স্মিতা দাস

দেখতে যেতেই হবে না হলে বাড়ির পাশে পুরুলিয়া যে মিস করতে হবে।

হ্যাঁ, কলকাতা শহরতলিতে পুরুলিয়ার এক টুকরো গ্রাম তুলে আনছে সোনারপুর রিক্রিয়েশন ক্লাব। এই ক্লাবের পুজোর নাম পাওয়ার হাউস সর্বজনীন দুর্গোৎসব।

পুজোর ট্যাগ লাইন – “ছৌয়ের তালে গানের সুরে / মা আসছেন সোনারপুরে”।

পুজো কমিটির কোষাধ্যক্ষ অমিতাভ ভট্টাচার্য জানালেন, পুজোর বয়স মাত্র ১৮ বছর। তার মধ্যে ৭ বছর ধরে থিম হচ্ছে। এ বারের থিম এক টুকরো পুরুলিয়া। সঙ্গে ছৌয়ের প্রদর্শন। এ বারের থিমের দায়িত্বে আছেন শিল্পী পার্থ ঘোষ আর সিদ্ধার্থ ঘোষ।

কথা হল পার্থবাবুর সঙ্গে। থিম সম্পর্কে সবিস্তার জানতে চাইলাম তাঁর কাছে। পার্থবাবু বলেন, গোটা মণ্ডপ হবে এই বিষয়কেন্দ্রিক। আর গোটাটা দাঁড় করানোর জন্য সর্বতো ভাবে সাহায্য করছে খোদ পশ্চিমবঙ্গ সরকার। থিমের মূল বিষয়ই হল ‘ছৌ’। তাই পুজোর সাত দিনই দু’ বেলা মণ্ডপে ছৌ নৃত্যশিল্পীরা ছৌ নাচ প্রদর্শন করবেন।

তিনি বলেন, প্রতি বারই এই ক্লাবে একটা লাইভ শোয়ের ব্যবস্থা থাকে। সেই দিক থেকে চিন্তা করে রাজ্যের বাইরে না তাকিয়ে নিজের রাজ্যের একটা বিশেষ শিল্প-সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে চেয়েছেন তাঁরা। থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মণ্ডপও তেমন ভাবেই গড়ে তোলা হবে, যার পরতে পরতে থাকবে পুরুলিয়ার একটা ছোট্টো গ্রামের প্রতিচ্ছবি।

ঠাকুর কেমন হবে? পার্থবাবু বলেন, ছৌ তো হয় পুরাণের কাহিনি-নির্ভর। তার মধ্যে একটা বিষয় হল দুর্গার মহিষাসুর বধ। তাই থিমের সঙ্গে বিষয় তো এক্কেবারে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে। সেই জন্য প্রতিমা হবে একদম ছৌয়ের সাজে, একই চেহারার। প্রতিমার সাজপোশাক হবে ছৌয়ের পোশাকের মতোই। থাকবে ছৌয়ের বিশেষ ধরনের মুকুটও।

এ বছরের প্রতিমা শিল্পী স্বপন পাল।

গত বছরের থিম কী ছিল, জানতে চেয়েছিলাম অমিতাভবাবুর কাছে। তিনি বলেন, গত বছরের থিম ছিল ‘হাজার হাতের হাতছানি’। থিমশিল্পী ছিলেন মিয়াজ। আর প্রতিমাশিল্পী ছিলেন স্বপন পাল।

অমিতাভবাবু বলেন, বিষয়টাতে বোঝানো হয়েছিল শৃঙ্খলাবদ্ধ নারীদের। সামাজিক ও পাশাপাশি নানান শিকলে আটকে থাকেন নারীরা। কিন্তু আর নয়। তাঁরা শিকল ছিঁড়ে বেরিয়ে আসতে চাইছেন। এটাই তুলে ধরা হয়েছিল থিমে।

সে বার অবশ্য কোনো লাইভ পারফরম্যান্স ছিল না। তবে বাকি সব বারই লাইভ থাকে। তিনি বলেন, যেমন তার আগের বার সাঁওতাল পরগণার চেহারা তুলে ধরা হয়েছিল। ছিল সাঁওতালি নৃত্যের প্রদর্শন। তার আগে ২০১৫ সালে থিমে ছিল রাজস্থান। বিকানেরের বিশেষ ধরনের রাজস্থানি ঘাঘরা, চুড়ি, কুন্দনের সাজে সাজানো হয়েছিল দেবীকে। এমনকি সেখানকার বিশেষ ধরনের সাদা চুড়ি, সেটাও পোরানো হয়েছিল প্রতিমাকে। পরিবেশটা তৈরি করা হয়েছিল রাজস্থানের কোনো একটা গ্রামের মতোই। ছিল লাইভ রাজস্থানী নাচ। প্রতি দিন। তার আগের বার গোটা ভারতের সব ক’টা শাস্ত্রীয় নৃত্যকে থিমে ধরা হয়েছিল। লাইভ শো করা হয়েছিল সব ক’টা শাস্ত্রীয় নৃত্যের। আর প্রতিমার সাজ ছিল ওই সব নাচের পোশাকে।

অমিতাভবাবু জানালেন, মাত্র ক’ বছরেই বহু পুরস্কার পেয়েছে এই কমিটি।

মণ্ডপ উদ্বোধন হবে ২৪ সেপ্টেম্বর আর দেবীর নিরঞ্জন ২ অক্টোবর।

কামালগাজি যাওয়ার পথে পাওয়ার হাউস বাসস্টপে নেমে সামনেই মণ্ডপ। নিকটবর্তী মেট্রো স্টেশন কবি নজরুল। সেখান থেকে সোনারপুরগামী অটোয় উঠে পাওয়ার হাউসে নামতে হবে। রিক্রিয়েশন ক্লাবের এই পুজো পাওয়ার হাউস সর্বজনীন নামে বিখ্যাত।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here