bombay durgabari
মুম্বইয়ের দুর্গাবাড়ির পুজো। ছবি: দেবায়ণ রক্ষিত

মুম্বই: বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদের পর এ বার পালা মুম্বইয়ের। যেখানেই বাঙালি, সেখানেই দুর্গাপুজো। তবে এই শহরের দুর্গাপুজোর ইতিহাস বেশ প্রাচীন। স্বাধীনতার বছর কুড়ি আগে থেকেই এখানে দুর্গাপুজো শুরু করেন বাঙালিরা।

শহরে অসংখ্য দুর্গাপুজো হয়, তার মধ্যে বাছাই করা এক ডজন দেওয়া হল আপনাদের জন্য।

১) বোম্বে দুর্গাবাড়ি সমিতি

স্থান – গোয়ালিয়া ট্যাঙ্ক

মুম্বইয়ের সব থেকে প্রাচীন এই দুর্গাপুজোটি এ বার ৮৮তম বর্ষে পদার্পণ করল। পরিবেশরক্ষার বার্তা দিয়ে এ বার পরিবেশবান্ধব প্রতিমা গড়া হয়েছে এখানে। বাংলার কোনো এক রাজপ্রাসাদের আদলে এখানকার প্যান্ডেলের রূপ দেওয়া হয়েছে। দুঃস্থদের সাহায্য করা এখানকার মূল মন্ত্র। সেই জন্য বাংলার অজ গাঁ থেকে কারিগরদের আনিয়ে এখানে কাজ করানো হয়। পুজোর কয়েকটা দিন দরিদ্রনারায়ণ সেবা করেন পুজোর উদ্যোক্তারা।

২) বেঙ্গল ক্লাব দুর্গাপুজো

স্থান – শিবাজি পার্ক

শহরের অন্যতম প্রাচীন এই পুজো এ বার ৮২ বছরে পড়ল। এই পুজোর বিশেষ আকর্ষণ পশ্চিমবঙ্গের খাবার, হস্তশিল্প এবং প্রসাধনী জিনিস নিয়ে মেলা। প্রায় ৪০টি স্টল বসে এই মেলায়। লাউড স্পিকারের ব্যবহার করেন না পুজোর উদ্যোক্তারা। বিনোদনমূলক কোনো অনুষ্ঠান নয়, বরং প্রতি সন্ধ্যায় ঢাকের তালে ধুনুচি নাচের ছন্দে দুলে ওঠেন এখানকার মানুষজন।

৩) নর্থ বোম্বে সর্বজনীন দুর্গাপুজো

স্থান – টিউলিপ স্টার জুহু

মুম্বইয়ের মুখার্জি পরিবারের পুজো এ বার ৭০তম বছরে পদার্পণ করল। রানি-কাজলের পুজো হিসেবে এই পুজোর পরিচিতি। শহরের উচ্চতম দুর্গাপ্রতিমা। বাংলার প্রাচীন মন্দিরের রূপ পেয়েছে এখানকার মণ্ডপ।

৪) সংস্কৃতি ট্রাস্ট দুর্গাপুজো

স্থান – বোরিভালি (পূর্ব)

৬৫ বছরে পা রাখল এই পুজো। এখানকার বিশেষত্বও পরিবেশবান্ধব প্রতিমা। কাপড় এবং থার্মোকল দিয়ে এখানকার প্যান্ডেল তৈরি করা হয়েছে। এই পুজোর বিশেষ আকর্ষণ ছোটোছোটো ছেলেমেয়ের জন্য বসে আঁকো প্রতিযোগিতা, অনুচ্ছেদ লেখার প্রতিযোগিতার আয়োজন করা।

৫) চেম্বুর সর্বজনীন দুর্গাপুজো

স্থান- চেম্বুর (পূর্ব)

১৯৫৪ সালে এই পুজো শুরু হয়েছিল। উদ্যোক্তারাদের হিসেব অনুযায়ী প্রায় দেড় লক্ষ মানুষের সমাগম হয় এই পুজোয়। পাঁচ দিন ধরেই নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হয়।

north bombay sarbojonin

৬) কল্লোল সর্বজনীন দুর্গোৎসব

স্থান – গোরেগাঁও (পশ্চিম)

গোরেগাঁওয়ের কালীমন্দিরে ৫৩ বছর ধরে এই পুজোর আয়োজন করা হচ্ছে। বিধুভূষণ সাহার নেতৃত্বে বাংলার বাঁশশিল্পকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এই প্যান্ডেলে।

৭) নতুনপল্লী সর্বজনীন দুর্গোৎসব

স্থান- বান্দ্রা (পশ্চিম)

এই পুজোর বয়স ৪৫ বছর। এই পুজোর বিশেষ আকর্ষণ বিসর্জনযাত্রা। বান্দ্রা গার্ডেন থেকে জুহু বিচ পর্যন্ত এই ছ’কিমি রাস্তা পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা মানুষদের দখলে চলে যায়। গান-বাজনা-নাচ করতে করতে ভাসান যাত্রায় পা মেলান সকলে।

৮) লোখান্ডওয়ালা দুর্গাপুজো

স্থান – লোখান্ডওয়ালা

গায়ক অভিজিতের পুজো হিসেবে খ্যাত এই দুর্গাপুজো এ বার ২২ বছরে পড়ল। বিনোদনের নানান ব্যবস্থা থাকছে এই পুজোয়।

৯) নবজীবন সংঘ দুর্গোৎসব

স্থান-মুলুন্দ

এই পুজো এ বার ৬ বছরে পদার্পণ করল। সপ্তমী, অষ্টমী এবং নবমীতে রক্তদান শিবির এবং স্বাস্থ্যপরীক্ষা শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে।

১০) স্পন্দন পোওয়াই দুর্গোৎসব

স্থান- পোওয়াই

এই পুজোর বয়স পাঁচ। প্রত্যেক বারই সামাজিক কোনো বার্তা দেয় এই পুজোর থিম। এ বার থিম অনাথ আশ্রম।

১১) মৈত্রী কালচারাল এ্যাসোসিয়েশন

স্থান- মালাড (পশ্চিম)

এ বার চতুর্থ বর্ষে পদার্পণ করল এই পুজো। এই পুজোয় যা আয় হবে তা বন্যাত্রাণে কাজে লাগাবেন উদ্যোক্তারা।

১২) রামকৃষ্ণ মিশন দুর্গাপুজো

স্থান- খার (পশ্চিম)

বাকি রামকৃষ্ণ মিশনের মতোই এখানেও পুজোর মূল আকর্ষণ মহাষ্টমীর কুমারীপুজো।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন