আজ মহাষষ্ঠী কলকাতার রাস্তায় জনস্রোত সব মানুষই যেন বেরিয়ে পড়েছেন ঘর ছেড়ে, প্রতিমা দর্শনের জন্য থিম পুজোর রেষারেষি বরাবর কলকাতার যে দুই প্রান্তের সেই উত্তর আর দক্ষিণের মধ্যে দর্শনার্থী টানার প্রতিযোগিতা চলছে জোর কদমে খবর অনলাইন ষষ্ঠীর সন্ধায় নিয়ে যাচ্ছে শহরের একেবারে দক্ষিণ প্রান্তে    

 

নাকতলা উদয় সংঘ

থিম তুলে ধরেছে মাটিতেই মায়ের উপস্থিতি। মানুষের আত্মোপলব্ধি, আত্মবিশ্বাস, ভোগবাদ, দ্বন্দ্ব সব কিছুতেই ঈশ্বরের প্রকাশ। এই সবই সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মণ্ডপসজ্জায়। ভাবনায় সুশান্ত পাল।  আবহ সংগীতে পণ্ডিত মল্লার ঘোষ।

গীতাঞ্জলি বা মাস্টারদা সূর্যসেন মেট্রোস্টেশন থেকে ৫ মিনিটের হাঁটা পথ।

 

হরিদেবপুর বিবেকানন্দ পোর্টিং ক্লাব

হরিদেবপুর বিবেকানন্দ স্পোর্টিং ক্লাবের বিষয় ভাবনা ‘সৃষ্টির উল্লাসে’। দুর্গা সৃষ্টির প্রচলিত গল্পগুলিকে নতুন আঙ্গিকে তুলে ধরার প্রচেষ্টা করা হয়েছে। ব্যবহার করা হয়েছে মাটি, কাপড়, খড়, রং-তুলি, কাঠ ইত্যাদি। পরিকল্পনায় প্রশান্ত পাল। আবহে সায়ন্তন গোস্বামী।

নেতাজি মেট্রো স্টেশন থেকে হাঁটা পথ। টালিগঞ্জ ট্রাম ডিপো বা মহানায়ক উত্তমকুমার মেট্রো স্টেশন  থেকে হরিদেবপুরগামী বাস বা অটোয় মহাত্মা গান্ধী রোডের ওপর মণ্ডপ।

 

হরিদেবপুর বিবেকানন্দ পার্ক অ্যাথলেটিক ক্লাব—–

এবারের থিম ‘ফ্যান্টাসি’। রূপকথার গল্প আর কল্পনানির্ভর দুর্গা তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতো।  থিমের সঙ্গে মানানসই করে তৈরি করা হয়েছে দুর্গাকেও। পরিকল্পনায় আদিতি চক্রবর্তী। প্রতিমা গড়েছেন শিল্পী ইমন চক্রবর্তী।

উত্তমকুমার মেট্রো স্টেশনে হরিদেবপুরগামী বা কবরডাঙাগামী অটো বা বাসে করে মণ্ডপে যাওয়া যায়।

 singhi-park

সুরুচি সংঘ

থিম সং রচনা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের, সুর জিৎ গাঙ্গুলির। এটাই এ বছর এই পুজোর বড়ো বিজ্ঞাপন। পুজোর থিম বিশ্বভ্রাতৃত্ব। মণ্ডপ ভুটানের বৌদ্ধমন্দির।

নিউ আলিপুরের মোড়ে পেট্রোল পাম্পের কাছে পূজামণ্ডপ।

 

আলিপুর সর্বজনীন 

আলিপুর সর্বজনীনের থিম ‘ কর্ষণে ত্রিশক্তি’।  জগতের সর্বত্র জগজ্জননীর অস্তিত্ব। যা কিছুই করা হোক মাটি কর্ষণ করতেই হয়। এমনকি চাষাবাদ, বাড়ি নির্মাণ সবেতেই মাটি কর্ষণের দরকার।  আর তা সম্ভব হয় তাঁর আশীর্বাদে এবং তাঁর দেওয়া শক্তির ফলেই।  দেবীর প্রতিচ্ছবি সমগ্র সংসার জুড়ে। এই ভাবনা থেকেই থিম পরকল্পনা করা হয়েছে।

