স্মিতা দাস

চালতাবাগান লোহাপট্টি দুর্গাপুজো কমিটির পা এ বার প্ল্যাটিনাম জুবিলিতে মানে ৭৫-এ। এই বছরের ট্যাগলাইন ‘চাই না বন্দী, চাই মুক্তি’, জানালেন কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট অশোক কুমার জয়সওয়াল।

এবারের প্রচার

তিনি বলেন, বন্দি জীবন খুবই কষ্টের। তাই তার থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্যই স্বাধীনতা চেয়েছিলাম। বহু কষ্টে সেই স্বাধীনতা লাভ। তা আমাদের দারুণ আনন্দ দিয়েছে। খুশি দিয়েছে। তেমনই বনের পশুপাখিও চায় মুক্ত বায়ু, আলো, খোলা নীল আকাশ, সবুজ পৃথিবীর স্পর্শ পেতে। সেটাই তাদের স্বাধীনতা। তাই তারাও বলে ওঠে, ‘দাও দাও ফিরিয়ে দাও সেই অরণ্য। খাঁচায় রেখ না বন্দি। মায়ের কোলে যেমন শিশুরা বড়ো হয় স্বাধীন ভাবে, তেমনই আমাদেরও মুক্ত আকাশের কোলে পাখনা মেলে স্বাধীন ভাবে বাঁচতে দাও’। এটাই এ বারের ভাবনা। এটাই বার্তা।

শান্তনু মাইতি

অশোকবাবু জানালেন, এ বছরের থিমশিল্পী শান্তনু মাইতি। প্রতিমায় বাদল চন্দ্র পাল। আবহসঙ্গীত করছেন মল্লার ঘোষ।

আরও পড়ুন : বড়িশা ইয়ুথ ক্লাবের এ বারের থিম ‘বিন্দু থেকে সিন্ধু’ 

থিম দাঁড় করানো হবে তারের সরু নেট দিয়ে কাঠামো তৈরি করে, তার ওপর ওয়ালপুট্টি দিয়ে প্রলেপ করে। তার ওপর থাকবে রকমারি রঙ। এই রঙ ব্যবহার করা হবে অরণ্য পশুপাখি ইত্যাদি ফুটিয়ে তুলতে। গোটা ব্যাপারটাতে একটা থ্রিডি গোছের অনুভূতি তৈরি হবে, বললেন শিল্পী শান্তনু মাইতি।

গতবারের থিম

কী ছিল গত বারের ভাবনা?

শান্তনুবাবু জানান, গত বছরেও তিনিই ছিলেন এই দায়িত্বে। কথায় আছে বিশ্বাসে মিলায় বস্তু তর্কে বহু দূর। সেই বিশ্বাস আর ভরসা থেকেই মানবসভ্যতার আদি লগ্ন থেকে বর্তমান যুগেও মানুষ শুভশক্তি হিসেবে বিভিন্ন দেবদেবীর আরাধনা করে আসছে। নানান উৎসবে পার্বণে নেই কোনো ক্লান্তি, নেই খামতি। আর এই সবের অঙ্গ হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে আসছে নানা রঙের সুতো, কাপড় ইত্যাদি। ভক্তরা অভুক্ত থেকে এই কাপড়, সুতোগুলো দেবত্ব বা শুভশক্তির প্রতীকরূপী কোনো প্রাচীন গাছে বেঁধে দেয়। সঙ্গে পশু, বা অন্য নানা জিনিসের বলির প্রথাও চলে আসছে। এই সবের পেছনে একটাই উদ্দেশ্য কাজ করে তা হল মনের ইচ্ছা পূরণ করার প্রবল বাসনা। আদি যুগ থেকেই তা চলে আসছে। আর গত বছরে এই সবের ওপর ভিত্তি করেই চালতাবাগানের থিম ছিল ‘ইচ্ছাপূরণ মন্দির’।

গতবারের থিম

আর এই গোটা থিমটা ছিল মণ্ডপ এবং ঠাকুরের প্রতিমাকে ছুঁয়েই। মণ্ডপ তৈরি হয়েছিল গোটাটাই কাঠের। খেজুর গাছ কেটে তার গুঁড়ি দিয়ে তৈরি হয় মণ্ডপ। তার ওপর খোদাই করা হয়েছিল নকশা। তার পর ছিল পিতলের পাতের নকশা। আর গোটা মণ্ডপ জুড়ে ছিল চণ্ডীমন্ত্র, দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী-সহ বিভিন্ন দেবীর ১০৮ নামও। প্রতিমার দায়িত্বে ছিলেন বাদল চন্দ্র পাল।

প্রচুর পুরস্কারে ভাণ্ডার ভরে যায় চালতাবাগানের। গত বছরেও বহু পুরস্কার পেয়েছিল।

এ বারের পুজোর উদ্বোধন হবে দ্বিতীয়ায়।

আমহার্স্ট স্ট্রিট ও বিবেকানন্দ রোডের ক্রসিং-এ নেমেই সামনে মণ্ডপ। বা মানিকতলা ক্রসিং-এ নেমে আমহার্স্ট স্ট্রিটের দিকে মিনিট খানেক হাঁটলেই মণ্ডপ।

 

 

 

 

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন