পাপিয়া মিত্র

অস্থিরতা আজ আকাশে-বাতাসে। শহরের বুকে কোমল ঘাসের ওপর ঝরে পড়া শিউলি শেষ কে কবে দেখেছিলেন মনে করা খুব কঠিন ব্যাপার। সেই রকমই আরও এক কঠিন সমস্যা মনের ঠিক ঠিকানা। কারণ মনের আশেপাশে ছড়িয়ে থাকা বেড়াজাল থেকে প্রতিনিয়ত উঁকি মারে ‘মানবিকতা’ শব্দটি। আর এই মানবিক হয়ে ওঠার যে শৃঙ্খলতা তা আজকের আকাশে হারিয়ে যাওয়া পেটকাটি-চাঁদিয়াল-মোমবাতি বগ্‌গার মতো। কখনও আসে, কখনও ভাসে, আবার কখনও বা উড়ে যায়। মানুষকে ভাবতে হবে। আজ মানুষ বড় একা, মানুষ বড় কাঁদছে। একা মানুষ নিয়ে সমাজ নয়, তাই সমাজের একক মানবমন মিলে সমাজবন্ধুর সৃষ্টি। আমাদের ঘরের মেয়ে উমা-দুর্গা-পার্বতী-হৈমরা আজ ভাল নেই। তাই দরকার এক মানবিক সমাজ।

বড়িশা ইয়ুথ ক্লাবের ৩৯ বছরের পুজোয় তোড়জোড় চলেছে। এ বারের থিম ‘বিন্দু থেকে সিন্ধু’ যেমন একটি শব্দ নয়, একটি শব্দবন্ধ যা এক তলহীন বিস্তৃত জলরাশি। সেই জলের বিন্দু দিয়ে মণ্ডপ উপস্থাপনা শিল্পীর বড় কৃতিত্ব। বাকিটা দেখার অপেক্ষায়। মানবমন একত্রিত হয়ে চারপাশের আসুরিক শক্তিকে দমন করে এক শৃঙ্খলিত সমাজ বর্তমান প্রজন্মকে উপহার দিক এই কামনা।

গত বছরের পুজোর থিম ছিল ‘খেলনাগাড়ি, আজ আড়ি কাল ভাব’। শৈশবের হারিয়ে যাওয়া মাটি, কাঠ, কাঠি, গাছের পাতা দিয়ে তৈরি নানা খেলনা মনে করিয়ে দিয়েছিল ফেলে আসা দিনগুলিকে। দু’বছরের থিম পরিকল্পনায় শিল্পী সুজিত দাস। শীলপাড়া থেকে সোজা পশ্চিমে বড়িশা ইউথ ক্লাব আপনাদের অপেক্ষায়।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন