halsibagan

আজ রবিবার, চতুর্থী। কলকাতার রাস্তায় ইতিমধ্যেই মানুষের ঢল নেমেছে। শুরু হয়ে গিয়েছে ঠাকুর দেখা। তাই খবর অনলাইনও বেরিয়ে পড়েছে আপনাদের সাহায্যেদিচ্ছে ঠাকুর দেখার সুলুকসন্ধান।

খবর অনলাইন শুরু করেছিল দমদম, লেকটাউন ও সল্টলেক দিয়ে। এ বার চলুন উলটোডাঙা-কাঁকুড়গাছি-বেলেঘাটা অঞ্চলের ঠাকুর দেখতে। তা হলে পূর্ব কলকাতায় প্রতিমা দর্শন মোটামুটি সাঙ্গ হবে।

উলটোডাঙা

গৌরীবেড়িয়া সর্বজনীন

জল-স্থল-আকাশ নিয়ে এ বারের থিম। মণ্ডপের কিছু অংশ খোলা আকাশের নীচে। মণ্ডপে ঢুকে মনে হবে মহাকাশের নীচে দাঁড়িয়ে। লোহার পাইপের কাঠামো, শোলা দিয়ে তৈরি শিউলি ফুল। তাল মিলিয়ে দেবী। খান্নার মোড় থেকে গেলে অরবিন্দ সেতুর বাঁ পাশের রাস্তায়।

halsibagan pandalহালসিবাগান              

সর্বক্ষেত্রে সম্প্রীতির মেলবন্ধন যেমন দেখানো হয়েছে, তেমনই স্থান দেওয়া হয়েছে কন্যাশ্রীকেও। মূলত নারীশক্তির জয়জয়কার করা হয়েছে গোটা মণ্ডপ জুড়ে। রোজকার ব্যবহারের কিছু সামগ্রী আর ফেলে দেওয়া কিছু জিনিস দিয়ে মণ্ডপ সাজানো হয়েছে। খান্নার মোড় থেকে গেলে অরবিন্দ সেতুতে ওঠার আগে ডান দিকের রাস্তা দীনেন্দ্র স্ট্রিটে মণ্ডপ।

সম্মিলিত লালাবাগান

থিমের নাম ‘শূন্য’। গোটা মণ্ডপ গোলাকারের। ভেতরে দেবী ও পরিবার ভাসমান অবস্থায় রয়েছেন। তাঁদের ডানা রয়েছে। দেবীর এক হাতে ত্রিশূল, বাকি হাতে নয় গ্রহ বিরাজমান। মণ্ডপের এক দিকে সৃষ্টি, অন্য দিকে ধ্বংস। এই কাজ করা হয়েছে পেন্টিং-এর মাধ্যমে। দীনেন্দ্র স্ট্রিটে লালাবাগান ময়দানে পুজোমণ্ডপ।

লালাবাগান নবাঙ্কুর

নবাঙ্কুরের থিম ‘ভক্তির শক্তি পরীক্ষা’। ত্রিভুজাকৃতির মণ্ডপ। ভেতরে বৃন্দাবনের কাত্যায়নীর রূপে মা। সিংহের ওপর দশ হাতে মাখনের পাত্র নিয়ে বিরাজমান দেবী। ননির পাত্র হাতে আছেন আরও অনেক দেবদেবী। উপকরণ হিসেবে রয়েছে ময়ূরের পালক, হ্যান্ডমেড পেপার, চামর, খড় ইত্যাদি। দীনেন্দ্র স্ট্রিট ধরে গিয়ে ডান দিকের রাস্তায় নবাঙ্কুরের মণ্ডপ।

ultobagan pallishriউলটোডাঙা পল্লিশ্রী                

৬৯-এ এদের থিম ‘একটু আকাশ’। শহরে আকাশের অভাব। তাই সেই কথা মাথায় রেখে আকাশ দেখাচ্ছে পল্লিশ্রী। মণ্ডপে ঢোকার পথে দেখা যাচ্ছে ছ’টা ঋতুর আলাদা আলাদা আকাশ। ব্যবহার করা হবে প্রোজেকশন পদ্ধতি। উলটোডাঙা স্টেশন যাওয়ার পথে অরবিন্দ সেতু থেকে নেমে একটু এগিয়ে বাঁ দিকে রাস্তায় মণ্ডপ।

করবাগান

থিমে ‘ত্রিমাত্রা’। ত্রিনয়নের আদলে মণ্ডপ। দেবীর হাতে কোনো অস্ত্র নেই। রয়েছে নাচের মুদ্রা। এখানে অশুভকে সরিয়ে শুভর আবাহন। রয়েছে ত্রিশূল আকৃতির প্রবেশপথ। অরবিন্দ সেতু থেকে নেমে বাঁ দিকে দ্বিতীয় পূজামণ্ডপ।

telengabaganতেলেঙ্গাবাগান                    

পথশিশু আর শিশুশ্রমিকদের হারিয়ে যাওয়া স্বপ্নের কথা তুলে ধরেছে ‘স্বপ্ন উড়ান’-এ। মণ্ডপে ঢোকার পথে রয়েছে ইটভাটা, শিশুশ্রমিকের দল। মাঝে কেটলির আকারে মণ্ডপ। সেখানে দেবীমা দু’ হাত সামনে, আট হাত পেছনে রেখে দাঁড়িয়ে। শেষে ওই শিশুরাও তাদের স্বপ্নপূরণের পথে। স্কুলের পথে। অরবিন্দ সেতু থেকে নেমে বাঁ দিকে তৃতীয় পূজামণ্ডপ।

