নেতাজির স্মৃতি বুকে নিয়ে কুমোরটুলি সর্বজনীন ৮৬ বছরে

0
603
স্মিতা দাস

নেতাজির স্মৃতি বুকে নিয়ে আজও পুজো হচ্ছে। মর্ডান আর্টের উদ্ভব সেই সময় থেকেই। বিখ্যাত ভাস্কর জি পালের হাত ধরেই। পুজোকে ঘিরে এমন অনেক গল্প করলেন কুমোরটুলি সর্বজনীনের  কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য বাচ্চু ভট্টাচার্য। বাচ্চুবাবু প্রাক্তন কার্যনির্বাহী সভাপতি।

ঐতিহাসিক এই পুজোর এ বছরের থিম কী?

খবরঅনলাইনকে তিনি বলেন, অন্তত পক্ষে নতুন মাস পড়া অবধি অপেক্ষা করতে হবে। তার পর বলা হবে পুজোর থিম, ট্যাগ লাইন ইত্যাদির ব্যাপারে। তবে শিল্পের পীঠস্থান কুমোরটুলি। তাই আবার নতুন কিছু নিয়েই আসবে মণ্ডপ।

তবে থিমের একটা আভাস দিয়েছেন তিনি। জানিয়েছেন, এই বছরের থিম গড়ে উঠবে কুমোরটুলিরই নানা বিষয়কে ভিত্তি করে। এখানকার কাজ আর জীবনযাত্রা নিয়েই এ বারের থিম ভাবা হয়েছে। থিমশিল্পী ও প্রতিমাশিল্পী পরিমল পাল। কুমোরটুলি প্রতি বার নতুন শিল্পীর জন্ম দেয়। এ বারেও তার অন্যথা হবে না। পরিমল পালও নতুন শিল্পী।

কুমোরটুলির এ বারের বাজেট ৩০ লক্ষ টাকা।

৮৬ বছরের ইতিহাসের স্মরণীয় ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল বাচ্চুবাবুকে। তিনি গড়গড়িয়ে অনেক কিছু বলেন। বলেন, ১৩৩৯ সালে নেতাজি পুজোর প্রেসিডেন্ট ছিলেন। সে বছর তাঁর সঙ্গে রেষারেষি করে স্যার হরিশঙ্কর পাল পাশেই একটা পুজো করেছিলেন। কিন্তু নেতাজির পুজোটাই হিট হয়েছিল। দুর্ভাগ্যবশত পঞ্চমীতে নেতাজির ঠাকুর পুড়ে যায়। তখন রাতারাতি ঠাকুর তৈরি করে দেন ভাস্কর জি পাল। তখন ঠাকুর হত এক চালার। কিন্তু তিনি এক রাতের মধ্যে এক চালার ঠাকুর সম্পূর্ণ করতে পারবেন কি না এই ভেবে আলাদা আলাদা ভাবেই ঠাকুর তৈরি করে দিয়েছিলেন। পরের দিন সবাই দেখে প্রশ্ন করতে তিনি বলেছিলেন, এটা মর্ডান আর্ট। সেটাই সে বছরের থিম ছিল। পাহাড়ের ওপর পর পর ঠাকুর দাঁড়িয়ে আছে, আলাদা আলাদা ভাবে। তখন থেকেই এক চালার বদলে আলাদা আলাদা ভাবে মূর্তি তৈরি শুরু হয়। আর সেটাই ইতিহাস।

তার পর বাচ্চুবাবু গত বছরের থিমের প্রসঙ্গ তোলেন। মণ্ডপটা হয়েছিল সার্কাসের তাঁবু। থিমের বিষয়বস্তু ছিল ‘জীবনটা একটা সার্কাস। কাল খেল মে হাম হো না হো গরদিশ মে সিতারে রহেঙ্গে সদা’। তেমনই দেবী দুর্গাও সার্কাসের একটা অঙ্গ। পৃথিবীর সঙ্গে প্রতিনিয়ত ভারসাম্য রেখে চলেছেন তিনি। রিঙের খেলায় অসুর তাঁকে ধরে আছে – এটাই ভাবনা ছিল। সার্কাসের বিভিন্ন জিনিস ব্যবহার করা হয়েছিল। বাজেট ছিল ২২ লক্ষ টাকা। পুরস্কার পেয়েছিল  ১৪টা মতো।

বাচ্চুবাবু জানান, মণ্ডপ উদ্বোধন হবে সম্ভবত চতুর্থীতে।

খুঁটিপুজো হয়েছে ৯ জুলাই। এ দিনই রক্তদান আর স্বাস্থ্যপরীক্ষা শিবিরের আয়োজন করা হয়।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here