আলিপুর রোডের ওপর এই পুজো।

 

শিবমন্দির

চারকোণা ঘেরাটোপ বা চৌখুপির ভাবনায় ফুটে উঠেছে আমজনতার নিত্যদিন, সম্পর্কের টানাপড়েন কাঠের হাতা, খুন্তি,  খড়ম, ক্যারাম বোর্ড প্রভৃতি দিয়ে সাজানো হয়েছে মণ্ডপ নিম কাঠের তৈরি প্রতিমা নজর কাড়ছে দর্শকদের

রাসবিহারী মোড় থেকে টালিগঞ্জের দিকে যেতে বাঁ দিকে মুদিয়ালি স্টপ থেকে হাঁটা

 

৬৬ পল্লি

কলকাতা মানেই পুরোনো বাড়ি, টানা রিকশার টুং টাং শব্দ পুরোনো কলকাতার নস্টালজিয়া ফুটিয়ে তোলা হয়েছে থিম মিউজিকেও পুরোনো কলকাতা

রাসবিহারী মোড় থেকে চেতলা ব্রিজের দিকে যেতে ডান দিকে হাঁটা পথ

 

বাদামতলা আষাঢ় সংঘ

পাঁচ কোটি ঢিলকে সুতোয় বেঁধে ঝুলিয়ে নতুন ধরনের শিল্প গড়ে তুলেছেন শিল্পী অনির্বাণ

৬৬ পল্লির প্রতিবেশী বাদামতলা আষাঢ় সংঘ

 

অগ্রদূত উদয়ন সংঘ—-

৭০ বছরের এই পুজোর থিম ‘গ্রামবাংলার শিল্প’। টেরাকোটার কাজ,  কাঁথা স্টিচের কাজ দিয়ে মণ্ডপসজ্জাএগুলি তৈরি করেছেন বাঁকুড়া, বিষ্ণুপুর, বীরভূম, বোলপুরের শিল্পীরা। প্রতিমা শিল্পী করুণ পাল। শোলার কাজে অনন্ত মালাকার। 

নেতাজি ভবন মেট্রোস্টেশন থেকে হরিশ মুখার্জি রোড পেরিয়ে এগোলে এই মণ্ডপ।

 

ভবানীপুর ৭৬ পল্লি

ফাইবার গ্লাস আর গ্লাস পেন্টিং-এর মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ‘’নারী কেবল কন্যা, মাতা এ কেমন যুক্তি? সর্ব কার্যে পারদর্শী আজ নারীশক্তি’’ এই থিমকে। নিয়ম বাধা-বন্ধনের জটাজাল থেকে বেরিয়ে এসে নারীশক্তির বিকাশ হয়েছে সব ক্ষেত্রে। এই বিষয় ভাবনা সুরজিৎ সেন মজুমদার তাঁর কাজে ফুটিয়ে তুলেছেন।  মূল উপকরণে রয়েছে প্লাইউড। প্রতিমা শিল্পী মোহন বাঁশি রুদ্রপাল।

নেতাজি ভবন মেট্রো স্টেশন থেকে বা যদুবাবুর বাজারের দিক থেকে হরিশ মুখার্জি রোডের দিকে গেলে মণ্ডপ।

 

চক্রবেড়িয়া সর্বজনীন দুর্গোৎসব

‘মঙ্গলালোক’ থিম সঙ্গে নিয়ে ৭১-এ পা চক্রবেড়িয়ার সর্বজনীন দুর্গোৎসবের। আলোর মাধ্যমে শুভ-র আবাহন করার রীতি সব দেশে সব জাতির মধ্যেই রয়েছে। এবারের দেবীর আরাধনায় তাই আলোর যাবতীয় উপকরণ যেমন মোমবাতি, প্রদীপ ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়েছে। তা দিয়ে সাজানো হয়েছে প্রতিমা, মণ্ডপ সবই। বিষয় ভাবনায় তানিয়া ভট্টাচার্য। 