কাঁকুড়গাছি

স্বপ্নার বাগান

৬৪তম বর্ষে সেনাজওয়ানদের কথা মনে রেখে থিম ‘রক্তাক্ত প্রহরী তোমাকে সেলাম’। মণ্ডপ হয়েছে বাঙ্কারের আদলে। গোটা চত্বর ঘেরা রয়েছে কাঁটাতারে। রয়েছে থার্মোকল, কাঠ আর ফাইবারের তৈরি একে ৪৭, ফাইবারের বন্দুক আর কাঠের গুলি দিয়ে তৈরি করা হয়েছে বিশাল ফটক, সঙ্গে অমর জোয়ান জ্যোতির প্রতিরূপও। প্রতিমা সাবেক। কাঁকুড়গাছি মোড়ের কাছে মানিকতলা মেন রোডে।

কাঁকুড়গাছি মিতালি

৮১তম বর্ষে বিষয় ‘উপাচারে বন্দি’। এখানেও নারীদের জীবনযুদ্ধ আর তার পর সাফল্যের চিত্র দেখানো হয়েছে। মণ্ডপের মাঝে বিশাল খাঁচা ঘুরছে। কাপড়, অ্যাক্রিলিকের কাজ, বিয়ের উপাচার দিয়ে মণ্ডপ সাজানো। দেবীমূর্তি অস্ত্রহীন। কাঁকুড়গাছি মোড় থেকে বেঙ্গল কেমিক্যালের দিকে এগোলে ঘোষবাগান বাজারের কাছে এই পুজো।

কাঁকুড়গাছি যুবকবৃন্দ

যুবকবৃন্দ এ বার ৮৬তে। ‘ডিজিট্যাল বিশ্ব’ এ বারের থিম। থিম দাঁড় করানো হয়েছে পাইন কাঠ আর লোহার বিন্দু দিয়ে। পরিবর্তন বোঝাতে রাখা হয়েছে পুরোনো দিনের টিভি, রেডিও, টেলিফোনের রিসিভার, ক্যামেরা, ক্যাসেট ইত্যাদি। বিশাল পেন্ডুলাম, লোহা, আয়না ইত্যাদির ফাইবার গ্লাস ইন্সটলেশন। প্রাচীন দুর্গামূর্তির হাতে শুধু ত্রিশূল। কাঁকুড়গাছি মিতালির কাছেই মণ্ডপ যুবকবৃন্দের।

বেলেঘাটা

বেলেঘাটা ৩৩ পল্লি

কাঁকুড়গাছির ঠাকুর দেখে ঢুকে পড়ুন বেলেঘাটায়। চলুন ৩৩ পল্লির ঠাকুর দেখতে। এদের থিম ‘জীবনচক্র’। জন্ম থেকে মৃত্যুর অবিরাম গতিময়তাই থিমের বিষয়। লুধিয়ানা থেকে আনা সাইকেলের বিভিন্ন পার্টস দিয়ে মণ্ডপ সাজানো হয়েছে। এই গতিময়তা বোঝাতে প্রায় ২৫০ সাইকেলের ব্যবহার করা হয়েছে মণ্ডপে। ৫০টা মানুষের মডেল রয়েছে, এগুলো ফাইবারের তৈরি।

বেলেঘাটা অকালবোধন

এর পরেই চলে আসুন বেলেঘাটা অকালবোধন-এ। রাজবাড়ির ঠাকুরদালানের আদলে মণ্ডপ সাজানো হয়েছে। থার্মোকল, প্লাই, স্প্রে পেনটিং ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়েছে। মূল মণ্ডপের আগে চারদিকে রয়েছে প্রিন্সেপঘাট স্মৃতিসৌধের আদলে চারটে তোরণ। একচালা প্রতিমায় থার্মোকলের চালচিত্র।

বেলেঘাটা সরকার বাজার

৬৯-এ পা এই বারোয়ারির। বাঙলার হারিয়ে যাওয়া কৃষ্টি নিয়ে থিম ‘বাঙলার কৃষ্টি’। তুলসীতলায় সন্ধ্যা দেওয়া, শাঁখ বাজানো, ইত্যাদির মতো রীতি রেওয়াজের প্রতিফলন। রয়েছে ৬ ফুটের প্যাঁচা, গৌর-নিতাই। ব্যবহার হয়েছে ৩০০টা পুতুল। শিয়ালদহ থেকে বেলেঘাটার দিকে গেলে সরকার বাজার বাস স্টপ।

জজ বাগান সর্বজনীন

বেলেঘাটার আরেকটি দেখার মতো পুজো জজ বাগান। এ বারের ট্যাগ লাইন ‘মাটিতে আলোতে মায়ার খেলাতে, ঐক্য এসেছে মাটির ঢেলাতে’। মাটির হাড়ি, টব, কলসি ইত্যাদির ভাঙা অংশ দিয়ে গোটা মণ্ডপ সাজানো হয়েছে। ঘোড়ামুখ সিংহের ওপর রয়েছেন দেবী।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here