জীবনযুদ্ধে নানা বাধা, এ বারের থিমে ফুটিয়ে তুলবে দর্জিপাড়া সর্বজনীন

0
762
স্মিতা দাস

পুজোর হালহদিসের এই পর্বে রয়েছে ‘দর্জিপাড়া সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতি’-এর সঙ্গে আলাপচারিতা।

‘দর্জিপাড়া সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতি’-এর এ বার ছিয়াশিতম বর্ষ। এই বর্ষে কী থিম নিয়ে মণ্ডপসজ্জার পরিকল্পনা করছে ‘দর্জিপাড়া সর্বজনীন’-এর পুজো কমিটি? খবর অনলাইন প্রশ্ন করেছিল দর্জিপাড়ার জয়েন্ট সেক্রেটরি সৌম্য ব্যানার্জিকে।

‘জীবনদোলায় হারিয়ে যাওয়ায় মুক্তির পথ একটি জায়গায়’ — এই হল এ বছরের ট্যাগ লাইন।

সৌম্যবাবু বলেন, মণ্ডপসজ্জায় এই ভাবটাই ফুটিয়ে তোলা হবে। আসলে যেটা বোঝানো হবে তা হল জীবনে চলার পথে বহু ক্ষেত্রেই অনেক বাধা আসে। সেই বাধা কাটিয়ে এগিয়ে যেতে হয়। তার পরমুহূর্তে আবার বাধা আসে। এ ভাবে মানুষের জীবনযুদ্ধকে ফুটিয়ে তোলা হবে মণ্ডপসজ্জার মাধ্যমে। এই ভাবনার মধ্যে মধ্যে স্থান পাবে নারীভ্রূণ হত্যা, শিশুশ্রমিকদের জীবনসংগ্রামের মতো সমাজের আরও অনেক অন্ধকারময় দিক।

এ তো হল মণ্ডপসজ্জার থিমভাবনা। জানতে চেয়েছিলাম, প্রতিমা কেমন হবে? সাবেক, নাকি থিমের সঙ্গে তাল মিলিয়ে?

সৌম্যবাবু বলেন, ৮৫ বছর ধরে ঠাকুরের মূর্তি সাবেক ছিল। তবে তার পর থেকে কিছুটা থিম থাকছেই। এ বছরেও দেবীমূর্তি সাবেক হলেও তাতে থিমের ছোঁয়া থাকবে। ঠাকুরের সাজপোশাক, ব্যাকগ্রাউন্ড, সবই থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ভাবে গড়ে তোলা হবে।

কী কী জিনিস ব্যবহার করা হবে? এর উত্তরে তিনি বলেন, এখনই এই ব্যাপারে জানানো যাবে না। এই ব্যাপারে গোপনীয়তা বজায় রাখা হচ্ছে।

প্রতিমাশিল্পী কে? সৌম্যবাবু জানান, এ বছর থেকে পুরোপুরি ভাবে প্রফেশনাল শিল্পীকে দিয়ে মণ্ডপসজ্জা করা হচ্ছে। অজিত ভৌমিক আর নির্মল দত্ত হলেন এ বছরের থিমশিল্পী। এ বছরে প্রতিমা তৈরির দায়িত্বে রয়েছেন শিল্পী শ্রীনাথ ব্যানার্জি।

থিম ভাবনায় কারা, জানতে চাওয়া হলে সৌম্যবাবু বলেন, ভাবনা শিল্পীর নিজের।

বাজেটের ব্যাপারে তিনি বলেন আগের বছরের থেকে প্রায় ২০% বাড়ানো হচ্ছে এ বছরের বাজেট।

গত বছরে থিম কী ছিল? সৌম্যবাবু জানালেন, গত বছরের থিম ছিল ‘দৌড়’। বলেন, ছোটো থেকেই তো একটা প্রতিযোগিতার মধ্যে ঠেলে দেওয়া হয় শিশুদের। তা ছাড়া স্কুল লাইফ, কলেজ লাইফ, কাজের জগৎ-এর বাধা, প্রতিযোগিতার মধ্যেই থাকে দৌড়। সেই নানা ক্ষেত্রের দৌড়কে তুলে ধরা হয়েছিল। তাতে বেশ কিছু মোটিফ ব্যবহার করা হয়েছিল। প্রতিযোগিতায় বাধার ব্যাপারটা ফুটিয়ে তুলতে একটা নামী কোম্পানীর বিশেষ প্যাটার্নকে ব্যবহার করা হয়েছিল। থিম সংও ব্যবহার করা হয়েছিল।

সৌম্যবাবু আরও জানান, গতবারেও থিমের দায়িত্বে ছিলেন কমিটির সদস্যরা। আর প্রতিমাশিল্পী ছিলেন মোহনবাঁশি রুদ্রপাল। মণ্ডপসজ্জায় ব্যবহার করা হয়েছিল থার্মোকল, পিচবোর্ড, বাঁশ, কাঠ, কাপড় ইত্যাদি।

থিমপুজোয় কেন এলেন? সৌম্যবাবু বলেন, আশেপাশের সব ক’টা পুজোই সাবেক থেকে অনেক দিন হল থিমে এসেছে। আরও দর্শক টানতে, আর বিশেষ করে সাধক রামপ্রসাদের আশীর্বাদধন্য এই জায়গার পুজোটাকে আরও জনপ্রিয় করে তুলতে থিমে আসার চিন্তাভাবনা নেওয়া হয়েছিল।

পুরস্কার? সৌম্যবাবু বলেন, থিম পুজোর মাঠে অল্পদিন নামলেও গত দু’ বছরে বেশ কিছু পুরস্কার পেয়েছে দর্জিপাড়া।

‘দর্জিপাড়া সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতি’-এর খুঁটিপুজো হবে জুলাই-এর ৩০ তারিখে। থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুদের রক্ত-সংকট দূর করার লক্ষ্যে ওই দিন রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। প্রতি বছরই তাই হয়। এঁদের বিশেষত্ব হল রক্তদানের পরে আলাদা কোনো উপহার নয়, দেওয়া হয় একটা করে গাছের চারা। ‘জীবনের বদলে জীবন দান’ — এই ভাবনা থেকে।

সৌম্যবাবু জানান, তাঁদের সারা বছরের লক্ষ্য থাকে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুদের নানা ভাবে সাহায্য করা।

‘দর্জিপাড়া সর্বজনীন দুর্গোৎসব সমিতি’-র পুজোমণ্ডপটি হল হাতিবাগান থেকে কলেজ স্ট্রিটের দিকে যেতে রূপবাণী বাসস্টপে নেমে, ডান দিকে লক্ষ্মীনারায়ণ চপের দোকানের গায়ে গলির ভেতরে। ব্ল্যাকস্কোয়ার পার্কের মাঠে পুজো।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here