crowd at puja pandals on the day of chaturthi
payel samanta
পায়েল সামন্ত

বেজায় গরম! তার মধ্যেই খোলা চুল উড়িয়ে আর জামার কলার তুলে মাঠে ফিল্ডিং কাটতে নেমে পড়েছে পুজোপ্রিয় বাঙালি। সরগরম রোল চাউমিনের দোকান। সবে তো চতুর্থীর সন্ধে। এরই মধ্যে উত্তর থেকে দক্ষিণ আর অলিগলি থেকে রাজপথ ধরে জনতা ছুঁয়ে ফেলতে চাইছে দুর্গার সব মণ্ডপ।

রাস্তায় নিয়ম মেনে হাজিরা দিতে দিতে খাকি পোশাকের পুলিশ কালীচরণ রায় জানালেন, “অন্য বারের থেকে ভিড় চতুর্থী অনুযায়ী একটু বেশিই! এত লোক সত্যিই আশা করিনি।”

কেন? সে কি নেহাতই রবিবারের সন্ধে বলে?

ছুটির দিনের মাংস-ভাত খাওয়ার পর সন্ধে হতে না হতেই বৌ-ছেলেমেয়ের হাত ধরে আজ বাঙালি বেরোবে না? এই হালকা ভিড়েই তো গার্লফ্রেন্ডের হাত ধরে টুকটুক করে হেঁটে প্রেমের প্রস্তাব দেওয়া যায়! ‘এমন দিনে তারে বলা যায়’ এমন অল্প জনস্রোতের মণ্ডপেই! বেড়ানোর উত্তম জায়গা তাই এখন নন্দন বা শপিংমল নয়, পুজোমণ্ডপ! জোড়ায় জোড়ায় ঘুরতে দেখা গেল অনেককেই! তেমনই প্রসেনজিৎ-মধুজাকে ধরা হল মহম্মদ আলি পার্কে। তাঁদের মতে, “রোববার এনজয় করতে ঠাকুর দেখার বিকল্প কিছুই হতে পারে না! তাই আজ থেকেই বেরিয়ে পড়েছি। তা ছাড়া সব রেডি তো! চতুর্থী হোক, বা অষ্টমী, কিছু এসে যায় না!”

হাঁটতে হাঁটতে সবাই যে ঘামছেন, আর আহা-উঁহু করছেন, এমনটা নয়। বরং বেশ দুলকি চালে চুটিয়ে মন খুলে ঠাকুর দেখছেন মানুষ। ব্যারাকপুর থেকে সুবর্ণা অষ্টমীতে কলকাতায় প্রতিবারই আসেন ঠাকুর দেখতে। এ বারে সেটা এগিয়ে চতুর্থী হয়ে গিয়েছে। কেন? “খবরে তো বলছে, অষ্টমীতে নিম্নচাপের সম্ভাবনা আছে। তাই রিস্ক নিইনি। বেরিয়ে পড়েছি। কে জানে কী হবে? ঠাকুর দেখার লোকসান করে তো লাভ নেই।”

people queue up to see durga pratima
চতুর্থীর দিন সন্ধ্যায় ঠাকুর দেখার জন্য লাইন।

চতুর্থীর সন্ধেতে নাকতলা উদয়ন সংঘে ছিল যাকে বলে, জমকালো ভিড়। দুপুর দু’টোর পর থেকেই মানুষের জমায়েত এখানে শুরু হয়েছে। তুলনামূলক ভাবে সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার বা দেশপ্রিয় পার্কে সে অর্থে চাপ ছিল না। গুটিগুটি পায়ে হেঁটে লাইন দিয়ে ঠাকুর দেখার সৌভাগ্য হয়েছে এ সব জায়গায়। অষ্টমীর মতো শম্বুক গতিতে এগোনো লম্বা লাইন না থাকলেও প্রায় সব জায়গাতেই মেদহীন ছোটো ছোটো লাইন। অলিগলিতেও বাচ্চাদের হাত ধরে মা-বাবারা শুরু করে দিয়েছেন কাউন্টডাউন। ভাবটা এমন, পুজো আসবে নয়, পুজো এসে গিয়েছে।

রবিবার উইকলি অফ থাকা সত্ত্বেও পাড়ার চাউমিন-রোলের দোকানগুলোও বন্ধ করতে পারেননি কেউ। চতুর্থীর দিনেই মানুষের ঢল অনুমান করে হাতা-খুন্তি নিয়ে রেডি ছিলেন তাঁরা। তাঁদের ছ্যাঁকছাঁক শব্দ আর গন্ধ জানান দিচ্ছে পুজোর গন্ধ এসে গিয়েছে। ট্রেনে ভিড় ছিল দেখার মতো। সেটা সকাল থেকেই। প্ল্যাটফর্মে এসে ট্রেনের ভিড় দেখে অনেকেই চমকে গিয়েছেন। যে কোনো অফিসবারের মতোই মারাত্মক ভিড়। বরং মেট্রো ছিল অনেকটা হালকা। সেন্ট্রাল মেট্রো স্টেশনের কর্তব্যরত পুলিশ অফিসার এস কে ঘিসান জানালেন, “বাইরে যতটা ভিড়, সে তুলনায় মেট্রোতে ভিড় কম। তবে ডাউনের ট্রেনে ভিড়টা চোখে পড়েছে।”

অনেক মণ্ডপে দুর্গা অ্যান্ড কোংয়ের সব সদস্যর সাজ রেডি হয়নি। কোথাও মায়ের সাজগোজ এখনও পরানো হয়নি, তো কোথাও গণেশের অস্ত্র হাতে ওঠেনি। সো হোয়াট? পুজো শুরু হয়ে গিয়েছে। পারলে আরও আগে থেকে বেরোলে ভালো হত, যেন এমনটাই মনের ভাব মণ্ডপশিকারীদের। রাত বাড়ছে, থোড়াই কেয়ার! চলবে প্যান্ডেল হপিং। এই ভালো! শীত আসার আগে শীতের হালকা আমেজ যেমন ভালো, তেমনি ঠাসাঠাসি প্রাণান্তকর ভিড়ে গাদাগাদির আগে হাতে হাত রেখে ঘোরার হালকা ভিড় ভালো। চতুর্থীর রাত কলকাতাকে এমনই ভিড় উপহার দিল! হ্যাপি চতু্র্থী!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here