স্মিতা দাস

রঙ মেখে সং সেজে মানুষকে আনন্দ দেওয়ার কত চেষ্টাই করেছে তারা।  তবুও গ্রাসাচ্ছাদনের জোগাড়? ভাঁড়ে মা ভবানী। বর্তমান মানে ‘বিবর্তন’। বদলে গিয়েছে সবই। বিনোদনের নানান সরঞ্জামের ভিড়ে হারিয়ে গিয়েছে বহুরূপীরা। ধুলো পড়ছে রঙ করা মুখোশে। দেওয়ালে ঝোলানো, বা টিনের ট্রাঙ্কের ভেতরে পড়ে যুগের তলায় প্রায় চাপা পড়ছে কৃষ্ণ, শিব-দুর্গা, হনুমানের বেশভূষা। জীবিকা হারিয়ে এখন নতুনের পেছনে অপুট রোজগারের হাত বাড়াচ্ছে বীরভূমের সেই ‘বহুরূপী’ মানুষগুলো।

আসন্ন পুজোর আনন্দের মাঝে এই সব কথা কেমন যেন বেমানান। ঠিকই। তাই এদেরকেও যে আনন্দে রাখার দায়িত্ব গোটা সমাজের।

যাই হোক আসা যাক কালীঘাট ৬৬ পল্লির পুজোর মণ্ডপে। সেখানে এ বছর পালিত হচ্ছে ৬৭তম বর্ষ। এদের এ বারের থিম ‘বিবর্তন’।

কথা বললেন ক্লাবের সভাপতি রজত সেনগুপ্ত।

‘বিবর্তনে’ আছে বহুরূপীদের দুঃখের কথা। মানুষকে আনন্দ দেয়। কিন্তু তাদের ঘরে যে হাঁড়ি চড়ে না তার খবর কেউ রাখে না। তা ছাড়া এই জীবিকাটা এক প্রকার হারিয়ে যেতে বসেছে। এটাকে আবার তুলে আনতে হবে। সেই দায়িত্ব সকলের এই বার্তা দিতে যায় ৬৬ পল্লি। তা ছাড়া মুখ্যমন্ত্রী তো পশ্চিমবঙ্গের অনেক শিল্প, জীবিকা ইত্যাদিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তাই তাঁর কাছেও আবেদন জানাতে চাই এই শিল্পকে আবার উৎসাহিত করার জন্য। বিশ্বের দরবারে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য।

থিম দাঁড় করানো হবে বহুরূপীদের আসল মুখোশ দিয়ে। বীরভূমের বিশেষ শিল্পীদের দিয়েই সেগুলো তৈরি করানো হয়েছে। তা ছাড়াও থাকছে সেখানকার কাঠের শিল্প। চেষ্টা করা হচ্ছে তাদের দিয়ে লাইভ শো করানোর।

66pally last year pandal

প্রতি বছরই চমক থাকে ৬৬ পল্লির মণ্ডপে।এ বারের চমক লোকসংস্কৃতি। উপকরণে থাকবে প্লাই, বাঁশ, বাটাম, কাঠ, বীরভূমের আসল মুখোশ।

শিল্পী দু’ জন। সুমি মজুমদার আর শুভদীপ মজুমদার।

আবহসঙ্গীতের দায়িত্বে গৌতম ব্রহ্ম। আবহসঙ্গীত হিসেবে ব্যবহার করা হবে বহুরূপীদের ছড়া-কাটা গান। তা-ও খোদ বহুরূপীরই গলায়। বীরভূমের বিষয়পুর গ্রামের তারাসুন্দরীকে দিয়ে গান গাওয়ানো হয়েছে।

প্রতিমা কেমন হবে? রজতবাবু বলেন, মাতৃপ্রতিমা হবে ঘরের মেয়ের আদলে। সেখানে দেখা যাবে বাড়ির মেয়ে বাপের বাড়ি এসেছে তাঁর ছেলেমেয়েদের সঙ্গে নিয়ে। প্রতিমায় বেশ কিছু বিশেষত্ব থাকবে। সেটাই আরও একটা চমক। যেমন গণেশের পেটটা মোটা হলেও তার শুঁড়টা উধাও। আর নেই দেবীর দশ হাত। আছে মাত্র দু’টি। ঠিক সাধারণ মেয়েদের মতোই। তা ছাড়াও আরও অনেক কিছু। প্রতিমাশিল্পী অরুণ পাল।

রজত সেনগুপ্ত, সভাপতি

ক্লাবের এ বারের বাজেট ১৮ লক্ষ টাকা। গত বছরে ছিল ২৫ লক্ষ। রজতবাবু বলেন, জিএসটি-র জন্য এ বারের বাজারের হাল খুবই খারাপ।

গত বার কী ছিল?

বললেন, ‘পুরোনো কলকাতা’। থ্রি ডাইমেনসনে হাওড়া ব্রিজ, মনুমেন্ট, গঙ্গা, ভিক্টোরিয়া, হাইকোর্টের মতো কলকাতার অনেক কিছু দেখানো হয়েছিল গোটা মণ্ডপে। অর্থাৎ ২০০ বছরের কলকাতা। সে বারে শিল্পী ছিলেন পুর্ণেন্দু দে।

আরও পড়ুন : দেবদারু ফটকে অভয়মুদ্রার ভঙ্গিতে দেবীপরিবার 

আর স্মরণীয় বছর বলতে গেলে ২০০৪ সাল। সে বারই প্রথম থিম হল। থিম ছিল ‘ক্ষুধিত পাষাণ’, প্যারিসের কাজ করে পুরোনো বাড়ি তুলে ধরা হয়েছিল। মণ্ডপে বাইজির ওপর চাবুক মারার দৃশ্য, ভাঙা বাড়িতে পায়রা উড়ছে, ভাঙা জানলা এ সব দেখানো হয়েছিল। ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক, সব মিলিয়ে দারুণ ব্যাপার। আর ঠাকুর হয়েছিল ত্রিমুখী, শিব-বিষ্ণু-ব্রহ্মার গড়নে। কোষ্ঠীপাথরের রঙে ঠাকুর বানানো হয়েছিল।

এ বার উদ্বোধন হবে দ্বিতীয়ার দিন। উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী। বিসর্জনের শোভাযাত্রায় গত বছর ছিল এই ক্লাব। এ বারও থাকবে, জানালেন তিনি।

রাসবিহারী ক্রসিং বা কালীঘাট মেট্রোস্টেশনে নেমে পায়ে হেঁটে অল্প পথ। গলির ভেতরে মণ্ডপ।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here