papiya mitra
পাপিয়া মিত্র

শূন্যের ডান দিক বা বাঁ দিক নিয়ে যত কারিকুরি। আর সেই সব রকমারি বিষয় নিয়ে এগিয়ে চলেছে ‘বড়িশা সর্বজনীন দুর্গোৎসব’ কমিটি। দেখতে দেখতে এই পুজো ৬৮টি বছর কাটিয়ে ফেলল বেশ সদর্পেই। সাবেক সাজে এগিয়ে এসেছে এই দীর্ঘ পথ। এ বছর এক সংখ্যাতত্ত্ব ভাবনাকে সঙ্গী করে থিমভেলায় গা ভাসিয়েছে পুজো কমিটি। এই নিয়ে বছর তিনেক হল। গত বছরের থিম ছিল ‘আড়াইচালে কুপোকাত, পঞ্চতত্ত্বে কিস্তিমাৎ’।

‘শূন্যতে শুরু শূন্যতেই শেষ’ এই ভাবনা ও সৃজনে শিল্পী বন্দন রাহা এই পুজোমণ্ডপে রাখতে চাইছেন এক দিকে অসীমত্ব ও অপর দিকে অনন্ত ভগ্নাংশ। তাই শূন্য নিরপেক্ষ। এখানে শূন্য একটি শিশুর ভূমিকায়। একটি শিশু তো নিষ্পাপ। একটি প্রাণের স্পন্দন পাওয়ার জন্য যে জীবনচক্রের প্রয়োজন সেটিকে বোঝানোর জন্য একটি নাগরদোলা, সুড়ঙ্গ ও একটি জলাশয়কে রূপক হিসেবে তুলে ধরেছেন শিল্পী। এবং এই ভাবনার পরিণতি পায় একটি প্রাণে। এই পর্যন্ত ঠিকই আছে।

কিন্তু যে শিশু জন্ম নিল সে কোন আদর্শে দীক্ষিত হবে অথবা কাকেই বা অনুসরণ করে চলবে? এখানেই আসল খেলা। এই খেলায় সঙ্গী হিসেবে থাকছে আলো ও আবহসঙ্গীতের মায়াবী সৃষ্টিসুর। শিল্পীর ভাবনার আরও এক পর্যায় শুরু মূল মণ্ডপের দোরগোড়া থেকে। সৃষ্টি হয়েছে ব্রহ্মাণ্ডলোক, সেখানে দৃশ্যত মনীষীদের প্রতিকৃতি যাঁরা এই পৃথিবী্র জন্য কিছু করে গিয়েছেন। সম্পদের ভার নয়, আত্মার নিঃস্বার্থ দান কিছু করে দেখাও।

দীনেশ পোদ্দারের আলো আশা করি বন্দন রাহার ভাবনাকে দর্শনার্থীদের কাছে পৌঁছে দেবে সেই বার্তা। পরিপূরক হিসেবে থাকছে দেবজ্যোতি মিশ্রের আবহসঙ্গীত। সমগ্র মণ্ডপের সঙ্গে সাযুজ্য রেখে থাকছে পরিমল পালের প্রতিমা। তাই দেবীর হাতে কোনো অস্ত্র নেই।

গতবারের থিম

একটা সময় ছিল যখন এই বড়িশা অঞ্চলে দুর্গাপুজো বাড়ির পুজোতে আবদ্ধ ছিল। তাতে সাধারণ মানুষ যোগদান বা আনন্দ করতে পারতেন না। তাই এলাকায় একটি সর্বজনীন পুজোর প্রয়োজন হয়ে পড়ল। ১৯৪৯-এ সুরেন্দ্রনাথ রায়চৌধুরী, তুলসী রায়চৌধুরী, পার্বতীচরণ রায়চৌধুরী, অন্নদাচরণ মিত্র সহ এলাকার অনেকেই এই সর্বজনীন পুজো শুরু করেন। সেই পথ অনুসরণ করে চলেছে আজকের সদস্যরা, জানালেন পুজো কমিটির সদস্য সুমন চট্টোপাধ্যায়।

আরও পড়ুন : ‘পুতুলের স্বর্গ’ দেখতে চলুন দমদম নরসিংহ অ্যাভিনিউয়ের দুর্গোৎসবে 

বড়িশা সর্বজনীনের পুজোমণ্ডপ সখেরবাজারের পশ্চিমে, দ্বাদশ শিবমন্দিরের মাঠে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here