নেতাজি ভবন মেট্রো স্টেশন থেকে যদুবাবুর বাজার অথবা শরৎ বোস রোডের হোটেল স্যামিলটনের পাশ দিয়ে যেতে হবে চক্রবেড়িয়া।

 hindusthan-park-purbachal-park

বেলতলা শক্তিসংঘ

বেলতলা শক্তিসংঘের থিম ‘দেবীর দর্পণে, দেবীর দর্শনে’। থিমে রঙের মেলায় নানা জ্যামিতিক আকারের পটভূমির মাঝে বিরাজ করছেন শক্তিরূপিনী, শান্তিদায়িনী মা। থিম শিল্পী স্বরূপ নন্দী।

যতীন দাস পার্ক মেট্রো স্টেশনের কাছে, বেলতলা গার্লস হাইস্কুলের উল্টোদিকে ল্যান্স ডাউন-হাজরা মোড়ের কাছে মণ্ডপ।

 

ম্যাডক্স স্কোয়ার

দক্ষিণ কলকাতায় সমবয়সিদের মিলনমেলা হল ম্যাডক্স স্কোয়ার সাবেক পুজো প্রাঙ্গণ  এবছরের বিশেষ আকর্ষণ ৫০ ফুটের ঝাড়। এটি গোটা প্যান্ডেলের সিলিং জুড়ে থাকছেএ বছরেও মাকে সাজানো হয়েছে সোনার গয়নায়। দেবীকে ডাকের সাজ পরিয়েছেন কৃষ্ণনগরের শ্যামসুন্দর কর। প্রতিমা গড়েছেন কালীঘাটের অরুণ পাল। মণ্ডপসজ্জায় মর্ডান ডেকরেটার্স আর আলোকসজ্জায় এইচ দে অ্যান্ড কোম্পানি।

যতীন দাস পার্ক মেট্রো স্টেশনে নেমে হাজরা রোড থেকে বালিগঞ্জ ফাঁড়ির অটো করে যেতে হবে এই মণ্ডপে। রিচি রোডের ওপর।

 

দেশপ্রিয় পার্ক

এ তো বড়ো সত্যি! গত বছর শেষ পর্যন্ত পূজা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এ বারেও চমক সৃষ্টির চেষ্টা বিজ্ঞাপনে। মায়ের হাজার হাত, অসুরের সংখ্যা হাজার। আদতে ব্যাপারটা কী গিয়ে দেখলে বোঝা যাবে।

গড়িয়াহাট মোড় থেকে রাসবিহারীর দিকে যেতে ডান দিকে। কালীঘাট মেট্রো স্টেশন থেকে অটোয়। হেঁটেও যাওয়া যায়।

 

সমাজসেবী সংঘ

সমাজসেবী সংঘের এবারের বিষয় ভাবনা ‘আমার দুর্গা’। মাতৃরূপে এই মণ্ডপে ধরা পড়েছে মেয়েদের বিভিন্ন রূপ। সেখানে যেমন থাকছেন বাড়ির বৌ, তেমন থাকছেন ঠিকা ঝি। আবার থাকছেন সাঁতারু কন্যা থেকে কলেজ ছাত্রী সকলেই। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে অবহেলিত নারীসত্তার হয়ে জেহাদ ঘোষণা করা হচ্ছে এই থিমের মাধ্যমে। থিম পরিকল্পনায় সোমনাথ মুখোপাধ্যায়। প্রতিমা শিল্পী প্রদীপ রুদ্র পাল।

রাসবিহারী অ্যাভিনিউ দিয়ে গড়িয়াহাট মোড় যেতে লেকভিউ বাসস্টপে নেমেই সামনে।

 

হিন্দুস্থান পার্ক সর্বজনীন

এই মণ্ডপে জাগিয়ে তোলা হল ‘ঠাকুরমা’র স্মৃতি। এই পুজোর থিম ‘ঠাকুরমা’। মণ্ডপসজ্জায় ব্যবহার করা হয়েছে ঠাকুমার ব্যবহারের যাবতীয়  জিনিসপত্র। তার মধ্যে থাকছে পানের বাটা থেকে শুরু সব কিছুকাজে লাগানো হচ্ছে, ৮ লাখ সুপুরি আর ২লাখ জাঁতি। বানানো হয়েছে  ৩০ ফুটের জাঁতির পক্ষীরাজ ঘোড়া।  থিম ভাবনা আর প্রতিমা তৈরিতে অনির্বাণ দাস। মণ্ডপে শোনা যাচ্ছে ঠাকুমার গলার আওয়াজও।

