rain in kolkata

কলকাতা: ষষ্ঠীর গরমে নাজেহাল হতে হয়েছিল শহর কলকাতাকে। ২৪ ঘণ্টা কাটকে না কাটতেই আমুল বদলে গেল আবহাওয়া। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টি নামল জোরে, বইল ঝোড়ো হাওয়া। তাপমাত্রা ধুপ করে নেমে গেল অনেকটা। স্বস্তি ফিরল মানুষের মনে।

তবে বৃষ্টি মানুষের উৎসাহে কোনো ভাটা ফেলেনি। ছাতা মাথায় দিয়েই চলেছে ঠাকুর দেখা। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা হতে, পরিষ্কার হয়েছে আকাশ, আরও বেড়েছে মানুষের ঢল।

এ দিন বেলা বারোটা পর্যন্তই রোদের ছড়ি ঘোরানোর পালা ছিল। কিন্তু তাতেও সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ষষ্ঠীর দিনের ধারে কাছে যেতে পারে। এ দিন ৩৪ ডিগ্রিতেই থেমে যায় পারদের উত্থান। আগের দিনের থেকে তিন ডিগ্রি কম। বারোটার পরেই ঠান্ডা হাওয়া সঙ্গে হালকা বৃষ্টি। কলকাতায় বৃষ্টির দাপট তুলনায় কম থাকলেও, পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে কিঞ্চিৎ বেশিই ছিল বৃষ্টির দাপট।

এ দিন সব থেকে বেশি বৃষ্টি হয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথিতে। সেখানে বৃষ্টি হয়েছে ৬৫ মিমি। এ ছাড়াও দুই ২৪ পরগণা, হাওড়া, হুগলি, বর্ধমান, দুই মেদিনীপুরেও জোর বৃষ্টি হয়েছে। ভালো বৃষ্টি হয়েছে বাঁকুড়ায়ও। তবে কলকাতার মতোই পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতেও ঠাকুর দেখার উৎসাহে বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি। বৃষ্টি উপেক্ষা করেই প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঠাকুর দেখার উৎসাহ ছিল তুঙ্গে। বেশির ভাগ দর্শনার্থীরই বৃষ্টির প্রতি কোনো অভিযোগ নেই। বরং তীব্র গরম থেকে মুক্তি পাওয়ায় মা দুর্গার আশীর্বাদই মনে করছেন তাঁরা।

কী কারণে বৃষ্টি?

বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা ওয়েদার আল্টিমার কর্ণধার রবীন্দ্র গোয়েঙ্কার মতে, এই মুহূর্তে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। এর প্রভাবে জলীয় বাষ্প ঢোকা শুরু করেছে দক্ষিণবঙ্গের ওপরে। এর প্রভাবেই বৃষ্টি নেমেছে দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে।

বৃষ্টিপ্রত্যাশী মানুষের কাছে আগামী কয়েক দিনের পূর্বাভাস কিন্তু বেশ আনন্দদায়ক। অষ্টমী থেকে আরও বাড়তে পারে বৃষ্টির পরিমাণ। তবে ভাসানো বৃষ্টির কোনো পূর্বাভাস দেওয়া নেই। রবীন্দ্রবাবুর মতে, ঘূর্ণাবর্তটি  নিম্নচাপে পরিণত হয়ে বাংলাদেশ উপকূল দিকে উত্তরবঙ্গ এবং সংলগ্ন অসমের দিকে যাত্রা করবে। আগামী ২৪ ঘণ্টাতেই নিম্নচাপে ঘনীভূত হতে পারে নিম্নচাপটি। এর প্রভাবেই বৃষ্টির পরিমাণ বাড়বে কলকাতায়। তবে অষ্টমীর অঞ্জলিতে বিশেষ বাধা এই বৃষ্টি সৃষ্টি করবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। শুধু অষ্টমীই নয়, নবমী এবং দশমীতেও এ রকম বর্ষণমুখর আবহাওয়া বজায় থাকবে। তবে উত্তরবঙ্গে নবমী থেকে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন রবীন্দ্রবাবুর। হতে পারে অতিভারী বৃষ্টিও।

সুতরাং আবহাওয়া নিয়ে দক্ষিণবঙ্গবাসীর ঘাবড়ে যাওয়ার কিছু নেই। বৃষ্টি হবে, ঝোড়ো হাওয়া বইবে, গরম থাকবে না, আবহাওয়া থাকবে মনোরম। হাতে ছাতা-বর্ষাতি নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন। উপভোগ করুন মহাষ্টমী।

ছবি: রাজীব বসু

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন