puja pandal of behala club
papiya mitra
পাপিয়া মিত্র

বাঙালির বারো মাসের পার্বণগুলির শ্রেষ্ঠ দুর্গোৎসব। দুর্গতিনাশিনী দেবীদুর্গা অশুভ শক্তি নাশ করে কি আর ফিরে দেখলেন না? নাকি তিনি আমাদের মধ্যেই আছেন। নাকি কর্মব্যস্ততার দাপটে অনুভূতিগুলোর স্পর্শ পাওয়া যায় না। এই প্রশ্ন আজ যদি ওঠে তাতে আশ্চর্যের কিছু নেই! কেন না সময়কাল শরৎ। আকাশে বাতাসে তাঁরই আবাহন। ভাতেমাছে বাঙালির মনের আশা ক্ষীণ হতে হতেও আবার তা ফিরে ফিরে আসে এই বাংলায়। এই বাংলার মাটিই আবার মাকে নিজের করে ফিরে পায় আন্তরিক বন্দনার মধ্যে দিয়ে।

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে দৌড় ছাড়া যেখানে কিছুই নেই সেখানে একছুট্টে শান্তি-পরবাসের ঠিকানা মনে হয় বেহালা ক্লাব। ঠিক বেহালা থানার বিপরীতে হরিসভা ময়দানে।

last year's idol
গত বারের প্রতিমা।

ক্লাবের পক্ষ থেকে সহকারী সম্পাদক সায়ন্তন ভট্টাচার্য জানালেন, এ বারের থিম ‘শান্তির ভাব, বেহালা ক্লাব’। এখানে প্রতিমা শ্বেতবর্ণা শান্তিময়ী। নটরাজের আদলে দেবীর হাতে শুধু ত্রিশূল।

দীনেশ পোদ্দারের আলোকসজ্জায় ও সৈকত দের আবহে মণ্ডপ সেজে উঠছে ক্রিস্টাল ও আয়নায়। প্রতীকী এক কালো গুহায় মা আছেন, আমরা দেখতে পাচ্ছি না। ভাবনা ও সৃজনে পুজোয় মুক্তি পেতে চলা ‘ইয়েতি অভিযান’-এর আর্ট ডিরেক্টর তন্ময় চক্রবর্তী। ৩২ ফুট উঁচু এই মণ্ডপটি ডোমের আদলে। ক্রিস্টাল ও আয়না নিয়ে কাজ করার চিন্তা এল কেন?

interior decoration
অন্দর সজ্জা।

‘ইয়েতি অভিযান’-এ কাজের সূত্রে সুইৎজারল্যান্ডে বরফের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি সেই অপরূপ দৃশ্য। সূর্যের আলো পড়ে বরফে রামধনুর এফেক্ট। মাথায় থেকে গিয়েছিল ব্যাপারটা, বলছিলেন তন্ময়। তাই মণ্ডপে বরফের বদলে ক্রিস্টালে আলো ফেলে তা আয়নায় প্রতিফলিত করাটাই আসল খেলা। তাতেই মায়ের রূপের প্রকাশ।

মহানাগরিক শোভন চট্টোপাধ্যায়ের পুজোয় আমজনতা শান্তির আবহে কাটাবে এই আশা। এ বছরের প্রতিমা ১২ ফুট উচ্চতা। বাজেট ৩০ লাখ।

গত বারের থিম ছিল ‘হৃদ্‌ মাঝারে’।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here