গড়িয়াহাট মোড় থেকে হাঁটা পথ রাসবিহারী মোড়ের দিকে যেতে বাঁ দিকে বাসন্তীদেবী কলেজের উল্টো দিকে হিন্দুস্থান পার্ক।

 

ত্রিধারা সম্মিলনী

উপজাতিদের শিকারের অস্ত্র, মশাল, আসল মোষের মাথা রয়েছে মণ্ডপে।

রাসবিহারী অ্যাভিনিউয়ের ওপরে। দেশপ্রিয় পার্ক থেকে গড়িয়াহাট যেতে বাঁ দিকে।

 

একডালিয়া এভারগ্রিন

বরাবরের মতো এবারেও থিমের বাজারে নিয়ে বালিগঞ্জের এই প্রাচীন পুজোটি। প্রতিমা সাবেক, মণ্ডপে নজরকাড়া বিশাল ঝাড়লন্ঠন।

গড়িয়াহাট মোড়ের কাছে, ফ্লাইওভারের পাশেই।

   

 

বাবুবাগান

দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম বিখ্যাত পুজো বাবুবাগানের পুজো।  এই বারের পুজোয় থিম ভাবনায় স্থান পেয়েছে ‘ব্রতচারীর বিভিন্ন খেলা’। ব্রিটিশ আমলে সৃষ্টি বাংলার এই নিজস্ব মার্শাল আর্টটি। প্রায় হারিয়ে যাওয়া এই মার্শাল আর্টের সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্যই এটি বেছে নেওয়া হয়েছে। মণ্ডপসজ্জায় থিম ভাবনা ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। পরিকল্পনায় অমর সরকার। প্রতিমা শিল্পী সনাতন পাল। প্রতিমা সজ্জায় টুলটুল সরকার।

ঢাকুরিয়া রেল স্টেশনের সামনেই। যাদবপুর ও গড়িয়াহাট থেকে অটোয় বা বাসে ঢাকুরিয়া বাসস্টপের সামনে।

 

৯৫ পল্লি

এবছরে ৯৫ পল্লির থিম ‘মানুষের ইচ্ছাশক্তি’। এখানে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে ইচ্ছাশক্তিকে কাজে লাগিয়ে, বাধাবিপত্তি কাটিয়ে মানুষের পথ চলার কথাই। মণ্ডপসজ্জায় আছেন শিল্পী সুশান্ত পাল। আবহসংগীত তৈরি করেছেন মল্লার ঘোষ।

যাদবপুর ও গড়িয়াহাট থেকে অটোয় বা বাসে যোধপুর পার্ক পোস্ট অফিস, সেখান থেকে যোধপুর পার্ক বাজারের দিকে গেলেই ডান দিকে মণ্ডপটি।

যোধপুর পার্ক সর্বজনীন – এবারের থিম ‘কুমোরপাড়ার গরুর গাড়ি’  বাবুবাগান থেকে যাদবপুর থানার দিকে এগোতে ডান দিকে।

 falguni-sangha

সন্তোষপুর অ্যাভিনিউ সাউথ পল্লিমঙ্গল—–

সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষে থিম ‘পুজো পাগলের পাগলামি’। থিমে নিয়ে বিভিন্ন পুজো মণ্ডপের উদ্যোক্তাদের যে চূড়ান্ত মাতামাতি তাই ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই ভাবনায়।  শহর, শহরতলির, গ্রামবাংলার ক্লাব সদস্যরা শামিল এই পুজোয়। সিপিয়া টোনে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে উদ্যোক্তাদের পাগলামি।  থাকছে ইস্টলেশনের কাজও। রূপয়ণে শিল্পী রিন্টু দাস।

যাদবপুর সন্তোষপুরগামী বাসে সুকান্ত সেতু পার হয়ে বা যাদবপুর কেপিসি থেকে অটো বা বাইপাসের অজয়নগর থেকে  সন্তোষপুরগামী অটোয় বটতলা বাসস্টপ। যাদবপুর স্টেশন থেকে হাঁটা পথ

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here