থিতা’। কাঠের বড়ো বড়ো পুতুল দিয়ে গোটা থিম আর মণ্ডপ সজ্জিত। রয়েছে বর্ধমানের কাঠের শিল্প। রাসবিহারী বাসস্টপ বা কালীঘাট মেট্রো স্টেশনে নেমে চেতলার দিকে যেতে গুরুদোয়ারা শীতলা মন্দিরের গায়ে।

chetla agraniচেতলা অগ্রণী 

রজত জয়ন্তী বর্ষে থিম ‘অন্তহীন’। মেহগনি কাঠের বিশাল প্রতিমা। গোটা মণ্ডপ জুড়ে কবিতায় আট লাইন লেখা। সেই আট লাইনে এ বারের পুজোর থিম আর উপকরণের ব্যাপারে বিস্তারিত বলা আছে। মণ্ডপসজ্জায় ব্যবহার করা হয়েছে চেলা কাঠ, বেল কাঠ। বাসস্টপ চেতলা অগ্রণী।

mudiyali clubমুদিয়ালি ক্লাব 

থিমের বক্তব্য সবাই মিলে এক সঙ্গে বাঁচার। মানুষ পশুপাখি সবাই মিলে পালকি করে নিয়ে চলেছে দেবীকে। থিম দাঁড় করানো হয়েছে ননওভেন ব্যাগ আর ফোম সিট দিয়ে। কালীঘাট মেট্রো স্টেশন থেকে দক্ষিণ বরাবর বেশ খানিকটা গিয়ে বা মুদিয়ালি বাসস্টপে নেমে একটু এগিয়ে বাঁ দিকের রাস্তায় মণ্ডপ।

mudiyali lake youth cornerমুদিয়ালি লেক ইয়ুথ কর্নার

৫১তম বর্ষে ‘প্রহেলিকা’। থিমের মূল ভাবনা গাছ বাঁচালে গাছ তোমাকে বাঁচাবে।  একটা স্বপ্নপুরীর মতো মণ্ডপ। ট্যাগ লাইন ‘অ্যা মিস্টিরিয়াস ওয়ার্ল্ড’। উপকরণ কেমিফোম, ফাইবার ক্লথ, থার্মোকল, নিউজপেপার পাল্প। মুদিয়ালি ক্লাবের কাছে মণ্ডপ।

shib mandir, mudiyaliমুদিয়ালি শিবমন্দির

মণ্ডপ একখানা নৌকা। মণ্ডপসজ্জায় নৌকার বিভিন্ন অংশ ব্যবহার করা হয়েছে। রয়েছে দাঁড়, হাল ইত্যাদিও। দেবীর নৌকায় আগমন, তাই শিল্পীর ভাবনায় দেবী নৌকার ওপর। সেখান থেকে দেবীর ছায়া পড়েছে জলের ওপর। নৌকার এক দম শেষ মাথায় গিয়ে দেখা যাবে দেবীকে। থিমের সঙ্গে মিলিয়ে প্রতিমা। মুদিয়ালি লেক ইয়ুথ কর্নারের কাছে মণ্ডপ।

সুরুচি সংঘ 

বিভিন্ন রাজ্যের বাঁশ, বেত, কঞ্চি, ধুধুল দিয়ে গোটা মণ্ডপ তৈরি। বার্তা একতার। ‘বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্য’ এটাই থিম। বিভিন্ন ভাবে ঐক্য বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছে। বাঁশ কেটে তা দিয়ে নানান জিনিস বানানো হয়েছে। নিউ আলিপুর পেট্রোল পাম্পের সামনে গলির ভেতর মাঠের ওপর মণ্ডপ। রবীন্দ্র সরোবর মেট্রো স্টেশন থেকে অটো।

হরিদেবপুর ৪১ পল্লি

৬০তম বর্ষে থিম ‘আমরা মানবিকতায়’। মণ্ডপে রয়েছে রামধনু। এটা নানা ধর্মের মিশেল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। শিশুর জন্মের পরই কোনো না কোনো ধর্ম তাকে অক্টোপাসের মতো চেপে ধরে তাই রয়েছে একটা অক্টোপাস। আছে অনেক হাত মানবতার প্রতীক হিসেবে। দেবীর পায়ের নীচে অস্ত্র রাখা হয়েছে। টালিগঞ্জ ট্রাম ডিপো থেকে কবরডাঙাগামী অটোয় বাঁ দিকে।

হরিদেবপুর অজেয় সংহতি

অজেয় সংহতির থিম ‘শক্তিরূপেণ’। উপকরণ লোহা, টিনের হাতা, খুন্তি, কড়াই, জাঁতি, বেলচা, কোদাল। ঠাকুরের পরনে লাল বেনারসি। মাটির গয়না। টালিগঞ্জ ট্রাম ডিপো থেকে কবরডাঙাগামী অটোয় ডান দিকে।

হরিদেবপুর বিবেকানন্দ স্পোর্টিং ক্লাব

বিবেকানন্দ স্পোর্টিং-এ ‘বাঁশেই ভক্তি’। মণ্ডপ হয়েছে বিহারের একটা কাল্পনিক গ্রামের আদলে। এই গ্রামের সবাই বাঁশকে দেবতা জ্ঞানে পুজো করেন। মণ্ডপময় রয়েছে ১০০০টা বাঁশ। প্রতিমা মাটির হলেও দেখতে গাছের গুঁড়ি দিয়ে তৈরি মূর্তির মতো। টালিগঞ্জ ট্রাম ডিপো থেকে কবরডাঙাগামী অটোয়।

পশ্চিম পুটিয়ারি পল্লি উন্নয়ন

থিম ‘ফিরে দেখা’। দেবীর নৌকায় আগমনের কথা মনে রেখে ৪৫ ফুটের একটা বিশাল নৌকার আদলে মণ্ডপ। হারিয়ে যাওয়া পাট শিল্পকে মনে করে সেই নৌকায় রয়েছে পাট, পাটের নানান জিনিস, মডেল, পাটকাঠি ইত্যাদি। দেবীর পোশাক আর গয়না পাটের তৈরি। টালিগঞ্জ ট্রাম ডিপো থেকে কুদঘাটগামী অটোয়।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন