baeisha club pujamandap
papiya mitra
পাপিয়া মিত্র

মানুষ ছুটে চলেছে লক্ষ্যভেদের দিকে, পুরাণ থেকে আজও। কেউ পেরেছেন খুব অল্প সময়ের মধ্যে, কারওর বা নানা প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে স্থির-সিদ্ধান্তে পৌঁছোতে বেশ খানিক সময় কেটে গিয়েছে। হতাশা নয়, চেষ্টা রাখতে হবে, এগিয়ে যেতে উদ্যমী হতে হবে। ভাগ্য তো সঙ্গে আছে কিন্তু দুলছে। তাকে ভেদ করতে শলাটিকে ঠিক জায়গায় পৌঁছে দিতে হবে। আর এর জন্য প্রয়োজন সময়ের। সুতরাং সময়ের কাজ সময়ে করে গেলে, সাফল্য আসবেই।

decoration at barisha club pujamandap
বড়িশা ক্লাবের মণ্ডপ।

ঠিক এমনই একটি ভাবনাকে রূপায়ণ করেছেন সৃজনশিল্পী গৌরাঙ্গ কুইল্যা। বিস্তৃত ভাবনার সরলীকরণে শিল্পী জানালেন মানবজীবনে শুভ শব্দ বুদ্ধি-জ্ঞান-ভালোবাসা-পুণ্য-সফলতা ইত্যাদির পাশাপাশি লোভ-লালসা-পাপ-হিংসার মতো অশুভ শব্দ আমাদের চলার পথের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।

সেগুলি কেমন এবং তার রূপক হিসেবে কী কী ব্যবহার করা যায়, সেগুলিকে বাস্তবায়িত করার জন্য এ বছর পুজোয় বড়িশা ক্লাব সেজে উঠেছে ‘লক্ষ্যভেদ’ পরিকল্পনায়। মণ্ডপে দৃশ্যত হাত-তালা-চাবি ও শিকল। কীসের ইঙ্গিত? মণ্ডপের বাইরে শস্যখেত, পাখি আর কাকতাড়ুয়া।

ছোট্টোপাখি শস্যখেতে গিয়ে বাধা পাচ্ছে কাকতাড়ুয়ার কাছ থেকে। আবার মানুষ তার সাফল্যে পৌঁছোতে গিয়ে ধাক্কা খাচ্ছে ‘তালা’ নামক এক কঠিন প্রতিবন্ধকতায়। শুধু তা-ই নয়, মানুষের ছোট্টো ছোট্টপো ইচ্ছেগুলো বাঁধা পড়ে যাচ্ছে শিকলে। প্রতিবন্ধক তালায় সূচক চাবি দিয়ে খুললে তবেই সাফল্য সিঁড়ি বেয়ে উঠবে। কিন্তু সিঁড়ি দিয়ে উঠতে গেলে সেখানে আছে অসংখ্য শিকল ও মানুষের হাত।

শিকল খুলে সবাই সাফল্যের চূড়ায় উঠতে চাইছে, যেখানে আছে একটি ঘড়ি। অর্থাৎ সব শেষে অপেক্ষা সময়ের। ঠিক সময় না এলে কেউ পৌঁছোতে পারবে না সিঁড়ির শেষ ধাপে। এখানেই প্রতিবন্ধকতাকে শুভ শব্দের চাবি দিয়ে খুলতে হবে। সব প্রাপ্তির পরে শান্তির আবাহন, তিনি দেবীদুর্গা।

gauranga kuila
গৌরাঙ্গ কুইল্যা।

আবহ জয় সরকার, মণ্ডপের সমন্বয়ে প্রতিমা গড়েছেন শিল্পী গৌরাঙ্গ কুইল্যা। গত বছরের থিম ‘আলোর সন্ধানে’।

এই ভাবনার সঙ্গে নিজেকে মিলিয়ে নিতে আপনাকে আসতে হবে বড়িশা ক্লাব মণ্ডপে। প্রতি বছর নতুন নতুন পরিকল্পনা নিয়ে পুজোর মাঠে নামে ক্লাব। এ বারও নতুন কী দেখাচ্ছে তাঁরই অপেক্ষা।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here