স্মিতা দাস

৭২তম বর্ষে  চক্রবেড়িয়া সর্বজনীন।

পুজোর সভাপতি এলাকার কাউন্সিলর অসীম কুমার বোস খবর অনলাইনকে বললেন, এই বছরে চক্রবেড়িয়া ফিরে যাচ্ছে বেশ কয়েক দশক আগে। যখন ফিটন গাড়ি চলত, বাবুদের বাড়িতে হাতপাখা, টানাপাখার হাওয়া চলত, গড়গড়ার ধোঁয়া উঠত, ঠিক সেই সময়টার ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

পুজোমণ্ডপ আর তার আশেপাশে বিচরণ করবে একটা নস্টালজিয়া। কেমন যেন আগের বাবুদের সেই যুগটা ফিরে আসবে দর্শকদের সামনে।

তাই থিমের নাম ‘বাবুয়ানি’।

তিনি বলেন, চিৎপুর আর চক্রবেড়িয়া হল সেই সময়ের বাবুদের পাড়া। তাই এ বারের শিল্পী অনির্বাণ যখন এই থিমটার কথা বললেন, তখনই এক কথায় সকলে হ্যাঁ করে দেন।

এখন তো আর খুঁজলেও সেই বাবুয়ানা ব্যাপারটা, বাবুদের ছড়ি ঘোরানো ব্যাপারটা পাওয়া যাবে না। তাই থিমের মাধ্যমে বাবুদের সেই নকশা-করা ছড়ি, ফিটন গাড়ি, গড়গড়া, পাম্পসু এমন নানান জিনিস ইন্সটলেশন করা হবে। দর্শকদের মনে হবে সেই যুগে বিচরণ করছেন। তবে প্রত্যেকটা জিনিসই আকারে বেশ কিছুটা বড়ো হবে। কিন্তু এক দম আসলের মতোই হবে।

মণ্ডপের ভেতরে থাকবে বিশাল ঝাড়, হাতপাখা, টানাপাখা, ঠাকুরদালান। সেই ঠাকুরদালানে থাকবে সাবেক একচালা প্রতিমা।

এই বছরের প্রতিমার দায়িত্বে আছেন শিল্পী অরুণ পাল।  আর থিমের আবহসংগীত করেছেন জয় সরকার।

পুজোর আগের আর একটা আকর্ষণীয় বিষয়, পাড়ার ছেলে হিসেবে সভাপতি অসীমবাবু নিজেই থিম ব্যানারের মডেল। বাবুর সাজে। পর পর আরও এমন টিজার ছড়িয়ে পড়বে শহরের বুক জুড়ে।

জানতে চেয়েছিলাম, প্রচুর দর্শকের ভিড় প্রতি বারই হয়। এই বারে ভিড় সামলাতে কোনো বিশেষ ব্যবস্থা করা হবে কিনা?

অসীমবাবু বলেন, মানুষকে আনন্দ দেওয়ার লক্ষ্যেই পুজো। তাই দড়ি ফেলে ভিড় আটকে মানুষকে বিরক্ত করার ভাবনা তাঁদের নেই। রাস্তাও বন্ধ করা হবে না। ভিড় সচল রাখা হবে। তবে ভিড় বাড়লে পুলিশ প্রশাসনের নির্দেশ মেনে যা করণীয় সবটাই করা হবে। তা ছাড়া এলাকার মানুষের জরুরিকালীন পরিস্থিতি সামাল দিতে একটা বিশেষ ব্যবস্থা অবশ্যই করা হবে। যাতে কোনো ভাবে দর্শক বা এলাকাবাসী কাউকেই সমস্যায় পড়তে না হয়।

তিনি বলেন, মণ্ডপের বাইরে ফিফাকেও তুলে ধরা হবে। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর অন্যতম স্বপ্ন ফিফা। অনুর্ধ্ব ১৭ ফুটবল সম্বন্ধে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে চক্রবেড়িয়াও এগিয়ে এসেছে।

আরও পড়ুন: সাবেক সাজে ঐতিহ্য ধরে রেখে শত বর্ষে রামঘাট সর্বজনীন দুর্গোৎসব 

অসীমবাবুই জানালেন, গত বছরে তাঁদের থিম ছিল ‘মঙ্গলদীপ’। প্রদীপ অত্যন্ত শুভ একটা জিনিস। তা শুভকাজে জ্বালানো হয়। তাই সেই শুভ’র ব্যবহারে অশুভকে দূর করার লক্ষ্যে এই থিমকে বেছে নেওয়া হয়েছিল। বার্তা ছিল সমাজের অশুভ শক্তি নিপাত যাক।

বিভিন্ন মাপের অসংখ্য প্রদীপ দিয়ে সাজানো হয়েছিল গোটা মণ্ডপ। ভাবনায় ছিলেন থিমশিল্পী তানিয়া। সে বারে প্রতিমা করেছিলেন কৃষ্ণনগরের শিল্পীরা।

উদ্বোধন কবে হবে? জানতে চাইলে তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন। তাই ওঁর সুবিধেমতোই দিন ঠিক হবে। তবে চক্রবেড়িয়া সর্বতোভাবে প্রস্তুত। অপেক্ষা করছে পুজো শুরুর।

যদুবাবু বাজারে নেমে কিছুটা হেঁটে চক্রবেড়িয়া সর্বজনীন। অথবা নেতাজি ভবন মেট্রো স্টেশনে নেমে হাঁটাপথে মণ্ডপ।  কিংবা পদ্মপুকুরে নেমে চক্রবেড়িয়া রোডের দিকে হাঁটলেই মণ্ডপ।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন