কলকাতা:ফুটবল এবং শারদোৎসব, দুই-ই বাঙালির বড়ো আপনার জিনিস। বছরের একটা বড়ো অংশ জুড়েই এই দুটি নিয়েই মেতে থাকতে পছন্দ করেন বাঙালি সমাজের অধিকাংশ মানুষ। দুর্গাপুজোর থিম ফুটবল, এটা নতুন কিছু নয়। কিন্তু এ বার সত্যিই এক চমকপ্রদ ঘটনা ঘটাতে চলেছেন বেলঘরিয়ার ‘সেবা ও মৈত্রী সংসদ’। পুজোর থিমে বাংলার দুই চির প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গলকে এক সূত্রে বাঁধেতে চলেছেন তাঁরা।

বিষয়টি সাম্প্রতিক ও চলমান। আইএসএল ও আই লিগ নিয়ে ভারতীয় ফুটবলে যে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে, তাতে চিন্তিত বাংলার ফুটবলপ্রেমীরা। যদিও সরকারি ভাবে জানানো হয়েছে, এ বার আই লিগ ও আইএসএল পাশাপাশি চলবে। কলকাতার দুই প্রধান খেলবে আই লিগ। এএফসি থেকে এ-ও বলে দেওয়া হয়েছে, এমনটা এ বছরই শেষ। পরের বার থেকে দেশে একটাই লিগ হবে। সেই রোডম্যাপ তৈরি হয়ে যাবে ভারতে অনূর্ধ্ব ১৭ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরই।

কিন্তু তাতে ভরসা পাচ্ছেন না, মোহন-ইস্টের সমর্থকরা। তাঁদের আশঙ্কা বৃহৎ পুঁজির আগ্রাসনে ধীরে ধীরে শেষ করে দেওয়া হবে বাংলার দুই শতাব্দী প্রাচীন ক্লাবকে। গুরুত্বহীন করে দেওয়া হবে তাঁদের। আইএসএল-এর পরিচালন সংস্থার মালিক আইএমজিআর, ফেডারেশনের ওপর প্রভাব খাটিয়ে তাঁদের গোপন উদ্দেশ্য সাধন করবে। কারণ তাঁরাই এআইএফএফ-এর মার্কেটিং পার্টনার। এই অবস্থায় বাংলার ফুটবলকে বাঁচাতে অভূতপূর্ব ভাবে জোট বেঁধেছেন দুই ক্লাবের সমর্থকরা। ইতিমধ্যে কলকাতায় মিছিলও করেছেন তাঁরা। ৮ জুলাই মহামিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার থেকে রানি রাসমণি রোড পর্যন্ত।

এই উদ্যোগকে দেখেই পুজোর এমন থিম বাছতে উৎসাহী হয়েছেন বেলঘরিয়া স্টেশন রোড থেকে ৫ মিনিট দূরের ‘সেবা ও মৈত্রী সংসদ’-এর কর্মকর্তারা। ফুটবল পাগল উদ্যোক্তারা শারদোৎসবের আবহে মিলিয়ে দিতে চাইছেন মোহন-ইস্টকে।

দাবি একটাই, ‘এক দেশ এক লিগ/সাথে থাক মোহন-ইস্ট’।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here